যে অঘটনের কথা এতদিন বলা হচ্ছিল। সেই অঘটনের শিকারই হলো দক্ষিণ আফ্রিকা। নেদারল্যান্ডের কাছে ১৩ রানে হেরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় হয়েছে প্রোটিয়াদের। আর তাতে শেষ চারে যাওয়ার লাইফলাইন পেয়ে গেছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। অর্থাৎ দিনের অন্যম্যাচে যেই জিতবে তারা শেষ চারের টিকিট কাটবে।
প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ৪ উইকেটে ১৫৮ রান করেছিল নেদারল্যান্ড। জবাবে ৮ উইকেটে ১৪৫ রান করতে পেরেছে প্রোটিয়া দল। প্রোটিয়াদের হারে ভারতও শেষ চারের টিকিট পেয়ে গেলো। অর্থাৎ তাদের আর কোনও হিসাব-নিকাশের প্রয়োজন পড়ছে না।
ডাচদের ইতিহাস গড়া ম্যাচে টস জিতে বোলিং নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। তার পরেও নেদারল্যান্ড ৪ উইকেটে ১৫৮ রানের সমৃদ্ধ স্কোরবোর্ড পেয়েছে তাদের দুর্দান্ত বোলিং লাইন আপের সামনে লড়াই করে। ওপেনিং জুটিতেই যোগ হয় ৫৮ রান। স্টেফান মাইবার্গ ৩০ বলে ৩৭ রানে ফিরলে ভাঙে এই জুটি। তার পর ম্যাক্স ও’ডাউড ২৯ রানে ফিরলে ৯৭ রানে পড়ে দ্বিতীয় উইকেট। কুপার-ডাউডের জুটিতে ৩৯ রান যোগ হয়েছে।
ডাউডের বিদায়ে ছোট ছোট জুটি তৈরি হলেও শেষ দিকে মূল জুটিটা ছিল কলিন অ্যাকারম্যান ও অধিনায়ক স্কট অ্যাডওয়ার্ডসের। এই জুটিতেই স্কোরটা ১৫৮ রানে পৌঁছেছে। অ্যাকারম্যান ২৬ বলে ৪১ রানের ক্যামিও ইনিংস উপহার দিয়েছেন। তাতে ছিল ৩টি চার ও ২টি ছয়। ম্যাচসেরাও তিনি। এডওয়ার্ডস ৭ বলে ২ চারে ১২ রানে অপরাজিত ছিলেন।
প্রোটিয়াদের হয়ে ২৭ রানে দুটি উইকেট নেন কেশব মহারাজ। একটি করে নেন আইনরিখ নর্কিয়া ও এইডেন মারক্রাম।
জবাবে প্রোটিয়ারা ডাচ বোলিংয়ের সামনে পুরোপুরি খেই হারিয়েছে। পাওয়ার প্লেতে কুইন্টন ডি কক (১৩), তেম্বা বাভুমা (২০) ফিরেছেন। ৬৪ রানে সাজঘরে ফিরেছেন রাইলি রুশোও (২৫)। অথচ এই ব্যাটারদের ওপরই অনেক কিছু নির্ভর করছিল। এইডেন মারক্রাম ব্যক্তিগত ১৭ রানে ফিরলেও একটা পর্যায় পর্যন্ত হাল ধরে ছিলেন ডেভিড মিলার। কিন্তু প্রোটিয়া এই ব্যাটার ফিরতেই ম্যাচ পুরোপুরি হেলে যায় ডাচদের দিকে। মিলার ১৭ বলে ১৭ রান করতে পেরেছেন। তার পর ওয়েইন পারনেল (০) ও হাইনরিখ ক্লাসেনও (২১) ভূমিকা রাখতে পারেননি। মনে হচ্ছিল চাপের কাছেই দক্ষিণ আফ্রিকা মাথা নত করেছে।
প্রোটিয়াদের সর্বনাশ করেছেন ব্র্যান্ডন গ্লোভার। ৯ রানে এই পেসার ৩ উইকেট নিয়েছেন। ২৫ রানে দুটি নেন বাস ডি লিড। ২০ রানে দুটি নেন ফ্রেড ক্লাসেনও। ৩৩ রানে একটি নিয়েছেন পল ফন মিকারেন।









