টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে পাকিস্তান। যাদের সেমিফাইনাল খেলা পড়ে গিয়েছিল হুমকির মুখে, সেই বাবর আজমরাই নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে পৌঁছে গেছে ফাইনালের মঞ্চে। প্রথম সেমিফাইনালের লড়াইয়ে দাপুটে পারফরম্যান্সে শিরোপা জয়ের দাবিই যেন জানিয়ে রাখলো পাকিস্তান!
আজ (বুধবার) সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের সেমিফাইনালে কিউইদের ৭ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান। ড্যারেল মিচেলের অপরাজিত হাফসেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৫২ রান করে নিউজিল্যান্ড। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতেই জয়ের ভিত গড়ে দেন বাবর আজম-মোহাম্মদ রিজওয়ান। তাদের হাফসেঞ্চুরিতে ভর করে ৩ উইকেট হারিয়ে ৫ বল আগে জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে তাদের প্রতিপক্ষ ভারত-ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল জয়ী দল।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। পাকিস্তানের বোলারদের সামনে, বিশেষ করে শাহীন শাহ আফ্রিদি জ্বলে ওঠায় রান উঠেছে ধীরগতিতে। বাঁহাতি পেসার শুরুতেই ফেরান ফিন অ্যালেনকে। ৪ রান করে এই ওপেনারের বিদায়ের পর ডেভন কনওয়ে ও কেন উইলিয়ামসন প্রতিরোধ গড়লেও স্কোরবোর্ডে গতি ছিল না। রানআউট হয়ে কনওয়ে ২১ রানে বিদায় নেন।
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আগ্রাসী ব্যাটিং করা গ্লেন ফিলিপসও সুবিধা করতে পারেননি। মোহাম্মদ নওয়াজকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ৬ রানে আউট। পরের সময়টা উইলিয়ামসন ও মিচেলের। কিউই অধিনায়ক ৪২ বলে ১ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ৪৬ রান করেন। তিনি হাফসেঞ্চুরি মিস করলেও মিচেল ভুল করেননি। ৫৩ রানে অপরাজিত থাকেন এই ব্যাটার। ৩৫ বলের ইনিংসটি মিচেল সাজান ৩ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায়। জিমি নিশাম ১২ বলে অপরাজিত থাকেন ১৬ রানে।
চমৎকার বল করেছেন শাহীন। বাঁহাতি পেসার ৪ ওভারে মাত্র ২৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। নওয়াজ ২ ওভারে ১২ রান খরচ করে পেয়েছেন ১ উইকেট।
১৫৩ রানের লক্ষ্য খুব একটা কঠিন ছিল না পাকিস্তানের জন্য। সেটা আরও সহজ হয়ে যায় বাবর-রিজওয়ানের ব্যাটে। উদ্বোধনী জুটিতেই তারা এনে দেন ১০৫ রান। হাফসেঞ্চুরি করে বাবর আউট হলেও দলকে ফাইনালে তুলেই মাঠ ছাড়েন রিজওয়ান। বাবর ৪২ বলে ৭ বাউন্ডারিতে করেন ৫৩ রান। আর ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা রিজওয়ান ৪৩ বলে ৫ বাউন্ডারিতে খেলেন হার না মানা ৫৭ রানের ইনিংস। এছাড়া ৩০ রান করেছেন মোহাম্মদ হারিস।
নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে সফল বোলার ট্রেন্ট বোল্ট। বাঁহাতি পেসার ৪ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। পাকিস্তানের হারানো অন্য উইকেটটি মিচেল স্যান্টনারের।









