‘এটাই একমাত্র ৫০, যেটাকে আমার ৫০ মনে হয় না’- বয়স নিয়ে এই কথা বলছিলেন চিরতরুণ, ভারতীয় ক্রিকেটের পোস্টারবয় শচীন টেন্ডুলকার। আজ সোমবার ৫০তম জন্মদিন ভারতীয় লিটল মাস্টারের। ব্যাট হাতে জীবনে অগণিত ৫০ উদযাপনের পর বয়সের ফিফটিও হয়ে গেলো তার। ১৯৭৩ সালের ২৪ এপ্রিল মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন শচীন।
তার বাবা রমেশ টেন্ডুলকার ছিলেন প্রখ্যাত মারাঠি ঔপন্যাসিক। লিজেন্ডারি কণ্ঠশিল্পী শচীন দেব বর্মনের পাঁড় ভক্ত ছিলেন। তারই নাম অনুকরণ করে রাখেন সন্তানের নাম।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যাট হাতে ২২ গজে দাপট দেখান শচীন। এই ব্যাটিং গ্রেটের পায়ে লুটিয়ে পড়েছে কত কত রেকর্ড! ২০০ টেস্ট, ১০০ আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি, ৩৪৩৫৭ আন্তর্জাতিক রান।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৬ বছর বয়সে অভিষেক। ১৯৮৯ সালের ১৫ নভেম্বর করাচি স্টেডিয়ামে ব্যাট হাতে মাঠে নেমে ওয়াকার ইউনুসের বাউন্সারে নাক দিয়ে ঝরেছিল রক্ত। রক্তাক্ত নাক মুছে পরের বলেই হাঁকান বাউন্ডারি। ওই ওয়াকারের বলেই থেমেছিল ১৫ রানের ইনিংস। ওই সফরেই পরে তিনটি ফিফটি হাঁকিয়ে জানান দেন, তিনি এসেছেন বিশ্ব কাঁপাতে। ডন ব্র্যাডম্যানের পর তাকেই সর্বকালের সেরা ব্যাটার বলা হয়।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি রানের মালিক হয়ে ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন তিনি রেকর্ড ছুঁয়েই। ২০০তম টেস্ট ম্যাচ খেলে অবসর নেন ঠিক ২৪ বছর পর। এই দুই যুগে ৬৬৪ ম্যাচ খেলে করেছেন ৩৪৩৫৭ রান।
ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরির অগ্রপথিকও তিনি। ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি গোয়ালিয়রে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৪৭ বলে অপরাজিত ২০০ রান করেন। দুই বছর পর ২০১২ সালের ১৬ মার্চ আরেকটি অভাবনীয় রেকর্ড গড়েন শচীন। বাংলাদেশের বিপক্ষে এশিয়া কাপ ম্যাচে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শততম সেঞ্চুরি হাঁকান তিনি।
এর মাঝে ক্রিকেটের বরপুত্র পেয়ে যান জীবনের সেরা অর্জন। ১৯৯২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলেও পাননি ট্রফি। ২০১১ সালে ঘরের মাঠ ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে উঁচিয়ে ধরেন সোনালি ট্রফি।
অধিনায়কও ছিলেন শচীন। ১৯৯৬ থেকে তার নতুন পরিচয় ক্যাপ্টেন। ৭৩ ওয়ানডে ও ২৫ টেস্টে নেতৃত্ব দেন। অবশ্য সেখানে ততটা সফল তাকে বলা যাবে না। ওয়ানডেতে ২৩ জয় আর টেস্টে সাফল্য পান মাত্র চার ম্যাচে। চার বছর পর ২০০০ সালে শেষ হয় তার অধিনায়ক অধ্যায়।
যে নভেম্বরে শুরু হয়েছিল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার, ২৪ বছর পর সেই মাসেই শেষ টেনে ফেলেন। ২০১৩ সালের নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে খেলেন শেষ ম্যাচ। ওয়াংখেড়েতে ৭৪ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন সেদিন।
২০০ টেস্ট ও ৪৬৩ ওয়ানডে খেললেও শচীনের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার মাত্র এক ম্যাচের। তবে ২০ ওভারের ক্রিকেটেও নিজের জাত চেনান। আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে ৭৮ ম্যাচ খেলে এক সেঞ্চুরি ও ১৩ ফিফটিতে ২৩৩৪ রান করেছেন ডানহাতি ব্যাটার।









