বেশ কয়েকজন তরুণের পাশাপাশি অল্প সময় ধরে জাতীয় দলে খেলা ক্রিকেটারদের নিয়ে জিম্বাবুয়ে সিরিজের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার না থাকলেও জিম্বাবুয়ে সফরকে চাপ কিংবা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছেন না তরুণরা। শেখ মেহেদী হাসান যেমন বলেই দিলেন, এখানে তরুণদের প্রমাণের কিছু দেখেন না তিনি। এই অলরাউন্ডারের মতে, জিম্বাবুয়ে সফরের দলে সবাই পরিপক্ব ও ‘মোটামুটি অভিজ্ঞ’।
সাম্প্রতিক সময়ে কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স হতাশাজনক। ফলে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে একপ্রকার বাধ্য হয়েছে বিসিবি। জিম্বাবুয়ে সিরিজে ছুটির কারণে আগে থেকেই ছিলেন না সাকিব আল হাসান। তামিম ইকবাল তো ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ শেষে জানিয়েই দিয়েছেন, টি-টোয়েন্টিতে তিনি আর ফিরছেন না। বাকি দুই ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহকে বিশ্রাম দিয়েছে বিসিবি। ফলে লম্বা সময় ধরে জাতীয় দলে খেলা ক্রিকেটারদের বাদ দিয়ে স্বল্প অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের নিয়ে জিম্বাবুয়ে সফরের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা করা হয়েছে।
সিনিয়ররা না থাকাতে স্বাভাবিকভাবেই তরুণদের ওপর চাপ পড়বে। সেই চাপ নিতে প্রস্তুত কিনা এমন প্রশ্নে আজ (মঙ্গলবার) মিরপুরে শেখ মেহেদী সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘এখানে প্রমাণ করার আসলে কিছুই নেই। একটা সময় তো সিনিয়র ক্রিকেটাররা থাকবেন না। আমাদের ব্যাচ থেকে অনেকেই সিনিয়র হয়ে যাবে। সাকিব ভাই, তামিম ভাই, রিয়াদ (মাহমুদউল্লাহ) ভাইরাও একসময় জুনিয়র হয়ে খেলেছিলেন। ২০১১ বিশ্বকাপে সাকিব ভাই ওয়ানডে বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তখন তার বয়স ছিল ২২ বছর। ওখান থেকে খেলতে খেলতে এই পর্যায়ে এসেছেন।’
সিনিয়ররা না থাকাতে শেখ মেহেদী মনে করেন, জিম্বাবুয়ে সফরটি তাদের জন্য ভিন্ন কিছু করার সুযোগ, ‘অবশ্যই সুযোগ। পরিবারে যখন ছোট থাকেন, তখন বেড়ে ওঠার জন্য বাবা-মা সব দায়িত্ব নেন। প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেন। এই সিরিজ থেকে নিজেরা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারবো, যেহেতু সিনিয়ররা নেই। তারা এতদিন বাংলাদেশের ক্রিকেটের মা-বাবা ছিলেন বা অভিভাবক হিসেবে ছিলেন।’
গত কয়েক বছরে সাকিব-মাহমুদউল্লাহ-মুশফিকদের পরামর্শে মাঠে সেরাটা দিলেও জিম্বাবুয়ে সফরে নিজেদের কাজটুকু নিজেদেরই করতে হবে। এই চ্যালেঞ্জ নিতে দল প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছেন শেখ মেহেদী, ‘এতদিন রিয়াদ ভাই, মুশফিক ভাই, সাকিব ভাইরা বলে দিতেন এই ব্যাটারকে এভাবে বল কর, এই বল এভাবে খেল। এই সিরিজ থেকে কেউ বলবে না। সবাইকে নিজেরটা নিজে করতে হবে। এটা ভালো কারণ সবাই এক-দুই বছর খেলে ফেলেছে। সবাই নিজের বুদ্ধি কাজে লাগাতে পারবে।’
জিম্বাবুয়ে সফরের দলটিতে দুই-একজন ছাড়া সবাই বেশ কয়েক বছর ধরে জাতীয় দলে খেলছেন। সেই অর্থে এই দলটিকে তরুণ বলতে নারাজ মেহেদী, ‘এই দলে একদমই তরুণ কেউ নেই। সবাই ৩-৪-৫ বছর খেলে ফেলেছে। ১০ বছর ক্রিকেট খেলা কোনও খেলোয়াড় নেই। ৬-৭-৮ বছর খেলা খেলোয়াড় আছে। তাই বেশিরভাগই তরুণ নয়। তরুণ বলতে মুনিম শাহরিয়ার আর পারভেজ ইমন, যারা একদমই নতুন। সবাই পরিপক্ব, মোটামুটি অভিজ্ঞ। সবার বোঝার সামর্থ্য আছে, সবাই সামর্থ্যবান।’
মাহমুদউল্লাহকে বিশ্রামে পাঠিয়ে জিম্বাবুয়ে সিরিজের জন্য নতুন অধিনায়ক করা হয়েছে নুরুল হাসান সোহানকে। নতুন অধিনায়ক প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠতেই মেহেদীর সোজাসাপ্টা উত্তর, ‘আমার দায়িত্ব তো অধিনায়কের পরিবর্তন... (নিয়ে চিন্তা করা না), আমার দায়িত্ব ক্রিকেট খেলা। বোর্ড বা ম্যানেজমেন্ট যাকে দায়িত্ব দিয়েছে, অধিনায়কত্ব তার বিষয়।’









