সৌম্য সরকার ও লিটন দাস বিদায় নিলেন দ্রুত। তৈরি হলো চাপ। ওই মুহূর্তে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে পথে ফেরালেন নাজমুল হোসেন শান্ত। শুধু তা-ই নয়, হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংসও খেলে ফেললেন বাঁহাতি ব্যাটার। তবে দলের অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতায় স্কোর খুব বড় হয়নি বাংলাদেশের।
আজ (রবিবার) ব্রিসবেনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সুপার টুয়েলভ ম্যাচে হেসেছে শান্তর ব্যাট। তার ৭১ রানের ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫০ রান করেছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের স্কোরের প্রায় অর্ধেকটাই এসেছে শান্তর ব্যাট থেকে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ রান আফিফ হোসেনের। ১৯ বলে ১ চার ও ১ ছক্কায় ইনিংসটি খেলেছেন তিনি। এছাড়া ২৩ রান সাকিবের। আর ১৪ রান করেছেন লিটন দাস। এছাড়া আর কোনও ব্যাটার যেতে পারেননি দুই অঙ্কের ঘরে।
জিম্বাবুয়ের সবচেয়ে সফল বোলার রিচার্ড এনগারাভা। এই পেসার ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। ব্লেসিং মুজারাবানি ২ ওভারে ১৩ রান খরচায় পেয়েছেন ২ উইকেট।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে সবচেয়ে সমালোচিত খেলোয়াড় সম্ভবত শান্ত। প্রতিভাবান ক্রিকেটার হিসেবে বারবার তার নাম উচ্চারিত হলেও মাঠের পারফরম্যান্সের সেটির দেখা পাওয়া যায় সামান্যই। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ ঠিকই দিলেন বাঁহাতি ব্যাটার। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম হাফসেঞ্চুরি এলো তো শান্তর ব্যাট থেকেই।
চাপের মুহূর্তে অসাধারণ এক ইনিংস খেলেছেন শান্ত। সৌম্য সরকার-লিটন দাস দ্রুত আউট হওয়ার পর ধরেন দলের হাল। টি-টোয়েন্টির সেরা ইনিংস তো বটেই, প্রথম হাফসেঞ্চুরিও তার এটিই। আগের সর্বোচ্চ ছিল ৪০। আর এই ম্যাচে খেলেছেন ৭১ রানের ঝলমলে ইনিংস। সিকান্দার রাজার বলে ক্রেগ আরভিনের হাতে ধরা পড়ার আগে ৫৫ বলের ইনিংসটি সাজান ৭ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায়।
ফিরে গেলেন সাকিব
দ্রুত ২ উইকেট পড়ে যাওয়ায় অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের ওপর পড়ে বাড়তি দায়িত্ব। সেটা বেশ ভালোভাবেই সামলেছেন বাঁহাতি ব্যাটার। সিঙ্গেলসে জোর দিয়ে পরিস্থিতির দাবি মিটিয়েছেন। তার সেই লড়াকু ইনিংসের ইতি ঘটেছে শন উলিয়ামসের বলে।
৩২ রানে ২ উইকেট পড়ে বাংলাদেশের। ওই জায়গা থেকে ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে জুটি গড়ে চাপ কাটিয়েছেন সাকিব। তৃতীয় উইকেটে গড়েন ৫৪ রানের জুটি। বাংলাদেশ অধিনায়কের লড়াকু ইনিংস শেষ হয়েছে উইলিয়ামসের বলে। এই স্পিনারের বলে ডিপ উইকেটে উড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু বল তার ব্যাটের ওপরের দিকে লেগে উঠে গেলে স্কয়ার লেগে ব্লেসিং মুজারাবানির দুর্দান্ত ক্যাচে বিদায় নিতে হয়। ফেরার আগে ২০ বলে মাত্র ১ বাউন্ডারিতে করেন ২৩ রান।
লিটনের বিদায়
বাউন্ডারি হাঁকিয়ে শুরু করেছিলেন লিটন দাস। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে ধারাবাহিক এই ব্যাটার দিয়েছিলেন দারুণ ইনিংসের ইঙ্গিত। যদিও বেশিদূর যেতে পারেননি লিটন।
টি-টোয়েন্টিতে তিন নম্বরে ব্যাট করছেন লিটন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও একই পজিশনে নেমেছিলেন। সৌম্য সরকার দ্রুত আউট হওয়ায় তাকে ক্রিজে আসতে হয় আগেভাগেই। ভালো শুরুও পেয়েছিলেন, কিন্তু ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ব্লেসিং মুজারাবানির দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফিরেছেন প্যাভিলিয়নে। শর্ট থার্ডম্যানে টেন্ডাই চাতারার হাতে ধরা পড়ার আগে লিটন ১২ বলে ৩ বাউন্ডারিতে করেন ১৪ রান।
সৌম্য টিকলেন মাত্র ২ বল
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বেশি কিছু করতে না পারলেও ফ্লিকে সৌম্য সরকারের দুটি ছক্কা ছিল দেখার মতো। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কিছুই করতে পারেননি বাঁহাতি ব্যাটার। টিকে ছিলেন মাত্র ২ বল!
রানের খাতা খুলতে পারেননি সৌম্য। ব্লেসিং মুজারাবানির একটু বাউন্স পাওয়া ডেলিভারিতে খেই হারিয়েছেন। বল তার ব্যাটে ছোঁয়া দিয়ে জমা পড়ে উইকেটকিপার রেগিস চাকাভার গ্লাভসে।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টস জিতেছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক সাকিব আল হাসান শুরুতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আজ (রবিবার) ব্রিসবেনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে মুখোমুখি বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে। এই ম্যাচে বাংলাদেশের একাদশে একটি পরিবর্তন। অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ বাদ পড়েছেন। তার জায়গায় একাদশে ফিরেছেন মিডল অর্ডার ব্যাটার ইয়াসির আলী।
জিম্বাবুয়ের একাদশেও পরিবর্তন আছে একটি। পেসার লুক জঙ্গোয়ের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন আরেক পেসার টেন্ডাই চাতারা।
বাংলাদেশ একাদশ: সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), আফিফ হোসেন, ইয়াসির আলী, নুরুল হাসান সোহান (উইকেটকিপার), মোসাদ্দেক হোসেন, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, মোস্তাফিজুর রহমান।
জিম্বাবুয়ে একাদশ: ওয়েসলি মাধেভেরে, ক্রেগ আরভিন (অধিনায়ক), মিল্টন শুম্বা, শন উইলিয়ামস, সিকান্দার রাজা, রেগিস চাকাভা (উইকেটকিপার), রায়ান বার্ল, টেন্ডাই চাতারা, ব্র্যাড এভান্স, রিচার্ড এনগারাভা, ব্লেসিং মুজারাবানি।









