জয়ের জন্য শেষ ওভারে ৬ বলে ৯ রান প্রয়োজন ছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের। বোলার ছিলেন বরুণ চক্রবর্তী। স্নায়ু পরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছেন কলকাতার এই স্পিনারই। তিনটি ডটের সঙ্গে একটি উইকেট নিয়ে বরুণ একাই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছেন। তাতে ৫ রানের জয়ে আইপিএলে প্লে-অফের আশা বাচিয়ে রেখেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)।
স্কোর: কলকাতা ১৭১/৯
হায়দরাবাদ ১৬৬/৮
ফল: কলকাতা ৫ রানে জয়ী।
প্লে-অফের আশা বাঁচিয়ে রাখতে দুই দলের জন্যই ম্যাচটা ছিল সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই লড়াইয়ে এগিয়ে গেলো কলকাতা। ১৬ পয়েন্ট পেতে কলকাতাকে এখন বাকি ম্যাচ জিততেই হবে। ১০ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে আটে রয়েছে কেকেআর। এক ম্যাচ কম খেলা হায়দরাবাদের পয়েন্ট ৬। কলকাতার পরেই তাদের স্থান। ফলে এই পরাজয় তাদের বিপদের মাঝে রেখেছে। সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে বাকি ম্যাচ জয়ের বিকল্প নেই তাদের।
অথচ ১৭২ রানের লক্ষ্যে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এক সময় হায়দরাবাদের হাতে ছিল। হাইনরিখ ক্লাসেন ও এইডেন মারক্রাম যখন ক্রিজে, তখন জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল ছিল তাদের। ৩৬ বলে প্রয়োজন ছিল ৪৮ রান। ১৯ বলে ৩৬ রানে তখন দলের মূল চালিকা শক্তি ছিলেন ক্লাসেন। অধিনায়ক মারক্রাম ৩৩ বলে ৩৩ রানে ব্যাট করছিলেন। ঠিক পরের ওভারেই ক্লাসেনকে রাসেলের তালুবন্দি করে ইনিংসের ছন্দপতন ঘটাতে অবদান রাখেন শারদুল ঠাকুর। ম্যাচটা আদতে সেখানেই শেষ হয়েছে। তার পরেও ম্যাচটা মারক্রামদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল না। হায়দরাবাদ অধিনায়ক আর আব্দুল সামাদ ক্রিজে থেকে লড়াই অব্যাহত রাখার চেষ্টা করেছেন। ১৭তম ওভারে মারক্রামকে আউট হতেই চাপটা চলে আসে তাদের ওপর। মারক্রাম ৪০ বলে ৪১ রানে আউট হয়েছেন। তার ইনিংসে ছিল ৪টি চার। সেই চাপ কাটানোর পথ জানা ছিল না বাকিদের। ১৯তম ওভারে মার্কো ইয়ানসেন (১) আউট হয়ে দলের বিপদ আরও বাড়িয়েছেন। আব্দুল সামাদ চেষ্টা করলেও ব্যাটে সেই বারুদ ছিল না। বরং শেষ ওভারে চাপের কাছে মাথা নত করে আউট হয়েছেন ২১ রানে। ফলে ৮ উইকেটে ১৬৬ রানে শেষ হয়েছে হায়দরাবাদের ইনিংস।
২৩ রানে দুটি নেন শার্দুল ঠাকুর। ৩২ রানে দুটি উইকেট নেন বৈভব অরোরাও। একটি করে উইকেট নিয়েছেন আন্দ্রে রাসেল, অনুকূল রয়, হরশিত রানা ও বরুণ চক্রবর্তী। শেষ ওভারে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়ায় ২০ রানে ১ উইকেট নেওয়া বরুণ চক্রবর্তী ম্যাচসেরা হয়েছেন।
শুরুতে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় কলকাতা। দুই বিদেশি ওপেনার এদিনও দলকে ভরসা দিতে পারেননি। গুরবাজ রানের খাতা না খুলেই দ্বিতীয় ওভারে আউট হয়েছেন। একইওভারে সাজঘরে ফিরেছেন ভেঙ্কটেশ আইয়ার। পাওয়ার প্লের মাঝে আরেক ওপেনার জেসন রয়ও (২০) ফিরে যাওয়ায় শুরুটা আহামরি হয়নি কলকাতার। তার পর দলকে টেনে তুলতে অবদান ছিল অধিনায়ক নিতিশ রানা ও রিংকু সিংয়ের। দুই ব্যাটার ৬১ রান যোগ করেছেন। রানা ৩১ বলে ৩ চার ও ৩ ছক্কায় ৪২ রানে ফিরলে ভাঙে দারুণ এই জুটি। তার পর ইনিংস সমৃদ্ধ করতে অবদান রাখেন আন্দ্রে রাসেল-রিংকু সিং জুটিও। ৩১ রান যোগ করা জুটি ভাঙে রাসেলের বিদায়ে। ক্যারিবিয়ান তারকা ১৫ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় ২৪ রানে ফিরেছেন। দলকে একটা জায়গা নেওয়া রিংকু সিংও শেষ ওভারে আউট হয়েছেন ৩৫ বলে ৪৬ রান করে। তার ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ১টি ছয়। এই সময়ে অবদান রাখেন অনুকূল রয়। ৭ বলে ২টি চার মারেন তিনি। তাতে ৯ উইকেটে ১৭১ রানের সংগ্রহ পায় কলকাতা।
২৪ রানে দুটি উইকেট নেন মার্কো ইয়ানসেন। ৩০ রানে দুটি নেন টি নটরাজনও। একটি করে উইকেট নিয়েছেন। ভুবনেশ্বর কুমার, কার্তিক ত্যাগি, এইডেন মারক্রাম ও মায়াঙ্ক মার্কান্ডে।









