মোসাদ্দেক হোসেনের ঘূর্ণিতে ৩১ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। অবস্থাদৃষ্টে স্বাগতিকদের স্কোর শতরান হবে- এমনটা ভাবা মনে হচ্ছিল বাড়াবাড়ি! কিন্তু সিকান্দার রাজা একপ্রান্ত আগলে এমন এক ইনিংস খেললেন, তাতে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভদ্রস্থ একটা সংগ্রহ দাঁড় করাতে পেরেছে স্বাগতিক দল। টস জিতে ব্যাট করতে নামা জিম্বাবুয়ে ৮ উইকেটে করেছে ১৩৫ রান।
প্রথম টি-টোয়েন্টি থেকে হারের শিক্ষা নিয়ে ভিন্ন কৌশলে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। চার বিশেষজ্ঞ বোলার নিয়ে নামার পরেও জিম্বাবুয়েকে কাঁপিয়ে দেন অফস্পিনিং অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
আগের দিন তাসকিন আহমেদ আক্রমণের শুরুটা করেছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচে তাকে বসিয়ে পেসার হাসান মাহমুদকে নেওয়া হয়েছে যদিও। কিন্তু সিরিজ বাঁচাতে এদিন মোসাদ্দেককে দিয়ে শুরুতে খেলানোর ফল পেয়ে যায় হাতেনাতে। প্রথম বলেই অফস্টাম্পের বাইরের নির্বিষ বল খেলতে গিয়ে গ্লাভসবন্দি হয়েছেন রেজিস চাকাভা। তার পর আগের ম্যাচে বড় স্কোরের মঞ্চ গড়া ওয়েসলি মাধেভেরে চার মেরে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও ভুল করেন শেষ বলে। লুজ স্ট্রোকে ক্যাচ উঠিয়ে দেন জিম্বাবুইয়ান এই ব্যাটার (৪)।
এক ওভার বিরতির পর আবারও মোসাদ্দেকের ঘূর্ণিতে কপাল পোড়ে অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিনের (১)। রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে তালুবন্দি হয়েছেন প্রথম স্লিপে দাঁড়ানো লিটন দাসের। ওই মুহূর্তে দলকে উদ্ধারে অবদান রাখতে পারেননি শন উইলিয়ামসও; বরং বিপদ বাড়িয়ে গেছেন। মোসাদ্দেকের তৃতীয় ওভারে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ৮ রানে ফিরেছেন এই ব্যাটার।
তার পর সিকান্দার রাজা প্রান্ত আগলে থাকলেও নতুন ব্যাটার মিল্টন শুম্বা (৩) যোগ্য সঙ্গী হওয়ার মানসিকতা দেখাতে পারেননি। বড় শট খেলতে গিয়ে দলের পরিস্থিতি আরও জটিল করে গেছেন। তাকে সাজঘরে পাঠিয়েই মোসাদ্দেক ক্যারিয়ার সেরা ৫ উইকেট তুলে নিয়েছেন।
এমন বাজে ব্যাটিংয়ে স্বাগতিক দল পাওয়ার প্লেতেও যোগ করতে পেরেছে মাত্র ২৬ রান। অবশ্য ৩১ রানে জিম্বাবুয়ের ৫ উইকেট পড়লেও হাল ছেড়ে দেননি সিকান্দার রাজা। আগের ম্যাচে বিস্ফোরক ব্যাটিং উপহার দিয়ে এদিন দলের প্রয়োজনে খেলেছেন ধীর-স্থির মানসিকতায়। রায়ান বার্লকে সঙ্গী করে ৬৫ বলে গড়েছেন ৮০ রানের পার্টনারশিপ। নিজেও তুলে নেন ক্যারিয়ারের পঞ্চম ফিফটি। ৩২ রান করা রায়ার্ন বার্লকে ফিরিয়ে এই জুটি ভেঙেছেন হাসান মাহমুদ। এই জুটি ভাঙলে ছন্দপতন ঘটে স্বাগতিকদের।
শেষ দিকে কিছুটা হাত খুলতে থাকা সিকান্দার রাজাও ফিরেছেন তার পর পর। ৫৩ বলে ৬২ রান করা এই ব্যাটারকে বিদায় দিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। তার ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ২টি ছয়। ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ৬ রানে রান-আউট হলেও শেষ দিকে লুক জঙ্গোয়ে ৫ বলে ১১ রান করে স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রেখেছেন।
ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করা মোসাদ্দেক ২০ রানে নেন ৫ উইকেট। মোস্তাফিজুর রহমান ৩০ রানে নিয়েছেন ১টি। হাসান মাহমুদও ২৬ রানে ১টি উইকেট নিয়েছেন।









