ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের শুরুটা হলো হতাশায় মোড়ানো। ব্যাটিং ব্যর্থতার পর এমনিতেই ম্যাচে পিছিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ দল। এর মধ্যে ডেভিড মালানের অতিমানবীয় এক ইনিংসে কোণঠাসা হয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। লম্বা সময় ধরে বাংলাদেশের কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা আছে মালানের। ফলে ‘চেনা’ কন্ডিশনের সুযোগটা খুব ভালো করেই নিলেন ইংলিশ এই ব্যাটার। একপ্রান্ত আগলে রেখে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছান তিনি। মালানের ১১৪ রানের ইনিংসের ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের দেওয়া ২১০ রান অনায়াসেই টপকে যায় সফরকারীরা।
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ব্যাটিংটা একদমই ভালো হয়নি তামিম ইকবালদের। ইংলিশ বোলারদের বিপক্ষে বিন্দুমাত্র প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি স্বাগতিক ব্যাটাররা। বিশেষ করে মঈন আলী ও আদিল রশিদ বাংলাদেশের ব্যাটারদের কঠিন সময় দিয়েছেন। শান্ত ছাড়া টপ অর্ডারের কেউই দায়িত্বশীল ইনিংস খেলতে পারেননি। এই কারণে স্কোরবোর্ডও সমৃদ্ধ হয়নি। মুশফিক, আফিফ, মিরাজের ব্যাটিং ব্যর্থতাও ভুগিয়েছে দলকে। সবমিলিয়ে তাই ২০৯ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ দল। মিরপুরের এই উইকেট লড়াই করার জন্য ২৪০-২৫০ রান বেশ কার্যকর হতে পারতো। বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে এই নিয়ে নিশ্চিতভাবেই আক্ষেপ বিরাজ করছে!
২১০ রানের মামুলি লক্ষ্যে খেলতে নেমে অবশ্য বাংলাদেশের বোলারদের রোষানলে পড়েন ইংলিশ ব্যাটাররা। পাওয়ার প্লেতে সাকিব ও তাসকিন পুরোপুরি আটকে রাখে ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের। ৬ ওভার শেষে ১ উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ড তুলতে পারে ১৮ রান। ১৩তম ওভারে ৬৫ রানে ৪ উইকেট তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু একপ্রান্ত আগলে রেখে ব্যাটিং করা মালান প্রতি মুহূর্তেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। বাংলাদেশ দল প্রতিপক্ষের ৭ ব্যাটারকে ফেরালেও মালানকে ফেরাতে পারেননি।
ম্যাচ জয়ের নায়ক সেই মালানই। ‘চেনা’ কন্ডিশনে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে বাংলাদেশি বোলারদের বিন্দুমাত্র সুযোগ দেননি মালান। ২০১৩ সালে প্রথমবার প্রাইম দোলেশ্বরের হয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলতে আসেন তিনি। পরপর দুই মৌসুম প্রাইম দোলেশ্বরের হয়ে খেলেছেন। বিপিএলে কুমিল্লা ওয়ারিয়ার্স, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও খুলনা টাইটানসের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা আছে তার। ফলে বাংলাদেশের কন্ডিশন সম্পর্কে বেশ জানা শোনা ইংলিশ এই ব্যাটারের। সেই সুযোগটাই নিলেন তিনি। অন্য প্রান্তের ব্যাটাররা যেখানে সংগ্রাম করেছেন, সেখানে মালান ছিলেন ধীরস্থির। তার অনবদ্য ১১৪ রানে ম্যাচ জেতে সফরকারীরা। ১৩৪ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় মালান ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি তুলে নেন। আরও ১১ বল খেলে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। অষ্টম উইকেটে আদিল রশিদকে নিয়ে ৫৯ বলে ৫১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন মালান। ১০ ওভার চেষ্টা করেও এই জুটি ভাঙতে পারেননি তাসকিন-সাকিব-তাইজুলরা।
ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ হলেও বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির ব্যাপার বোলারদের পারফরম্যান্স। একমাত্র মোস্তাফিজুর রহমান নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। ৮ ওভারে ৪২ রান খরচায় উইকেট শূন্য ছিলেন তিনি। তাইজুলের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল বিস্তর। সেই আলোচনায় জল ঢেলে দিলেন তিনি ৩ উইকেট নিয়ে। ৫৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দলের সেরা বোলার তিনি। অফস্পিনার মিরাজ ৩৫ রানে নেন দুটি উইকেট। সাকিব ও তাসকিন আহমেদ ছিলেন অসাধারণ। তাসকিন ৯ ওভারে ২৬ রান খরচ করে নিয়েছেন একটি উইকেট। সাকিব ৪৫ রান খরচায় নেন এক উইকেট।
লম্বা সময় পর নিজেদের কন্ডিশনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে খেলার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিল তামিম ইকবালরা। ৩৩ রানের মাথায় মার্ক উডের আউটসুইংয়ে বলের লাইন মিস করে এলবিডব্লিউ হন লিটন (৭)। তাতেই ঘটে ছন্দপতন। এরপর তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু উডের দারুণ এক ডেলিভারি লাফিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন তামিম। কিন্তু হাতে লেগে বল স্টাম্পে আঘাত হানলে ৩২ বলে ২৩ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন তামিম। এরপর মুশফিকুর রহিম (১৬) ও সাকিবও (৮) বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।
১০৬ রানে টপ অর্ডার চার ব্যাটারকে হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেখানে থেকে পঞ্চম উইকেটে মাহমুদউল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে নাজমুল হোসেন শান্ত ৫৩ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয় সামাল দেন। দারুণ ব্যাটিং করতে থাকা শান্ত লেগস্পিনার আদিলের গুগলি পড়তে ব্যর্থ হয়ে ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নেন। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৮ রানের ইনিংস আসে তার ব্যাট থেকে। ৮২ বলে ৬ চারে শান্ত ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন। এরপর মাহমুদউল্লাহ (৩১), আফিফ হোসেন (৯) ও মিরাজ (৭) ব্যর্থ হলে বড় স্কোর গড়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। শেষ দিকে তাসকিনের ১৪ ও তাইজুলের ১০ রানে বাংলাদেশ ৪৭.২ ওভারে ২০৯ রানে অলআউট হয়।
ইংলিশ বোলারদের মধ্যে জোফরা আর্চার, মঈন আলী, আদিল ও উড দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া উইল জ্যাকস ও ক্রিস ওকস নিয়েছেন একটি করে উইকেট।








