টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিজেদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের পরেও হোয়াইটওয়াশ এড়াতে পারলো না আয়ারল্যান্ড। বরং তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতেও কর্তৃত্ব করলো নিউজিল্যান্ড। আইরিশরা ৬ উইকেটে ১৭৪ রান করার পর কিউইরা ৬ বল হাতে রেখে তাদের হারিয়েছে ৬ উইকেটের ব্যবধানে।
টস জেতার পর শুরুতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছেন ওপেনার পল স্টার্লিং। ২৯ বলে ৩টি চার ও ২ ছক্কায় ৪০ রান করেছেন। লরকান টাকার ১৯ বলে ২৮ ও হ্যারি টেক্টর ২০ বলে ২৩ রানের উল্লেখযোগ্য ইনিংস খেলেছেন। তবে আইরিশদের বড় সংগ্রহটা গড়ে দিয়েছে মূলত লোয়ার অর্ডার। কার্টিস ক্যাম্ফার ও মার্ক অ্যাডেয়ারের ক্যামিও ইনিংসে ৬ উইকেটে ১৭৪ রান পায় স্বাগতিক দল। অ্যাডেয়ার ১৫ বলে ২টি চার ও ৪ ছক্কায় ৩৭ রান করেছেন। ৮ বলে ২টি চার ও ১ ছক্কায় ১৯ রান করেন ক্যাম্ফার।
কিউইদের হয়ে ভালো বোলিং ছিল লেগ স্পিনার ইশ সোধির। ২৭ রান দিয়ে দুটি উইকেট নিয়েছেন। টিকনার দুটি উইকেট নিলেও খরচ করেছেন ৩৫ রান।
জবাবে আশঙ্কাজনক অবস্থা দাঁড়িয়েছিল নিউজিল্যান্ডের। ৬৫ রানে পড়েছে যায় ৩ উইকেট! এই অবস্থায় বেলফাস্টের ইতিহাস চোখ রাঙাচ্ছিল কিউইদের! কারণ এই মাঠে শুরুর দিকে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর কোনও দল ১৪০ রান বা তার বেশি তাড়া করে জিততে পারেনি। ফলে আইরিশরাও জয়ের স্বপ্ন দেখছিল তখন। ঠিক এই সময়েই তাদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান গ্লেন ফিলিপস ও ড্যারিল মিচেল। দুজনে মিলে ঝুঁকিহীন ক্রিকেট খেলতে থাকেন একটা পর্যায় পর্যন্ত। ৮ থেকে ১৩তম ওভারে বাউন্ডারিও মারেন মাত্র দুটি! তার পর আস্তে আস্তে হাত খুলতে থাকেন দুজন। যদিও তুলনায় আক্রমণাত্মক বলতে হবে ড্যারিল মিচেলকে। ১৫তম ওভারে ২০ রান তুলে চাপটা কমিয়ে আনতে বড় অবদান রাখেন তিনি। পরের ওভারে উঠেছে ৯ রান।
১৭তম ওভারে মিচেল ৪ মেরে আরও আগ্রাসী হতে গিয়ে তালুবন্দি হলে ভাঙে ৮২ রানের গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ। মিচেল ৩২ বলে ৪৮ রানে ফিরলেও সমস্যা হয়নি। মূলত ওই জুটিতেই ম্যাচটা হাতের মুঠোয় চলে আসে নিউজিল্যান্ডের। পরে জেমস নিশাম ক্যামিও ইনিংস খেলে ৪ উইকেট হারানো কিউইদের জয় নিশ্চিত করেন ১৯তম ওভারে। নিশাম ৬ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় ২৩ রানে অপরাজিত থেকেছেন।
অপরাজিত ফিলিপস ৪৪ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের দায়িত্বশীল একটি ইনিংস। যার ইনিংসে ছিল মাত্র একটি চার ও ১টি ছয়। নিউজিল্যান্ডের ৩-০ তে জেতা সিরিজটার ম্যাচ ও সিরিজসেরা দুটোই হয়েছেন তিনি। মোট ১৪৮ রান করেছেন।









