মিস্টার ডিপেন্ডেবল খ্যাত মুশফিকুর রহিম এর আগেও সেঞ্চুরি পেয়েছেন, প্রতিপক্ষ বোলারদের নাস্তানাবুদ করেছেন। কিন্তু এমন প্রভাব বিস্তার করা ইনিংস খুব কমই খেলেছেন। চার নম্বরে নেমে আটটি সেঞ্চুরি করা মুশফিক এদিন ছয় নম্বরে নেমে তুলে নিয়েছেন নবম সেঞ্চুরি। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৪৪ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলার পরের ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে দ্রুতগতির সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন মুশফিক। মিডল অর্ডারে নেমে তিনি এভাবে সেঞ্চুরি করায় দারুণ খুশি লিটন।
নাজমুল হোসেন শান্ত আউট হওয়ার পর ক্রিজে নামেন মুশফিক। ততক্ষণে ৩৩ ওভার শেষ হয়ে গেছে। এমন কঠিন মুহূর্তে নেমে মুশফিক তরুণ তাওহিদ হৃদয়কে নিয়ে ৭৮ বলে ১২৮ রানের জুটি গড়েন। মাঠের চারিদিকে দৃষ্টিনন্দন সব শট খেলে তুলে নেন দ্রুততম সেঞ্চুরি। ২০০৯ সালে সাকিব আল হাসান ৬৩ বলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্রুততম সেঞ্চুরি করেছিলেন। ১৪ বছর পর সেই রেকর্ড ভাঙলেন মুশফিক। ড্রেসিংরুমে বসে সিনিয়র সতীর্থের ব্যাটিং দেখে মুগ্ধ লিটন দাস।
বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন লিটন। মুশফিকের এমন ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করে গেলেন এই ওপেনার, ‘অনুভূতি তো অনেক ভালো। সত্যি কথা বলতে আমি যতদিন ধরে খেলছি, বাংলাদেশের কোনও খেলোয়াড় শেষদিকে গিয়ে ১০০ করেনি। যখন দল থেকে কেউ এরকম একটা সেঞ্চুরি করে, দেখলে অনেক ভালো লাগে। সিনিয়ররা কেউ করলে তো আরও ভালো লাগে।’
ক্যারিয়ারে এমন বহু ইনিংস খেলেছেন মুশফিক। কিন্তু গত দুই ওয়ানডেতে যেভাবে প্রভাব বিস্তার করেছেন, তেমন ইনিংস কমই আছে তার। আইরিশদের বিপক্ষে মুশফিকের দুটি ইনিংস নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে লিটন বলেছেন, ‘মুশফিক ভাইয়ের শুধু আজকের ইনিংস না, শেষ ম্যাচের ইনিংসটা যদি দেখেন আমার মনে হয় অসাধারণ ছিল। যদিও রান বেশি না, ৪০ বা এর বেশি ছিল; এটা কিন্তু বড় ভূমিকা করে দেয় ৩০০ প্লাস করতে। আজকের ইনিংসটা তো ডিফারেন্ট বল গেম করে দিয়েছে।’
বৃষ্টি নামার আগে বাংলাদেশ দল আগে ব্যাটিং করে রেকর্ড ৩৪৯ রান তোলে। বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি নামেন। সাড়ে আটটা পর্যন্ত বৃষ্টি না কমায় ম্যাচ রেফারি ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। কিছুটা হতাশ হলেও লিটন জানিয়েছেন এসব তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, ‘ম্যাচটা হলে অবশ্যই ভালো লাগতো। কিন্তু এটা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।’









