একটা সময় ব্যর্থতার দায়-ভার পুরোটাই বহন করতে হতো বাংলাদেশের পেসারদের। বোলারদের পারফরম্যান্স এতই ধারহীন থাকতো যে, অধিনায়করা তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন। সময়ের পরিক্রমায় দিন বদলেছে, বাংলাদেশের পেসাররাই এখন ম্যাচ জয়ের নায়ক। হুট-হাট একটি কিংবা দুটি ম্যাচে নয়। ধারাবাহিক ভাবেই পারফর্ম করে যাচ্ছে বাংলাদেশের পেস বোলিং ইউনিট। তাইতো সাম্প্রতিক সময়ে পেসারদের নিয়ে স্তুতি অধিনায়ক-কোচসহ সবার মুখে। আগের দিন পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ডতো এবাদত-তাসকিন-হাসান-শরিফুলদের প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। পেসারদের পারফরম্যান্স যে ফ্লুক নয়, সেটি আজ দশ উইকেট নিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন তাসকিন-এবাদত-হাসানরা। বিশেষ করে পেসার হাসান মাহমুদ আগুনে বোলিং করেছেন।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের তিন পেসারের বোলিং তোপে পড়ে আইরিশ ব্যাটাররা। বিশেষ করে ৩২ রানে ৫ উইকেট তুলে নেওয়া তরুণ পেসার হাসান মাহমুদের বোলিংয়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে আইরিশদের ব্যাটিং লাইনআপ। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্পোর্টিং উইকেটে কোন ম্যাচেই ভালো করতে পারেনি আয়ারল্যান্ড। আগের দুই ম্যাচে টস হেরে বোলিংয়ে নেওয়া আইরিশরা বৃহস্পতিবার টস জিতে ব্যাটিংয়েও নিয়ে সাফল্য পায়নি। আসলে তাদের সাফল্য পেতে দেয়নি বাংলাদেশের পেসাররাই। নতুন বলে বল হাতে নেওয়া হাসান শুরু থেকেই শাসন করেছেন। প্রথম স্পেলে টানা ছয় ওভার বল করে তুলে নিয়েছেন তিনটি উইকেট। বাকি দুই উইকেট নিতে হাসানের লেগেছে আরও ১৩ বল।
হাসান নিজের তৃতীয় ওভারে আইরিশ ওপেনার স্টিফেন ডোহেনিকে ফিরিয়ে শুরু করেন ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফারের মিশন। নিজের পঞ্চম ওভারে হাসানের শিকার পল স্টার্লিং। অফস্ট্যাস্পের বাইরের বলটি অফসাইডে খেলতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বল কিছুটা সুইং করতেই লাইন মিস করে এলবিডব্লিউর শিকার হয়েছেন। দুই বলের ব্যবধানে হ্যারি টেক্টরকেও এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন হাসান। সবমিলিয়ে প্রথম স্পেলে ৬ ওভার বোলিং করে ২৩ রান খরচায় হাসানের শিকার ৩ উইকেট।
বেশ কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে হাসান দ্বিতীয় স্পেল শুরু করেন। ২৫ তম ওভারে বোলিংয়ে এসে হাসানের শিকার এবার কার্টিস ক্যাম্ফার। হাসানের স্লো ডেলিভারি বুঝতে না পেরে তাসকিনের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নেন এই ব্যাটার। হাসান পরের ওভারে অবশ্য সাফল্য পাননি। তবে ২৮তম ওভারের প্রথম বলেই এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফেরেন গ্রাহাম হিউম। অফস্ট্যাম্পের পিচ করা বল কিছুটা ভেতরে ঢুকেছিল, ফিল্ড আম্পায়ার শুরুতে এলবিডব্লিউর আবেদন নাকচ করে দিলেও রিভিউ নিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইপার তুলে নেন হাসান মাহমুদ।
আইরিশরা কেবল হাসানের আক্রমণেই কোণঠাসা অবস্থায় ছিল না। অন্য প্রান্ত থেকে তাসকিন ও এবাদতরা দারুণ স্পেল করেছেন। তাসকিন ১০ ওভারে ২৬ রান খরচায় তুলে নিয়েছেন তিনটি উইকেট। এবাদত ৬ ওভারে ২৬ রানে নিয়েছেন দুটি। বাঁহাতি স্পিনার সাকিব আল হাসানতো এদিন বলই হাতে নেননি। মিরাজ এক ওভার ও নাসুম ৩ ওভার বোলিং করে উইকেটশূন্য ছিলেন। তাতে আইরিশদের ১০ উইকেটের সবকটিই পকেটে পুড়েছে পেসাররা।
বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড মনে করেন, অকুতোভয় মানসিকতাই পেসারদের বদলে দিয়েছে, ‘পেসারদের মানসিকতা হতে হবে আগ্রাসী। কাউকে এমন একটি ভূমিকা দিতে হবে যে, আমি যা করতে পারি সে-ও তা করতে সক্ষম হতে পারে। বোলিং গ্রুপে আমি ঠিক এমনই ছিলাম। আকুতোভয় মানসিকতা নিয়ে পেসারদের যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, আমি এমনটাই চেয়েছি সব সময়।’









