২০১৪ সালে ওয়ানডে অভিষেক হয় তাইজুল ইসলামের। মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। প্রথম ম্যাচে সাফল্য পাওয়া তাইজুল তবু এই ফরম্যাটে থিতু হতে পারেননি। মূলত সাকিব আল হাসান না থাকায় তাইজুলকে টেস্ট সিরিজের পর রেখে দেওয়া হয়েছিল। ২৭ মাস পর শনিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন করলেন তিনি। নেমেই ম্যাচটি রঙিন করে রাখলেন বাঁহাতি স্পিনার।
৮ বছরের লম্বা ক্যারিয়ারের মাত্র ১০ ওয়ানডে খেলেছেন তাইজুল। আগের ৯ ম্যাচে হ্যাটট্রিকসহ তার শিকার ছিল ১২ উইকেট। শনিবার নিজের দশম ম্যাচ খেলতে নেমে তাইজুল শিকার করলেন ৫ উইকেট। এই বাঁহাতি স্পিনারের ঘূর্ণিতে কুপোকাত হয় ক্যারিবীয় ব্যাটাররা। তৃতীয় ম্যাচেও সুবিধা করতে পারেননি তারা। তাইজুলের ঘূর্ণি-জাদুর পর নাসুম-মিরাজদের স্পিনে স্বাগতিকদের ইনিংস থামে ১৭৮ রানে।
গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমেই তাইজুলের ঘূর্ণির সামনে পড়ে স্বাগতিকরা। ২৭ মাস পর ফেরা তাইজুল প্রথম বলেই তুলে নেন ব্রেন্ডন কিংয়ের উইকেট। তাইজুলের ফ্লাইট ডেইভারি টার্ন করে স্টাম্পে আঘাত হানে। কিং ডিফেন্ড করতে চেয়েও পারেননি, বল টার্ন করায় বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে (৮)। এরপর একে একে শাই হোপ, রোভম্যান পাওয়েল, কিমো পল ও নিকোলাস পুরানকে ফিরিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথম ‘ফাইফার’ তুলে নেন এই বাঁহাতি।
কিংয়ের পর তাইজুলের শিকার হোপ (২)। পঞ্চম ওভারের পঞ্চম বলে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন ক্যারিবীয় এই ব্যাটার। তাইজুলের স্লোয়ার ডেলিভারি কাভারে খেলতে গিয়ে পরাস্ত হন। উইকেটকিপার সোহান দারুণ ক্ষিপ্রতায় স্টাম্পিং করতেই সাজঘরে ফেরেন হোপ। তাইজুলের তৃতীয় শিকার পাওয়েল। উইকেট থেকে খেলতে গিয়ে ক্লিন বোল্ড হন এই ব্যাটার (১৮)।
তাইজুলের চতুর্থ শিকার কিমো পল (৬)। শাই হোপের মতো সোহানের স্টাম্পিংয়ের শিকার হন তিনি। কিছুক্ষণ পরই পুরানকে তুলে নিয়ে প্রথমবারের মতো ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখান তাইজুল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের সর্বোচ্চ রান করা পুরানকে (৭৩) বোল্ড করেন তাইজুল। আর তাতেই আগের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংকে (১১ রানে ৪ উইকেট) ছাড়িয়ে যান বাঁহাতি এই স্পিনার। ১০ ওভার বোলিং করে দুই মেডেনসহ মাত্র ২৮ রানে তার শিকার ৫ উইকেট।









