সাইপ্রাসভিত্তিক ম্যারিকিট হোল্ডিংসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান অনলাইন বেটিং সাইট বেটউইনার। এই বেটিং সাইটের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আবার বেটউইনার নিউজ। ২ আগস্ট পোর্টালটির শুভেচ্ছাদূত হয়েছেন সাকিব আল হাসান। অথচ প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তির ব্যাপারে এখন পর্যন্ত পরিষ্কার কিছু জানে না বিসিবি।
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী অনলাইন বেটিং বা জুয়া পুরোপুরি নিষিদ্ধ। এ নিয়ে আইসিসি, বিসিবিরও কঠোর নীতি আছে। এই খবরে বিসিবি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়ক হওয়ার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছেই- নতুন বিতর্কে জড়ানো সাকিব কি এরপরেও টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব পাবেন? বৃহস্পতিবার সভা শেষে বোর্ড সভাপতি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। ফলে এ ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘনে সাকিবের অধিনায়কত্ব পাওয়া নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
একটা গুঞ্জন ছিল আজ (বৃহস্পতিবার) টি-টোয়েন্টির নতুন অধিনায়ক ঘোষণা করতে পারে বিসিবি। কিন্তু বিসিবি নাম ঘোষণা না করে সংক্ষিপ্ত তালিকার কথা জানিয়েছে। তালিকাতে আছে সাকিব-মাহমুদউল্লাহ, লিটন ও সোহানের নাম। যদিও লিটন ইতোমধ্যে না করে দিয়েছেন। আর এশিয়া কাপের আগে সোহানের ফেরার সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণই। বাকি দুই ক্রিকেটারের মধ্যে মাহমুদউল্লাহকে জিম্বাবুয়ে সিরিজে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে ফিরিয়ে আনা কতটা বাস্তবিক হবে সেটা নিয়েও আছে প্রশ্ন! অপর দিকে সাকিব নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে এশিয়া কাপের আগে অধিনায়ক নির্বাচন নিয়ে কঠিন পরীক্ষায় বসতে হবে বিসিবিকে।
তবে শেষ পর্যন্ত সাকিব অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পেলে অবধারিতভাবে বিসিবির পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। এই মুহূর্তে বিসিবি কী ভাবছে? বোর্ড প্রধান সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘এখানে দুইটা ব্যাপার আছে। বেটিং সংক্রান্ত কিছু হয়ে থাকলে অনুমতি দেবোই না। এটার মানে হচ্ছে, আমাদের কাছে অনুমতি চায়নি। দুই নম্বর ব্যাপার হচ্ছে, আদৌ চুক্তি করেছে কিনা এটাও তো আমার জানতে হবে। আগে জিনিসটা জেনে নেই।’
বিসিবির যেকোনও স্পন্সরশিপ ও এক্সপ্রেশনস অব ইন্টারেস্ট আহ্বানের ক্ষেত্রে পরিষ্কার উল্লেখ থাকে, টোব্যাকো, অ্যালকোহল ও কোনও বেটিং সংস্থা এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে না। ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত স্পন্সরশিপ, এন্ডোর্সমেন্ট বা কোনও পণ্যের দূত হওয়ার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। সাকিব ফেসবুকে পেজে পোস্ট দিলেও এই চুক্তি সম্পর্কে ধারণা নেই বলে দাবি বিসিবি সভাপতির। বিষয়টি আগে তদন্ত করবেন, এরপর সাকিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি, ‘এটা তো শুধু ক্রিকেট বোর্ড নয়, বাংলাদেশের আইনেও অনুমতি নেই। আমাদের দেশের আইন এটা পারমিট করে না। এটা তো অবশ্যই সিরিয়াস ইস্যু। এজন্যই একেবারে একটা ফেসবুক বা পোস্টিংয়ের ওপর নির্ভর না করে আমাদের তদন্ত করতে হবে। খুঁজে দেখতে হবে আসলে কী হয়েছে। এটা সত্যি হয়ে থাকলে বোর্ডের যা যা করার, অবশ্যই করবে। বোর্ডের অবস্থান খুবই পরিষ্কার। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।’
সাকিব এমনিতেই জুয়াড়ির সঙ্গে যোগাযোগের বিষয় ‘গোপন’ করায় দুই বছর নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। যেখানে ছিল এক বছরের স্থগিত নিষেধাজ্ঞা। এখন বেটিং সাইটের সঙ্গে যুক্ত হওয়াটা নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের অক্টোবরে সাকিব নিষিদ্ধ হওয়ার পর টি-টোয়েন্টির অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মাহমুদউল্লাহকে। বাজে ফর্মের কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর শেষে মাহমুদউল্লাহর কাছ থেকে নেতৃত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে। জিম্বাবুয়ে সিরিজে নুরুল হাসান সোহান ও মোসাদ্দেক হোসেন ভাগাভাগি করে দায়িত্ব পালন করেছেন। এসবের মাঝেই এশিয়া কাপের আগে সাকিবকে অধিনায়ক বানানো প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছিল বিসিবি। নতুন বিতর্ক বিসিবির এই সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলে সেটাই এখন দেখার।









