শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারিয়ে এই ফরম্যাটে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিল বাংলাদেশ দল। ইংল্যান্ড সিরিজে করা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স আয়ারল্যান্ড সিরিজেও অব্যাহত রেখেছে সাকিব আল হাসানরা। শুক্রবার ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণে সফরকারী আয়ারল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করার হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ইতোমধ্যে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে লাল-সবুজ জার্সীধারীরা।
বেলা ২টায় জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে মাঠে নামবে সাকিবরা। খেলাটি সরাসরি সম্প্রচার করবে গাজী টেলিভিশন ও টি স্পোর্টস।
বৃষ্টি বাধায় আয়ারল্যান্ডকে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করতে পারেনি বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেও বৃষ্টি বাগড়া দিয়েছিল। বৃষ্টির চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে আগের দুটি ম্যাচ হলেও শেষ ম্যাচ মাঠে গড়ানো নিয়ে শঙ্কা আছে। আজ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে থাকছে মৌসুমী বৃষ্টির চোখ রাঙানিও। আগের দুই ম্যাচের মতো শুক্রবার বৃষ্টির বাঁধা পেরিয়ে ম্যাচটি জিততে পারলে টানা দুই সিরিজে প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করার নজির গড়বে বাংলাদেশ। আইরিশদের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের টানা পঞ্চম জয় ছিল। এবার সংখ্যাটাকে আরও বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ। এই ফরম্যাটে টানা ম্যাচ জয়ে এটি বাংলাদেশের জন্য সর্বোচ্চ।
সিরিজ নিশ্চিত হওয়ায় শেষ ম্যাচের একাদশে কিছু পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন অধিনায়ক সাকিব। যদিও একাদশে পরিবর্তন হলেও তার মূল লক্ষ্য ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জেতা। দ্বিতীয় ম্যাচে ৭৭ রানের জয়ের পর পুরষ্কার বিতরণী মঞ্চেই বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেছেন সাকিব, ‘একটি ভালো দল হলে অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ডের মতো ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলে তারা সবসময় ৩-০ ব্যবধানে জয়ের চেষ্টা করে। আমরাও একইভাবে চেষ্টা করবো। আমাদের আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই। আমরা হয়তো কয়েকজন নতুন খেলোয়াড়কে চেষ্টা করতে পারি কিন্তু তারাও ভালো করার জন্য মুখিয়ে থাকবে।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে এই সফরে পাঁচ ম্যাচের একটিতেও সামান্যতম প্রতিরোধ গড়তে পারেনি সফরকারী আয়ারল্যান্ড। এই মুহূর্তে আইরিশদের বাঁচাতে পারে কেবল বৃষ্টি। বাংলাদেশ ‘খুব শক্তিশালী দল’ হিসেবে স্বীকার করেছেন আয়ারল্যান্ডের অধিনায়ক পল স্টার্লিং। তৃতীয় ম্যাচ একতরফা ম্যাচ হবে না বলে মনে করে আজকের ম্যাচে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আশা করেন তিনি, ‘আমাদের দল নির্বাচন নিয়ে ভাবতে হবে। শুক্রবার আমাদের অব্যবহৃত উইকেট থাকবে এবং আশা করি আমরা এক ধাপ এগিয়ে থাকবো।’
তবে আইরিশ অধিনায়কের মুখের কথা কতটুকু ফলবে সেটি নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টির একটি ম্যাচেও ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং তিন বিভাগের কোথাও প্রত্যাশার ছাপ ফেলতে পারেনি সফরকারী দলটি। অন্যদিকে দুই ম্যাচে রেকর্ডের উৎসব করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির ইনিংস খেলেছেন লিটন দাস। টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা দুই ম্যাচে ২০০ প্লাস করেছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ডটি পুনরুদ্ধার করেছেন সাকিব। পাওয়ার প্লে ও উদ্বোধনী জুটিতে নতুন রেকর্ড গড়েছেন লিটন ও রনি। শুক্রবার তৃতীয় ম্যাচে হয়তো নতুন অনেক রেকর্ডই অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য।









