আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপটা শেষ পর্যন্ত অল-এশিয়ান টুর্নামেন্টে পরিণত হচ্ছে! ঘটনা তো এগোচ্ছে সে দিকেই। নেপালকে হারিয়ে প্রথম এশিয়ান দেশ হিসেবে সেমিতে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। এরপর নামিবিয়াকে উড়িয়ে দিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ভারত। সর্বশেষ রবিবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ৬ উইকেটে ইংলিশদের বিদায় করে সেমির মঞ্চে উঠে গেছে লঙ্কান যুবারাও। এখন পাকিস্তান যদি একই পথে হাঁটে, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ তো তাহলে পরিণত হবে ছোটদের এশিয়া কাপে!
গ্রুপ পর্বে ফিজি, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে অপরাজিত থেকে কোয়ার্টারে পা রেখেছিল ইংল্যান্ড। ফলাফলের দিকে তাকিয়ে কেউ কেউ হয়তো ইংল্যান্ডকে যুব বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট ভেবে বসেছিলেন। আদতে কিন্তু তা নয়।
গ্রুপ পর্বে টানা তিন ম্যাচ জিতলেও ইংল্যান্ডের পক্ষে বাজি ধরার তেমন লোক কখনোই ছিল না। কোয়ার্টারের প্রতিপক্ষ হিসেবে শ্রীলঙ্কার নাম নির্ধারণ হয়ে যাওয়ার পর ইংলিশদের বিদায় এক রকম নিশ্চিতই ধরা হয়েছিল।
কারণ গ্রুপ পর্বের তিন প্রতিপক্ষ ফিজি, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের তুলনার অনেক বেশি কঠিন প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। এশিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কন্ডিশনে ইংলিশরা জিতবে; এমন আশা ইংলিশদের অন্ধভক্তরাও নিশ্চয়ই করেনি! এছাড়া বিশ্বকাপের আগের প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে হারের ইতিহাস তো ছিলই।
মিরপুরে রবিবার টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমেই ইংলিশদের আসল রূপটা বেরিয়ে পড়ে। তারা গুটিয়ে যায় মাত্র ১৮৪ রানে। অথচ এই দলটি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফিজিকে হারিয়েছিল ২৯৯ রানের অবিশ্বাস্য ব্যবধানে। রবিবার মিরপুরে উপস্থিত হওয়া শ’পাঁচেক দর্শককে হয়তো ওই কথা মনে করিয়ে দিলে, বিশ্বাসই করতো না!
১৮৪ রানে গুটিয়ে যাওয়াকে শুধুমাত্র ইংলিশ যুবাদের ব্যাটিং ব্যর্থতা বললে অবশ্য লঙ্কান যুবাদের বোলারদের খাটো করা হয়। ইংলিশদের ব্যাটিং লাইনের চারজন ২০-এর উপরে রান করে ফেলেছিলেন। অর্থাৎ সেট হয়ে গিয়েছিলেন তারা। এরপরও লঙ্কান বোলারদের দক্ষতা সামলে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। সর্বোচ্চ ৪২ রান আসে ক্যালাম টেলরের ব্যাট থেকে।
বল হাতে সফলতম ছিলেন বানিদু হাসারাঙ্গা। মুরালির দেশের এই স্পিনার তিনটি উইকেট নেন।
পরে ১৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওপেনিংয়েই ৭৬ তুলে ফেলে শ্রীলঙ্কা। তাদের জয় নিশ্চিত হয়ে যায় তখনই। শেষ পর্যন্ত ছয় উইকেট হাতে রেখে সেমিতে উঠে শ্রীলঙ্কা। তাদের হয়ে ৯৫ রান করেন আভিস্কা ফারনান্দো।
এখন পাকিস্তান সেমিতে উঠলেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ হয়ে যাবে অল-এশিয়ান অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ!
/আরআই/এফআইআর/








