নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শেষ ও তৃতীয় ওয়ানডেতেও প্রত্যাশিত জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৪৬ রানের বিশাল জয়ে নিশ্চিত করেছে সুপার লিগের ১০ পয়েন্ট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৭০/৮
নেদারল্যান্ডস: ৩৯.১ ওভারে ২২৪
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ১৪৬ রানে জয়ী।
কাঙ্ক্ষিত পয়েন্ট অর্জন করায় প্রোটিয়া দল সুপার লিগ টেবিলে ক্যারিবীয়দের পেছনে ফেলে আট নম্বর আসনটা দখলে নিতে পেরেছে। ফলে এটা নিশ্চিত যে ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বাছাই পর্ব খেলেই আসতে হবে। প্রোটিয়াদের ‘আপাতত’ সরাসরি বিশ্বকাপের জন্য নির্ধারিত আট নম্বর স্থানটা নিশ্চিত। তারা এই স্থান পুরোপুরি পাকা করবে যদি মে মাসে আয়ারল্যান্ড বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করতে ব্যর্থ হয়। বাংলাদেশে সম্প্রতি শেষ হওয়া সিরিজের ফলাফল বিবেচনায় সেটা সম্ভবও মনে হচ্ছে না।
তৃতীয় ম্যাচে বড় জয়ের মঞ্চটা গড়ে দিয়েছেন এইডেন মারক্রাম। জোহানেসবার্গে টস হেরে শুরুতে ব্যাট করেছে তারা। ৩২ রানে তেম্বা বাভুমা ও কুইন্টন ডি কক ফিরে গেছেন বড় ইনিংস না খেলেই। প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিয়েছেন রাসি ফন ডার ডুসেন-মারক্রাম। ডুসেন ২৫ রানের বেশি করতে পারেননি। হাইনরিখ ক্লাসেনও ২৮ রান করে ফিরেছেন। তার পরেও নিজ লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন মারক্রাম। ডাচ বোলিংয়ের ওপর একাই চড়াও হয়েছেন তিনি। এই সময়ে তার যোগ্য সঙ্গী হয়েছেন ডেভিড মিলার। এই দু’জনের বিস্ফোরক ব্যাটিংই বড় স্কোরের মঞ্চ গড়ে দিয়েছে। ১৯৯ রান যোগ করেছেন তারা। মারক্রাম ১২৬ বলে ১৭৫ রানের ইনিংসে ফিরলে ভাঙে গুরুত্বপূর্ণ জুটি। কিছুক্ষণ পর মিলারও ফিরে যান সেঞ্চুরি বঞ্চিত হয়ে। ৬১ বলে মিলারের ৯১ রানের ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৪টি ছয়। মারক্রামের ইনিংসে ছিল ১৭টি চার ও ৭ ছয়ের মার। সেট দুই ব্যাটার যখন ফেরেন ততক্ষণে স্কোর ৬ উইকেটে ৩৪৭। তারা না ফিরলে স্কোর আরও বেশি হতে পারতো। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ৩৭০ রানে থেমেছে স্বাগতিক দল।
ডাচদের হয়ে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন ফ্রেড ক্লাসেন, ভিভিয়ান কানিগমা ও পল ফন মিকারেন।
জবাবে ৩৯.১ ওভারে ডাচ দল ২২৪ রানেই অলআউট হয়েছে। অবশ্য রান তাড়ায় তাদের অবস্থান মোটেও খারাপ ছিল না। ২৩ রানে পড়েছে ওপেনার বিক্রম জিৎ সিংয়ের উইকেট। দ্বিতীয় উইকেটে ম্যাক্স ও’ডাউড ও মুসা আহমেদের ৮৫ রানের পার্টনারশিপ এবং মুসার হাফসেঞ্চুরি-ই ম্যাচটাকে এত দূর পর্যন্ত নিয়ে গেছে। ১৫১ রানের মধ্যে তাদের আউট হতেই ছন্দপতন ঘটে ইনিংসে। মুসা সর্বোচ্চ ৬৯ বলে ৬১ রানের ইনিংস খেলেছেন। ৪৯ বলে ৪৭ রান করেছেন ম্যাক্স ও’ডাউড। তাছাড়া অধিনায়ক স্কট অ্যাডওয়ার্ডসের ব্যাট থেকেও আসে উল্লেখযোগ্য ৪২ রানের ইনিংস।
ব্যাট হাতে দারুণ জয়ের ভিত গড়ে দেওয়া মারক্রাম বল হাতেও ছিলেন ভীষণ সফল। ৪০ রানে নিয়েছেন ২টি উইকেট। ম্যাচসেরাও তিনি। তবে মূল আঘাতটা ছিল মিডিয়াস পেসার সিসান্দা মাগালার। ক্যারিয়ার সেরা ৪৩ রানে ৫ উইকেট শিকার করেছেন। তার দুর্দান্ত বোলিংয়েই ১০.৫ ওভার হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করেছে প্রোটিয়া দল।









