ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ দল। আয়ারল্যান্ডের করা ২১৪ রানের জবাবে খেলতে নেমে বাংলাদেশে প্রথম ইনিসে ১৫৫ রানের লিড নেয়। এদিন শেষ বিকালে ব্যাটিংয়ে নেমে দুই বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও সাকিব আল হাসানের ঘূর্ণিতে ৪ উইকেটে ২৭ রান করে সফরকারীরা। বৃহস্পতিবার নতুন দিনে তারা নামবে ১২৮ রানে পিছিয়ে থেকে। বোলারদের দাপট দেখে মনে হচ্ছে, লিড নেওয়াই কঠিন হবে আইরিশদের। এমন দাপুটে দিন পার করলেও আক্ষেপ নিয়ে দিন শেষ করতে হয়েছে সাকিবের দলকে।
মাত্র তিনটি টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে নেমেছিল আয়ারল্যান্ড। প্রথম দিনে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে ভালোই লড়াই করে দলটি। এরপর বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই হারায় দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও নাজমুল হোসেন শান্তকে। অথচ নখদন্তহীন বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে অভিজ্ঞ ওপেনারকে দেখে মনে হচ্ছিল সংগ্রাম করছেন তিনি। শেষমেশ বেশিক্ষণ লড়তেও হয়নি, বিদায় নিয়েছেন ২১ রানে। শান্ত তো প্রথম বলেই গোল্ডেন ডাকে বিদায় নিয়েছিলেন। এমন বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে তামিম-শান্তর বড় ইনিংস খেলতে না পারার আক্ষেপ তো থেকেই যাচ্ছে!
ওখানেই কেবল শেষ নয়, বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরিয়ান (১১) মুমিনুলও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। অথচ লম্বা সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট রান খরায় ভোগা এই ব্যাটারের সামনে মোক্ষম সুযোগ ছিল আইরিশদের সাথে ব্যাটটাকে ধারালো করে নেওয়ার। কিন্তু পারেননি তিনি। ৩৪ বলে খেলে ১৭ রানে বাজেভাবে আউট হয়েছেন। এরপর সাকিব ও মুশফিকুর রহিম মিলে দারুণ খেলছিলেন, মনে হচ্ছিল এই জুটিই দিনটি অনায়াসেই পেরিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু লাঞ্চ বিরতির কিছুক্ষণ পর আক্ষেপ বাড়িয়ে আউট হয়েছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।
সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপের তালিকায় বেশ লম্বা সাকিবের নামটি। টেস্ট ক্রিকেটে ৮০-১০০ রানের মধ্যে তিনি ১২ বার আউট হয়েছেন। বুধবার সংখ্যাটা আরও বড় হলো। ৪৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পর সেঞ্চুরির দিকে তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ৮৭ রানে প্রচণ্ড বাজে শট খেলে নিজের উইকেট উপহার দিয়ে আসেন প্রতিপক্ষকে। অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনের অফস্টাম্পের বাইরের বল সুইপ করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন সাকিব। সেখানেই শেষ তার ৯৪ বলে ৮৭ রানের ঝকঝকে ইনিংস। এই ইনিংস নিয়ে নিশ্চিতভাবেই আক্ষেপ থাকবে সাকিবের, যেভাবে আইরিশ বোলারদের উইকেটের দুই প্রান্তে নাচিয়েছেন, তাতে আফসোস হওয়ার যথেষ্ট কারণও আছে।
সাকিবের আউটের পর ক্রিজে নামেন লিটন দাস। মুশফিককে সঙ্গে নিয়ে মিরপুরের ২২ গজে ঝড় তোলেন। কিন্তু নিজেও আউট হয়েছেন বাজে শটে। আইরিশদের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে লিটনের মতো ব্যাটারদের দ্রুত রান তোলার কথা। সেই পথেই হাঁটছিলেন লিটন। কিন্তু বিগত কয়েক ইনিংসের মতো বুধবার হুট করে সফট ডিসমিসাল হন। ৪১ বলে খেলেছেন ৪৩ রানের ইনিংস। তামিম-শান্ত-সাকিব-লিটন আশাহত করার পর আশা করা হচ্ছিল মুশফিক হয়তো আক্ষেপ দুর করবেন। কিন্ত তিনিও পারেননি। লম্বা শটস খেলতে গিয়ে সাজঘরে ফিরেছেন সেঞ্চুরি তুলে। অথচ তুলে নিতে পারতেন ডাবল সেঞ্চুরি। সেটি হয়নি তাড়াহুড়ো করাতে। দশম সেঞ্চুরি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে উইকেটকিপার এই ব্যাটারকে। ১৬৬ বলে ১৫ চার ও ১ ছক্কায় মুশফিক নিজের ১২৪ রানের ইনিংসটি সাজান।
সাকিব-লিটন-মুশফিকরা দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে পারলে সুযোগ থাকতো ৪০০ রানের বেশি করার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৩৬৯ রান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে স্বাগতিকদের। দিনের খেলা শেষে দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স। দলীয় ইনিংস চারশ না পেরুনোর পাশাপাশি সাকিব-মুশফিকের ইনিংস আরও বড় না হওয়ার আক্ষেপ ঝরলো অস্ট্রেলিয়ান কোচের কণ্ঠে।









