লিটন দাসের হাত ধরেই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দেখা মিলেছে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে দেশের হয়ে দ্রুততম ফিফটির নজির। অথচ ১৬ বছর আগে ২০ বলে দ্রুততম হাফসেঞ্চুরি করে এতদিন এই রেকর্ডের একমাত্র মালিক ছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। বুধবার দ্রুততম ফিফটি করতে লিটনের লেগেছে ১৮টি বল। নিজের রেকর্ড ছাতছাড়া হওয়াতে বিন্দুমাত্র আফসোস নেই সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরিয়ানের। বরং আশরাফুলের ভবিষ্যদ্বাণী, তার করা টেস্ট-ওয়ানডের দ্রুততম হাফসেঞ্চুরির রেকর্ডটিও ভাঙবেন লিটন।
২০০৭ সালে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ওই আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলতে নেমেই ইতিহাসে নাম তুলেছেন আশরাফুল। ২০ বলে হাফসেঞ্চুরিতে বিশ্বরেকর্ডও গড়েছিলেন। অবশ্য অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ১২ বলে দ্রুততম হাফসেঞ্চুরি করে সেই রেকর্ডটি নিজের করে নেন যুবরাজ সিং। তবে বাংলাদেশের কোনও ব্যাটার এতদিন সেই রেকর্ডটি ভাঙতে পারেনি। ১৬ বছর পর বুধবার জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে সেই রেকর্ডটি ভেঙে নিজেকে চূড়ায় নিয়েছেন লিটন। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি ছুঁয়ে রেকর্ডবুকে নাম লিখিয়েছেন। তাতে ভীষণ খুশি আশরাফুল। বৃহস্পতিবার মিরপুর সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, ‘রেকর্ড তো ভাঙার জন্যই। প্রায় ১৬ বছর এই রেকর্ড টিকে ছিল। রেকর্ড থাকলে অবশ্যই ভালো লাগে। নিজের নাম সবার ওপরে দেখতে ভালো লাগে। ২০০৭ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ছিল। এটা তখন বিশ্বরেকর্ড ছিল। তার ৭ দিন পর যুবরাজ সিং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২ বলে ফিফটি করেছেন।’
শুধু সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটেই নয়, আশরাফুল ২০০৭ সালে টেস্ট ক্রিকেটেও ভারতের বিপক্ষে ২৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। তাছাড়া ২০০৫ সালে নেটওয়েস্ট ট্রফিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার ২১ বলে করা হাফ সেঞ্চুরিটি ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দ্রুততম। টি-টোয়েন্টিতে বর্তমান রেকর্ডের মালিক লিটন হলেও বাকি দুই ফরম্যাটে আশরাফুলের রেকর্ড এখনও অক্ষত আছে। তবে বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক মনে করেন, লিটন বাকি দুটি রেকর্ডও নিজের করে নেবেন, ‘এখন টেস্ট ও ওয়ানডেতে দুটা রেকর্ড আছে (দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরি)। আশা করি, এই দুটিও লিটন ভাঙবে। যেভাবে সে খেলছে, বাকি দুই ফরম্যাটেও দ্রুততম অর্ধশতক তারই হবে আশা করি। লিটন সফল হচ্ছে, আমার ভালো লাগছে।’
লিটন গত কয়েক বছর ধরেই দারুণ ক্রিকেট খেলছেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ ছাড়া গত দুই বছর পুরোটা সময়-ই তার দুর্দান্ত কেটেছে। বুধবার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শুধু দ্রুততম ফিফটিই করেননি। রনিকে সঙ্গে নিয়ে উপহার দিয়েছেন এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের সেরা ওপেনিং জুটি। ১২৪ রান যোগ করেছেন তারা। রনির আউটের পরও লিটনের তাণ্ডব অব্যাহত থাকে। একটা সময় মনে হচ্ছিল, দ্রুততম সেঞ্চুরিও বুঝি পেয়ে যাবেন। কিন্তু ১৭ রান দূরে থাকতে আউট হয়েছেন। তাতে ৪১ বলে ১০ চার ও ৩ ছক্কায় ৮৩ রানে থেমেছেন।
লিটনের ব্যাটিং নিয়ে আশরাফুল বলেছেন, ‘লিটনের ইনিংস নিয়ে তো বলার কিছু নেই। গত ২-৩ বছর ধরে অসাধারণ খেলছে। সব ফরম্যাটে ভালো করছে, বিশেষ করে টেস্টে যেভাবে পঞ্চাশেরও বেশি গড় নিয়ে খেলছে। এখন বাকি দুই ফরম্যাটে হাই স্ট্রাইক রেটে খেলছে। যেটা আমরা সব সময় দেখতে চাই। লিটনের ব্যাটিং দেখতে মজা লাগে। ক্লাস প্লেয়ার, ওয়ার্ল্ড ক্লাস ব্যাটার। আশা করবো, এর ধারাবাহিকতা সে ধরে রাখবে।’









