কথার লড়াইয়ে লিপ্ত বাংলাদেশের দুই ক্রীড়া ফেডারেশনের প্রধান কর্তা, শুরুটা অবশ্য করেছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের বেশ কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে খোঁচা দিয়েছিলেন তিনি। জবাবে শুক্রবার ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি নাজমুল তার প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।
মিয়ানমারে অলিম্পিক বাছাই ফুটবলে সাফজয়ী বাংলাদেশ দল খেলতে পারেনি। আর্থিক সংকটের কারণে আগেই সেখানে অংশগ্রহণ বাতিল করেছে বাফুফে। এই নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বাফুফে সভাপতি সালাউদ্দিন। বিসিবি সভাপতি নাজমুল খেলা চলাকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করেন। সেখানে ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি কেন প্রধানমন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করেননি, এই দূরত্ব কেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বাফুফে সভাপতি বলেছিলেন, ‘সবার ব্যক্তিত্ব তো এক না। আমি তো লোক দেখিয়ে বলবো না, এই প্রধানমন্ত্রী ফোন দিয়েছে। আমি ওই রকম না। আমি ফুটবল ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছি। আমি ওই নাটক করতে পারবো না। আমি প্রধানমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা করি। আমি লোক দেখাতে পারবো না।’
শুক্রবার বাফুফে সভাপতির পুরোনো এই বক্তব্যের পাল্টা জবাব দেন বিসিবি সভাপতি, ‘দেখেন, সাধারণ একটা জিনিস। প্রথম কথা হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ফোন করলে আমি যেখানেই থাকি, যে অবস্থায় থাকি ফোন ধরবোই। আমি জানি না এটা নিয়ে কেন বলেছে। এ নিয়ে আমি মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।’
যদিও বিসিবি প্রধান সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘আমার মনে হয় সমস্যাটা আপনাদের, আপনারা এত বাজে প্রশ্ন করলেন কেন? আপনারা হিসাব চাচ্ছেন, টাকা কী করেছে? এমন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে যান কেন? এটা করলে তো উনার মাথা খারাপ হবে এটা সবাই জানেন। এমন প্রশ্ন করেন কেন। করলে মাথা ঠিক থাকবে?’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের ধরনের সমালোচনা শেষ হতেই নাজমুল জানান, বাফুফে সভাপতির কাছে সমালোচিত হওয়ায় তার কিছুই যায় আসে না, ‘সব জায়গাতেই সব রকমের জিনিস আছে। যেমন ধরেন ব্যাকগ্রাউন্ড। এখন সব ফুটবলার কিংবা সংগঠকের ব্যাকগ্রাউন্ড মানেই কী নির্লজ্জ, বেহায়া, অহংকারী? এটা তো বলা যাবে না। এটা ব্যক্তির ব্যাপার। তবে আপনাদের এসব প্রশ্ন না করাই ভালো। আমার এগুলো নিয়ে মন খারাপ হয়নি, প্রশ্নই উঠে না, মন খারাপ হওয়ার কিংবা চিন্তা করার। কে বলছে সেটা আসলে বড় কথা। এ ধরনের লোক (সালাউদ্দিন) বললে কিছু যায় আসে না।’
সাবিনাদের মিয়ানমার না পাঠানোর প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি সালাউদ্দিন বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে আমাকে ফোন করেছিল। দল পাঠাতে আর্থিক সাহায্যের কথাও জানিয়েছে। আর্থিক সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীকে কেন জানাইনি, এ কথাও আমাকে বলা হয়েছে।’
তবে বিসিবি সভাপতির কষ্ট সামান্য কিছু টাকার জন্য মিয়ানমারে অলিম্পিক বাছাই ফুটবলে সাফজয়ী মেয়েরা যেতে পারলো না বলেই। বোর্ড প্রধান জানিয়েছেন মেয়েরা যেতে না পারায় ভীষণ কষ্ট পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, ‘যেটা গুরুত্বপূর্ণ, মেয়েরা যেতে পারলো না। মাত্র বিশ লাখ টাকার জন্য (আসলে ৬০ লাখ)। এর চেয়ে দুঃখের, কষ্টের কী আছে... প্রধানমন্ত্রী কী কষ্টটাই না পেয়েছেন। আপনারা চ্যানেলগুলো আছেন না, যে কোনও চ্যানেলের মালিকের কাছে গিয়ে বললেই দিয়ে দিতো। একজনের কাছে বলতে তো হবে।’
শুধু এখানেই থেমে থাকেননি নাজমুল। সংবাদ মাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন ক্রিকেটারদের কাছে নারী ফুটবল দলের জন্য টাকা চাইলেও নাকি পাওয়া যেতো, ‘বিশ্বাস করেন আমি কারও সঙ্গে কথা বলিনি, আমাদের খেলোয়াড়রা দিয়ে দিতো। খালি বলতো একবার। এ কী! এত গোপনে জিনিসটা রেখে, যে প্রক্রিয়ায় করেছে এটা খুব দুঃখজনক। আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ে ফুটবল ফেডারেশনে যে পরিচালকরা আছে, অবিশ্বাস্য। তারা কি বিশ লাখ টাকাও দিতে পারে না।’
সবশেষে মেয়েদের টাকার অভাবে অলিম্পিক বাছাইয়ে খেলতে না পারাকে লজ্জা হিসেবে অ্যাখায়িত করেছেন তিনি, ‘আমার মনে হয় অন্য কিছু আছে। আমি জানি না। এটা দুঃখজনক। দেশের জন্য এর চেয়ে বড় বদনাম হতে পারে না। আমরা বলছি দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, সারা পৃথিবী মেনে নিচ্ছে। সে জায়গায় আমরা বলছি বিশ লাখ (আসলে ৬০ লাখ) টাকার জন্য আমাদের দেশের মেয়েরা প্রি অলিম্পিক খেলতে যেতে পারে না। এর চেয়ে লজ্জার বিষয় আর হয় না। এজন্য এই টপিক নিয়ে কথা বলতে চাই না। এদের সঙ্গে কথা বলার কোনও প্রশ্নই আসে না।’








