বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে দাপটের সঙ্গে খেললেও জাতীয় দলে হয়ে ওঠেন কেবল একজন অফস্পিনার। মূলত জাতীয় দলে অফস্পিনার হিসেবে দাপটের পরই তার ব্যাটিং প্রতিভা ‘ভুলে’ যেতে বসে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট! যদিও ব্যাটার হিসেবে যখনই সুযোগ পেয়েছেন, সেই সুযোগগুলোর বেশিরভাগই সফল হয়েছেন মিরাজ। রবিবার যেমন ভারতের বিপক্ষে হারতে বসা ম্যাচ শেষ উইকেটে ৫১ রান তুলে দলকে জিতিয়েছেন। তার আগে বোলিংয়েও সফল হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এমন পারফরম্যান্সের পর ভবিষ্যতের সাকিব আল হাসান ভাবা হচ্ছে মিরাজকে!
চলতি বছর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৮১ রানের ইনিংস খেলে দারুণ এক ম্যাচ জিতিয়েছিলেন মিরাজ। ৪৫ রানে ৬ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর আফিফ-মিরাজ মিলে ১৭৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি করে ম্যাচ জেতান। ওই ম্যাচে তাও সঙ্গী হিসেবে জেনুইন ব্যাটার পেয়েছিলেন মিরাজ। কিন্তু রবিবারের ম্যাচে সঙ্গী হিসেবে ছিলেন জেনুইন একজন বোলার। মোস্তাফিজকে সঙ্গে নিয়ে এমন একটি ইনিংস খেলা রীতিমতো বিস্ময়ের।
ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন উঠলো— সাকিবের বিকল্প হিসেবে মিরাজ তৈরি হচ্ছেন কিনা। প্রশ্নটি একেবারে উড়িয়ে দেননি প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। তবে দীর্ঘ সময় সাকিবের কীর্তির কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রোটিয়া এই কোচ, ‘যতদিন সম্ভব তাকে (সাকিব) বাংলাদেশের হয়ে দেখতে চাই। যতদিন আমরা খুঁজে না পাই (সাকিবের বিকল্প) যে হয়তো তার (মিরাজ) কাজটা করতে হবে। মিরাজ কি তেমন হতে পারে? হয়তো। সে পাঁচ-ছয়ে ব্যাট করতে পারে। বল হাতেও ধারাবাহিক পারফর্ম করে।’
এরপরই সাকিব বন্দনায় মেতে উঠেন ডমিঙ্গো, ‘দেখুন। দিনশেষে সাকিব অবিশ্বাস্য। আমি দক্ষিণ আফ্রিকায় অনেকদিন কোচিং করিয়েছি। জ্যাক ক্যালিস অবসর নেওয়ার ৮ বছর পরও আমার মনে হয়, তারা ওরকম বিকল্প খুঁজছে। তারা নিশ্চিত হতে পারছে না, ছয় ব্যাটার খেলাবে নাকি সাত। অতিরিক্ত বোলার খেলাবে নাকি ব্যাটার। এই ধরনের ক্রিকেটারের বিকল্প পাওয়া খুব কঠিন। যদি সে খারাপ ব্যাট করে, ভালো বল করবে। খারাপ বল করলে ব্যাট হাতে পারফর্ম করবে। এ ধরনের ক্রিকেটার খুব কম, এজন্যই তারা স্পেশাল। আমরা তাকে যতদিন সম্ভব রাখতে চাই। সে যেন ফ্রেশ থাকে এটা নিশ্চিত করতে চাই।’








