বেশিরভাগ সময়ই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশের হাতে। কিন্তু রোহিত শর্মা নামতেই যেন নিয়ন্ত্রণ হারায় বাংলাদেশ। নবম ব্যাটার হিসেবে রোহিত যখন নামেন তখন ভারতের প্রয়োজন ৪৪ বলে ৬৫ রানের। মিরপুরের উইকেটে খুব একটা সহজ লক্ষ্য নয়। তবুও মাহমুদউল্লাহর করা ম্যাচের ৪৯ তম ওভারে ২০ রান তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় সফরকারীরা। মোস্তাফিজের শেষ ওভারে অবশ্য প্রয়োজনীয় ২০ রান তুলতে পারেননি রোহিত। ফলে ৫ রানের জয়ে এক ম্যাচ আগেই সিরিজ নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে মোহাম্মদ সিরাজের বলে স্লিপে ক্যাচ ধরতে গিয়ে হাতে আঘাত পান ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত। চোটের অবস্থা জানতে স্ক্যান করাতে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে রোহিত মাঠে ফিরে আসেন। নিজের পজিশনে ব্যাটিং না করলেও নবম ব্যাটার হিসেবে ব্যাটিংয়ে নামেন তিনি। রোহিত যে নামতে পারেন-এমন মানসিক প্রস্তুতি রেখেই মাঠে খেলছিল বাংলাদেশ। সেঞ্চুরির পর দুই উইকেট নেওয়া মিরাজ সংবাদ সম্মেলনে তেমনটাই জানালেন।
এক প্রশ্নের জবাবে মিরাজ বলেছেন, অবশ্যই আমাদের মানসিক প্রস্তুতি ছিল, রোহিত শর্মা ব্যাটিং করতে পারে। যদি সে ব্যাটিং করতে আসে আমাদের বোলারদের ওই পরিকল্পনা ছিল যে কীভাবে বল করবো। কিন্তু দিন শেষে আপনাকে ১০ উইকেটই নিতে হবে। ১০ উইকেট না নিলে জিততে পারবো না। তারপরও সে খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। সে যেভাবে খেলেছে তা ওদের জন্য ইতিবাচক দিক। আমার কাছে যেটা মনে হয় আমাদের বোলাররা খুব ভালো বল করেছে। যেভাবে চাপে রেখেছে...মাঝে একটা জুটিও হয়ে গিয়েছিল। এটা হতেই পারে, আমাদেরও হয়েছে। তারপরও আমরা খুব ভালো ওভারকাম করেছি।’
মোস্তাফিজ-এবাদতের প্রশংসা করতে গিয়ে মিরাজ আরও বলেছেন, ‘মোস্তাফিজ আউটস্ট্যান্ডিং বোলিং করেছে, এবাদত ভালো বোলিং করেছে, সাকিব ভাই, নাসুমও। আমার কাছ থেকে যেটা আশা করেছিল সেটা আমি দিতে পারিনি (বোলিংয়ে)। আমার একটু ক্র্যাম্প করছিল, অনেক বেশি টান লাগছিল তাই বোলিং টেনে নিতে পারিনি। কিন্তু রিয়াদ (মাহমুদউল্লাহ) ভাই আমাকে খুব ভালো সাপোর্ট দিয়েছে।’
টস জিতে ব্যাট করতে নামলে ৬৯ রানে হাওয়া হয়েছে ৬ উইকেট! ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ব্যাটিং লাইনে তখন অতিমানবীয় কিছুই প্রয়োজন ছিল। যে রূপটায় দেখা গেলো মেহেদী হাসান মিরাজকে। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ দলের ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হলেন। অবিশ্বাস্য এক ইনিংসে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির মাইলফলকে পৌঁছান মিরাজ। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে ব্যাটার হিসেবে খেললেও জাতীয় দলে তার ভূমিকা ছিল বোলার হিসেবেই। মিরাজ মনে করেন অনেকদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার কারণেই ব্যাটিংয়ে উন্নতি হয়েছে, ‘আমার যখন ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু হয়েছে, তখন কিন্তু বোলার হিসেবেই হয়েছে। ব্যাটিং অনেক পরে করতাম। নিজেকে ওভাবেই মানসিকভাবে তৈরি করেছি যেহেতু বোলিং ভালো হচ্ছে। ব্যাটিংয়েও সুযোগ পাচ্ছিলাম না। এখন তো অনেক পরিপূর্ণ হয়েছি, অনেকদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছি।’
মানসিকভাবে নিজেকে তৈরি করার মাধ্যমেই ব্যাটিংয়ের উন্নতি হয়েছে বলে মনে করেন মিরাজ, ‘মানিয়ে নিয়েছি কীভাবে খেললে ভালো হবে। কোথায় উন্নতি করতে হবে সেসব নিয়েও কাজ করেছি। সবসময় চেষ্টা করি কীভাবে নিজের উন্নতি করা যায়। শুরুর দিকে ব্যাটিং খুব খারাপ ছিল। এখন যে অনেক ভালো হয়ে গেছে এমন না। ভালোর তো শেষ নেই। উন্নতিরও শেষ নেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে গেলে আপনার ডে বাই ডে সবসময় উন্নতি করতে হবে। এছাড়া আপনি সফল হতে পারবেন না। নিজেকে ওভাবে মানসিকভাবে তৈরি করছি, কীভাবে ভালো করা যায়।’








