আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে আগামী ১ মে দুই ভাগে ইংল্যান্ডে যাবে বাংলাদেশ দল। চেমসফোর্ডে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচের আগে ওই কন্ডিশনের সাথে খাপ খাওয়াতে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্কিল ক্যাম্প করছেন ক্রিকেটাররা। তিন দিনের স্কিল ক্যাম্প শেষে শনিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। তামিম ইকবালদের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তিনি।
হাথুরুসিংহের পরিকল্পনা অনুযায়ী সিলেটে ক্যাম্প করেছে বাংলাদেশ দল। ইংলিশ কন্ডিশনের মতোই সিলেটের উইকেট হওয়ায় বেশ খুশি লঙ্কান কোচ, ‘আমরা কন্ডিশন নিয়ে খুবই খুশি। আমরা যেমন চাই, তেমন পিচ কন্ডিশন তৈরি করতে তারা (কিউরেটর) কঠোর পরিশ্রম করেছে। আমাদের জন্য খুব ভালো...। আপনি দেখতে পারেন ছেলেদের প্রাণশক্তি। ইন্টেনসিটি খুব ভালো ছিল, আমি এটাতে খুশি।’
কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে ব্যাটিং করতে হবে সেইসব নিয়ে বিস্তর কাজ হয়েছে স্কিল অনুশীলনে। শনিবার গণমাধ্যমকে সেই ব্যাখ্যা দিলেন হাথুরুসিংহে, ‘যদি আপনি ওপেনার হন, তাহলে প্রথম দশ ওভার ব্যাট করতে হবে। কীভাবে আমরা দশ ওভার ব্যাট করতে চাই, ফিল্ড রেস্ট্রিকশন কীভাবে কাজে লাগানো যায়। যদি মিডল অর্ডারে আসেন, ভিন্ন অবস্থা, যেমন কখনও চার জন আউট বা কখনও পাঁচ জন। এটা গুরুত্বপূর্ণ কীভাবে আপনি শুরু করতে চান। যদি ওভাবে অনুশীলন না করেন, উইকেটে গিয়ে আপনি থমকে যাবেন। যেটা আমরা চাই না। আমরা চাই তাদের মাথা পরিষ্কার থাকুক যে কোন পরিস্থিতিতে তাদের খেলা কেমন হবে।’
সম্প্রতি অধিনায়ক তামিমের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত ছয়টি ওয়ানডেতে তার সর্বোচ্চ রান অপরাজিত ৪১। সব মিলিয়ে মোট রান ১৩৬। আসন্ন বিশ্বকাপের আগে তামিমের এমন পারফরম্যান্স নিয়ে চিন্তিত কি না প্রশ্নে বাংলাদেশের কোচ বলেছেন, ‘আমি কারও সঙ্গেই বাড়তি কিছু করিনি। আমি শুধু মাঝে দাঁড়িয়ে এটি নিশ্চিত করছিলাম যে সেশনটা যেন ভালোভাবে শেষ হয় এবং ইন্টেনসিটি না কমে। নির্দিষ্ট কাউকে নিয়ে চিন্তিত নই আমি। পুরো দল নিয়েই ভাবছি যে কীভাবে আমরা ভালো করতে পারি। সে (তামিম) খুব ভালো ব্যাটিং করছে। এই ক্যাম্পে যেভাবে ব্যাটিং করেছে, আমি খুব খুশি।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ থেকে বাংলাদেশ দলে কিছু পরিবর্তন এসেছে। জয়-পরাজয় ছাপিয়ে আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে ক্রিকেট খেলতে দেখা গেছে পুরো দলেই। নতুন আরও একটি সিরিজের আগে হাথুরুসিংহে পুরো দলকে পুরোনো সেই বার্তাই দিয়ে রেখেছেন, ‘আমাদের অ্যাপ্রোচ সবসময় থাকবে ইতিবাচক ও আগ্রাসী ক্রিকেট খেলার। এর মানে এমন না যে, বল মেরে স্টেডিয়ামের বাইরে পাঠিয়ে দিতে হবে। ক্রিকেটারদেরও আমি এই কথা বলি সবসময়। আগ্রাসী ক্রিকেট মানে হলো, যাই করি না কেন, ইতিবাচক আগ্রাসী ইন্টেন্ট নিয়ে করা। পাশাপাশি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও আগ্রাসী থাকা, সেটা হোক দল বাছাই কিংবা ফিল্ড প্লেসিং কিংবা কী ধরনের বোলিং করা হবে। আমরা ছেলেদেরকে এই স্বাধীনতা দিতে চাই, যেন তারা মাঠে গিয়ে নিজেদের মেলে ধরতে পারে।’









