নিশ্চিত হারের মুখে দাঁড়িয়ে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। এবার ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টানা দুই সিরিজ জয়ের হাতছানি। ২০১৫ সালে মাহেন্দ্র সিং ধোনীর ভারতের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। বুধবার দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে ঘরের মাঠে টানা দ্বিতীয় সিরিজ জয়ের সুযোগ বাংলাদেশের সামনে।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে শুরু হবে দুপুর ১২টায়। টি-স্পোর্টস ও গাজী টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করবে।
তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের জন্য দ্বিতীয় ম্যাচটি সিরিজ জয়ের মিশন। হারলেও সমস্যা নেই, চট্টগ্রামে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচটিতে সুযোগ থাকবে সিরিজ জয়ের। কিন্তু ভারতের সিরিজ জিততে বুধবার দ্বিতীয় ম্যাচটি জয়ের বিকল্প নেই। এর বাইরে মিরপুরের উইকেটের ধাঁধাও দুশ্চিন্তায় ফেলছে সফরকারীদের।
সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস বলেছিলেন, মিরপুরের উইকেটের কারণেই চাপে থাকবে ভারত। প্রথম ওয়ানডেতে বেশ চাপেই খেলতে হয়েছে ভারতকে। বিশ্বের সেরা ব্যাটিং লাইনআপ নিয়েও ১৮৬ রানের বেশি তুলতে পারেনি তারা। দ্বিতীয় ম্যাচের আগে মিরপুরের উইকেটের ধাঁধার সমাধান না করতে পারলে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে।
মঙ্গলবার মাঠে এসে বেশ সময় নিয়ে উইকেট পর্যবেক্ষণ করেন রোহিত শর্মা। এমনকি কিউরেটর গামিনী ডি সিলভার সঙ্গেও কথা বলতে দেখা যায় তাকে। এদিন সংবাদ সম্মেলনে এসে শিখর ধাওয়ান জানালেন, ‘প্রথম ম্যাচে আমরা যখন উইকেটটা দেখলাম মনে হলো এটা একটু স্লো থাকবে। প্রথম কয়েক ওভার পর বিশ্বের অন্য জায়গার মতো হয়ে যাবে। আসলে যখন আমি এখানে শেষবার খেলেছিলাম তখন এরকমই ছিল। কিন্তু এবার তেমনটি ছিল না। এটা আমাদের ব্যাটিং দক্ষতা ও মানসিক দক্ষতার ভালো পরীক্ষা নিয়েছে। পরে আমরা চেষ্টা করেছি পরিস্থিতি বুঝে রান করার।'
সর্বশেষ ২০১৫ সালে ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ। যা ছিল ভারতের বিপক্ষে ক্রিকেটের যেকোনও ফরম্যাটে একমাত্র সিরিজ জয় টাইগারদের। প্রথম ম্যাচে মহাকাব্যিক জয়ের পর ভারতের মনোবল ভেঙে যাওয়ায় ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ এসেছে টাইগারদের। এমনকি বাংলাদেশ দলেরও বিশ্বাস, হতাশাজনক হারের পর অনেক বেশি চাপে পড়ে গেছে ভারত।
রোহিত শর্মারা যখন উইকেট নিয়ে বিস্তর চিন্তা-ভাবনা করছেন। বাংলাদেশ তখন প্রাণবন্ত অনুশীলন করে মাঠ ছাড়ছে। মাঠ ছাড়ার আগে বাংলাদেশের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো বলে গেছেন নিজেদের লক্ষ্যের কথা, ‘এই ফরম্যাটে আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে। নিজ মাঠে আমাদের রেকর্ড খুব ভালো। বিশ্বের বড় দলগুলোর মধ্যে ভারতের বিপক্ষে খেলাটা সবসময়ই বাড়তি উন্মাদনা কাজ করে। তবে অন্যদিকে এটিও ঠিক যে, শক্তিশালী হয়ে ঘুরে দাঁড়াবে ভারত। আমাদের প্রথম ম্যাচের চেয়ে ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে। আবারও ব্যাটিংয়ে আমাদের খারাপ করলে চলবে না।’
সিরিজ জয়ের ম্যাচে বাংলাদেশ দল উইনিং কম্বিনেশনই ধরে রাখবে। যদিও টানা দুই ম্যাচ গোল্ডেন ডাক মেরেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তবুও মিরপুরে আরও একবার সুযোগ পেতে যাচ্ছেন এই টপ অর্ডার ব্যাটার। অন্যদিকে ভারতীয় দলে একাধিক পরিবর্তনের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্বের যে প্রান্তেই খেলা হোক না কেন ভারতীয় সমর্থকদের সরব উপস্থিতি থাকবেই। বিশেষ করে আইসিসি টুর্নামেন্টে ভারতের ম্যাচে গ্যালারির অধিকাংশ চেয়ারই ভারতীয় দর্শকদের দখলে থাকে। বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ খেলছে ভারত, এই সিরিজে ভারত থেকে বেশ কিছু দর্শক এসেছে রোহিত-কোহলিদের মাতিয়ে রাখতে। যদিও স্বাগতিক সমর্থকদের চাপে ভারতীয় সমর্থদের উচ্ছ্বাস চাপাই পড়ে যায়।
গ্যালারিতে বাংলাদেশ দর্শকদের চাপ উপভোগ করেন বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন শিখর ধাওয়ান। ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ খুবই আবেগী, খেলাটাকে ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে উপভোগ করতে আসে। তাদের এই উদ্দীপনা আমাদেরও তাতিয়ে দেয়। আপনাদের সব সময়ই চাপে রাখে। এটা খুব মজার। এরকম তীব্রতার মধ্যে খেললে একটা দলের সেরাটা বেরিয়ে আসে। বাংলাদেশের মানুষরা যেভাবে তাদের দলকে এবং ক্রিকেটকে সমর্থন করে করে তা দেখতে খুব ভালো লাগে। এটা দেখতে পারা সৌভাগ্যের।'








