অনেক নাটকীয়তার পর বাংলাদেশে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে চান্ডিকা হাথুরুসিংহের। মঙ্গলবার দুই বছরের চুক্তিতে তিন ফরম্যাটের কোচ হয়ে বাংলাদেশ দলের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নিয়েছেন। সোমবার রাতে ঢাকায় পৌঁছে সকালেই মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে হাজির হয়েছেন লঙ্কান এই কোচ। প্রথম দিনটি অবশ্য খোশগল্পেই কেটেছে।
সাড়ে পাঁচ বছর আগে নানা নাটকীয়তায় যে মাঠ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। সেই মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বেলা ১১টায় নিজের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেন হাথুরু। মাঠে ঢুকে পুরনো অনেক মুখের পাশাপাশি নতুন অনেকের সঙ্গে পরিচিতি পর্ব সেরেছেন। ২১ ফেব্রুয়ারি ছুটির দিন হওয়ায় ক্রিকেটারদের ঐচ্ছিক অনুশীলন ছিল। দেশের বাইরে ও ঢাকার বাইরে থাকা ৫ ক্রিকেটার ছাড়া বাকিরা সবাই মাঠে হাজির ছিলেন।
স্টেডিয়ামে এসে প্রথমেই বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন। একই পর্ব সেরেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, তৌহিদ হৃদয়, মাহমুদুল হাসান জয়দের সঙ্গেও।
অবশ্য হাথুরুসিংহে যখন মিরপুরে আসেন তার আগেই সেখানে নাজমুল হোসেন শান্ত অনুশীলন শুরু করেছিলেন। বিপিএলে সর্বোচ্চ রান করে টুর্নামেন্ট সেরা হওয়া বাঁহাতি ওপেনারের সঙ্গে নিজে থেকে এগিয়ে গিয়ে কথা বলেছেন তিনি। দু’জনের কথোপকথনের মাঝেই ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল এগিয়ে যান। সেখানে একে একে যোগ দেন এবাদত হোসেন, শরিফুল ইসলাম, তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদরা। এবাদতকে দেখে আবার তার ট্রেডমার্ক ‘স্যালুটও’ ঠুকে দিয়েছেন।
নতুন কোচকে মাঠে দেখে অনুশীলন বাদ দিয়ে ছুটে আসেন আফিফ হোসেন, রেজাউর রহমান রাজা, নুরুল হাসান সোহান, তৌহিদ হৃদয়, ইয়াসির আলি রাব্বিরাও। এরপর হাথুরুসিংহকে সভার মধ্যমণি করে সেখানে একটি ছোটখাট সভাও হয়ে গেছে। প্রথম দিনে হাথুরুসিংহের সঙ্গে দেখা হয়নি মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, লিটন দাস, মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজদের।
ক্রিকেটারদের সঙ্গে আড্ডা শেষে হাথুরুসিংহে ছুটে যান উইকেটের কাছে। প্রধান কিউরেটর গামিনী ডি সিলভাকে তিনি আগের মেয়াদেও পেয়েছিলেন। স্বদেশি হওয়ায় তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাও আছে। গামিনীকে জড়িয়ে ধরে কিছুক্ষণ আলাপ করেন বাংলাদেশে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা এই কোচ।
পরে হাথুরুসিংহেকে দেখে উইকেটের কাছে ছুটে আসেন বিসিবি পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন। এরপর শাহরিয়ার নাফিসকে নিয়ে ইনডোরের দিকে ছুটে গেছেন। হোম অব ক্রিকেটের সবকিছু ঠিক ঠাক আছে কিনা, সেটিই দেখতে চাইলেন যেন। সবশেষে অধিনায়ক তামিম ও খালেদ মাহমুদকে নিয়েও আলোচনায় বসেছিলেন। তবে এর বিষয়বস্তু জানা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে আসন্ন ইংল্যান্ড সিরিজ নিয়েই কথা বলেছেন তারা।
তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে শুক্রবার আসছে ইংল্যান্ড। ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের আগের সফরে কোচ ছিলেন হাথুরুসিংহেই। তার আমলে ইংলিশদের ওয়ানডে সিরিজে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। এবার হয়তো সফরকারীদের হারানোর সব রকম পরিকল্পনা করছেন তিনি!
শ্রীলঙ্কার সাবেক এই ক্রিকেটার ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত মোট তিন বছর জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শেষে বিতর্কের জন্ম দিয়ে চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। তবে আগের অধ্যায়ে বেশ সাফল্য ছিল তার। সে সময়ে ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজ হারায় বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে তার অধীনেই। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও সেমিফাইনাল খেলেছিল। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের মতো বড় দলের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জেতার নজিরও আছে।
ইংলিশদের বিপক্ষে সিরিজ দিয়েই তার দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হচ্ছে। আগের সেই সাফল্যকে চূড়ায় নিয়ে যেতেই মূলত লঙ্কান কোচকে আনা হয়েছে। বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে যাওয়ার মিশনে এটাই হচ্ছে হাথুরুসিংহের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। যেহেতু সামনেই ওয়ানডে বিশ্বকাপ। উপমহাদেশের কন্ডিশনে এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে বাংলাদেশের প্রত্যাশার পারদও চূড়ায়। নতুন মেয়াদে হাথুরুসিংহেকে প্রমাণ করতে হবে যে, তার কাছে সত্যিই কোনও ম্যাজিক আছে!









