ওয়ানডে সিরিজ দুবার, টেস্ট সিরিজেও দুবার লিটনকে আউট করেছেন মোহাম্মদ সিরাজ। প্রতিবারই লিটনকে আউট করে দারুণ উদযাপন করেছেন ভারতীয় এই পেসার। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে বাংলাদেশকে বেশ ভালোভাবেই চেপে ধরেছিলেন তিনি। কিন্তু পারছিলেন না লিটনের সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে লিটনকে সাজঘরের পথ দেখিয়ে উৎসবে মাতেন। উৎসবের এক পর্যায়ে মুখে হাত দিয়ে মিরপুরের দর্শকদের ‘চুপ’ করতে বলেন।
৮৭ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা বাংলাদেশকে চেপে ধরেছিল ভারতীয় বোলাররা। সেখানে থেকে দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন লিটন। দলের সর্বোচ্চ ৭৩ রানের ইনিংস আসে তার ব্যাট থেকে। পুরো ইনিংসজুড়েই ওয়ানডে মেজাজে ব্যাটিং করেছেন। ৯৮ বলে ৭ চারে ৭৩ রানের ইনিংসটি খেলেন লিটন। ইনিংসটি হতে পারতো আরও লম্বা। কিন্তু সিরাজের অতিমানবীয় এক ভেলিভারিতে বোল্ড হন তিনি। গুড লেনথে পড়ে বলটি ভেতরে ঢুকে কিছুটা স্কিড করে স্ট্যাম্প ভেঙে দেয় লিটনের। গুরুত্বপূর্ণ এই উইকেট পেয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত ছিলেন সিরাজ।
লিটনের মারমুখী ব্যাটিং দেখে মিরপুরের উপস্থিত দর্শকরা তখন উল্লাস করছিল। স্বাভাবিক ভাবেই লিটনকে ফিরিয়ে দর্শকদের মুখ বন্ধ করতে বলেছেন সিরাজ, ‘হ্যাঁ এটা করা হয়েছে ওই দর্শক চিৎকার করছিল। আমি যখন ওই দর্শকদের কাছাকাছি ছিলাম তখন তারা আমাকে কিছু বলেছিল। সেজন্যই এমন করেছি।'
এর আগে চট্টগ্রাম টেস্টেও লিটনকে বোল্ড করেছিলেন সিরাজ। চট্টগ্রামে টেস্টের প্রথম ইনিংসে দারুণ শুরু করেছিলেন লিটন। কিন্তু লিটনের মনোযোগ নষ্ট করতে তাকে তাতিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সেই চেষ্টায় অবশ্য সফল হয়েছিলেন এই পেসার। এর আগে ওয়ানডে সিরিজেও দুইবার লিটন তুলে নিয়েছিলেন তিনি।
দুইজনের দ্বৈরথ বেশ জমে উঠেছে এই সিরিজে। তবে সিরাজ জানালেন পেসারদের এমন আগ্রাসী হতেই হয়। ব্যাটারদের বিপক্ষে পেসারদের এমন ভূমিকা শুধু মজাই, 'না না। এটা নিয়ে আমাদের এত চিন্তা করা উচিত নয়। ফাস্ট বোলাররা একটু খোঁচাখুঁচি করতে চাইবেন, ব্যাটারদের ফোকাস ভাঙতে চাইবেন। এরকম সামান্য জিনিস সেখানে হবে। তবে এটা কোনও দ্বৈরথ নয়। শুধুই মজা।’









