প্রথম ওয়ানডের সংক্ষিপ্ত স্কোর
আয়ারল্যান্ডের স্কোর: ১৬.৩ ওভারে ৬৫/৩ (টাকার ২*, টেক্টর ২১*; ডোহেনি ১৭, বালবির্নি ৫, স্টার্লিং ১৫)
বাংলাদেশের স্কোর: ৫০ ওভারে ২৪৬/৯ (এবাদত ১*, হাসান মাহমুদ ৪*; শরিফুল ইসলাম ১৬, তাইজুল ইসলাম ১৪, মুশফিকুর রহিম ৬১, মেহেদী হাসান মিরাজ ২৭, তাওহীদ হৃদয় ২৭, নাজমুল হোসেন ৪৪, সাকিব ২০, তামিম ইকবাল ১৪, লিটন ০)
ফল: ফলশূন্য (বৃষ্টির কারণে)
আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষার পর এলো ঘোষণা। আর বল গড়াবে না মাঠে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটার একটু পরই আয়ারল্যান্ড ও বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে ফলশূন্য ঘোষণা করা হয়।
তাতে আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা করে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। সরাসরি বিশ্বমঞ্চে খেলতে আয়ারল্যান্ডকে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচই জিততে হতো। কিন্তু ম্যাচটি ফলশূন্য হওয়ায় এখন তাদের খেলতে হবে বাছাইপর্বে। ২-০ তে বাংলাদেশকে হারালেও পয়েন্টে দক্ষিণ আফ্রিকাকে টপকে অষ্টম হতে পারবে না আইরিশরা।
আগামী ১৮ জুন থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত জিম্বাবুয়েতে হবে ১০ দলের বাছাই। সাবেক দুই চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কাকে পার হতে হবে এই ধাপ।
মঙ্গলবার আগে ব্যাটিংয়ে নেমে মুশফিকুর রহিমের ৬১ রানের সুবাদে বাংলাদেশ ২৪৬ রান করে। আয়ারল্যান্ড রান তাড়া করতে নেমে দ্রুত তিন উইকেট হারায় এবং রান রেটও বাড়তে থাকে। ১৭তম ওভারে ম্যাচ থেমে যায় বৃষ্টির কারণে। আইসিসির আইন অনুযায়ী, ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ম্যাচের ফল বের করতে অন্তত ২০ ওভার খেলতে হয়। আর খেলা না হওয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত ফলশূন্য থেকে যায় ম্যাচ।
আগামী ১২ মে চেমসফোর্ডেই হবে দুই দলের দ্বিতীয় ওয়ানডে।
বৃষ্টিতে বন্ধ খেলা
১৭তম ওভারে হ্যারি টেক্টরের বিরুদ্ধে কট বিহাইন্ডের আপিল করেন মুশফিকুর রহিম। তামিম ইকবালকে রিভিউ নিতে রাজি করান। কিন্তু আম্পায়ারের নট আউটের সিদ্ধান্ত পাল্টায়নি। আর একটি বল খেলে নামে বৃষ্টি। চেমসফোর্ডে ১৭তম ওভারের তৃতীয় বলের পর মাথায় বৃষ্টি নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরে গেছেন বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা। আধঘণ্টারও বেশি সময় চলে গেলেও বৃষ্টি থামার কোনও লক্ষণ নেই। বরঞ্চ বজ্রসহ বৃষ্টি পড়ছে। সেন্টার পিচ কাভারে ঢাকা এখনও।
তাইজুলের বলে ফিরতি ক্যাচ দিলেন ডোহেনি
পানি পানের বিরতির পর বল হাতে নিয়ে সাফল্য পেলো বাংলাদেশ। তাইজুল ইসলাম এবার ভুল করেননি। স্টিফেন ডোহেনিকে ফিরতি ক্যাচে ফেরান বাংলাদেশি স্পিনার। আইরিশ ব্যাটারের রক্ষণাত্মক শটে সামনে ডাইভ দিয়ে ক্যাচ নেন তিনি। ৩৯ বলে ২ চারে ১৭ রানে থামেন ডোহেনি। এর আগের ওভারে তাইজুল ফিরতি ক্যাচ না নিতে পারলে জীবন পান হ্যারি টেক্টর। ৬৩ রানে ৩ উইকেট পেলো বাংলাদেশ।
তাইজুলের ওভারে জীবন পেলেন টেক্টর-ডোহেনি
১৪তম ওভারে বল হাতে নেন তাইজুল ইসলাম। দ্বিতীয় বলে হ্যারি টেক্টরের ড্রাইভে বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে এক হাতে বল ধরে রাখতে পারেননি বাংলাদেশি স্পিনার। ১০ রানে জীবন পান তিনি।
শেষ বলে কভারের দিকে শট খেলেন টেক্টর। মেহেদী হাসান মিরাজ দ্রুত বল তুলে থ্রো করেন কিপারের দিকে। স্টাম্পের বেশ পাশ দিয়ে যায় বল, ততক্ষণে ডাইভ দিয়ে লাইনে ঢুকে পড়েন ডোহেনি। স্টাম্পে বল লাগলে ১৭ রানেই ফিরতে পারতেন আইরিশ ব্যাটার।
পাওয়ার প্লেতে হাসানদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বাংলাদেশের স্বস্তি
বাংলাদেশ ২৪৭ রানের লক্ষ্য দিয়ে প্রথম ১০ ওভারে দারুণ বোলিং করেছে। উইকেট খুব বেশি নিতে না পারলেও রান দিয়েছে বেশ কম। ২ উইকেট নিয়েছে তারা ৩৯ রান খরচায়। হাসান মাহমুদ ৫ ওভারে ২১ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন। এবাদত হোসেন ২ ওভারে মাত্র ২ রান খরচ করেন। শরিফুল এক উইকেট নেন ৩ ওভারে ১৪ রান দিয়ে।
বালবির্নিকে ফেরালেন হাসান
দুর্দান্ত ইনসুইংগারে আয়ারল্যান্ডের অধিনায়ক অ্যান্ডি বালবির্নিকে ফেরালেন হাসান মাহমুদ্। তার দারুণ গতির বলটি ব্যাট ও প্যাডের মাঝ দিয়ে অফস্টাম্পের ওপরের দিকে আঘাত করে। মাত্র ৯ বল খেলে ৫ রান করেন বালবির্নি। ২৭ রানে পড়লো দ্বিতীয় উইকেট।
ছক্কা মারার পর শরিফুলের শিকার স্টার্লিং
আগের ওভারে হাসান মাহমুদকে দুটি চার মেরে আগ্রাসী হওয়ার ইঙ্গিত দেন পল স্টার্লিং। একইভাবে পরের ওভারে মারেন ছক্কা। ডিপ পয়েন্ট দিয়ে বাউন্ডারির বাইরে বল পাঠান তিনি। ওই ছক্কা খাওয়ার পরের বলেই স্টার্লিংকে মেহেদী হাসান মিরাজের ক্যাচ বানান শরিফুল ইসলাম। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ হন আইরিশ ওপেনার। ১০ বলে ১৫ রান করেন ২ চার ও ১ ছক্কায়। ২২ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি।
ডোহেনির রিভিউয়ে হতাশ বাংলাদেশ
হাসান মাহমুদের দারুণ বোলিং। পঞ্চম বলটি লাগলো স্টিফেন ডোহেনির প্যাডে। বাংলাদেশি পেসারের আবেদনে এলবিডব্লিউ আউট দেন আম্পায়ার। কিন্তু পল স্টার্লিংয়ের সঙ্গে আলাপ করে রিভিউ নেন আইরিশ ওপেনার। জীবন পান। শেষ বলে দুটি রান নেন তিনি এবং দলও খোলে রানের খাতা।
আয়ারল্যান্ডকে ২৪৭ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ
ইংল্যান্ডের এসেক্সের চেমসফোর্ডে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আয়ারল্যান্ডকে ২৪৭ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। টস হেরে ব্যাট করে তারা ৯ উইকেটে সংগ্রহ করেছে ২৪৬ রান। আইরিশদের হয়ে ৬১ রানে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন জশ লিটল। ৩২ ও ৪৪ রানে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন যথাক্রমে গ্রাহাম হিউম, মার্ক অ্যাডেয়ার। একটি করে নিয়েছেন কার্টিস ক্যাম্ফার ও জর্জ ডকরেল।
জানাই ছিল যে ইংলিশ কন্ডিশনে কঠিন পরীক্ষায় বসতে হবে বাংলাদেশ ব্যাটারদের। কিন্তু জানা প্রশ্নেও ভুল উত্তর দিয়েছে বাংলাদেশের টপ অর্ডার। তামিম-লিটন-সাকিবদের ব্যর্থতায় স্কোরবোর্ডে আড়াইশ রানও তুলতে পারেনি সফরকারীরা। দুই ওপেনারের ব্যর্থতার দিনে নাজমুল হোসেন শান্ত শুরুর দিকে ইনিংস সামাল দিয়েছেন। কিন্তু ৪৪ রানেই থেমেছেন তিনি। তার আগে-পরে আউট হওয়া সাকিব (২০), তাওহীদ হৃদয় (২৭) ইনিংস লম্বা করতে পারলে স্কোরবোর্ড ভিন্ন উচ্চতায় যেতে পারতো। তাদের ব্যর্থতায় পরে বিপদ সামলেছেন মুশফিকুর রহিম। মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংসের সর্বোচ্চ ৬৫ রানের জুটি গড়েছেন। মিরাজের (২৭) বিদায়ের পরও লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষটায় প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি। জন্মদিনে ৬১ রান করেই আউট হয়েছেন। তার পরেও শেষটা আড়াইশর কাছে গেছে শরিফুল-তাইজুলের দৃঢ়তায়।
যদিও এই মাঠের অতীত পরিসংখ্যান দেখে উজ্জীবিত হতে পারে তামিম ইকবালরা। এখানে এর আগে তিনটি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে হয়েছে। যেখানে সর্বোচ্চ রান ২৪৭। ১৯৮৩ সালে ভারতের বিপক্ষে আগে ব্যাটিং করে ২৪৭ রান করে ম্যাচ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়াই। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ে আগে ব্যাটিং করে ২৩৩ রান তুলেছিল। সেই রান চেজ করতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশ অবশ্য ওই বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাঠেই খেলেছিল। কিন্তু আগে ব্যাটিং করা বাংলাদেশের ১১৬ রান অনায়াসেই টপকে গেছে কিউইরা।
শেষটা সমৃদ্ধ করে সাজঘরে তাইজুল-শরিফুল
যে মুহূর্তে রান বাড়িয়ে নেওয়ার তাড়া থাকে ঠিক সে সময়ই আউট হয়েছেন মুশফিকুর রহিম। শেষ প্রতিষ্ঠিত ব্যাটার ৪৪.৫ ওভারে সাজঘরে ফেরার সময় স্কোর ছিল ৭ উইকেটে ২২০। শঙ্কা ছিল স্কোরটা হয়তো বেশি দূর এগোবে না। কিন্তু বোলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত তাইজুল ও শরিফুল মিলে করলেন দায়িত্বশীল ব্যাটিং। তাদের জুটিতে ১৯ রান যোগ হয়েছে। তাইজুল ১৪ রানে ফিরলে ভাঙে জুটি। একটু বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন শরিফুল। তাদের ব্যাটিংয়েই স্কোর ২৪০ রানের কাছে গেছে। তাইজুলের পর পর ১৬ রানে ফিরে যান শরিফুল ইসলামও।
ফিফটির পর আউট মুশফিক
প্রতিষ্ঠিত ব্যাটাররা লম্বা ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হলেও হাল ধরেছিলেন মুশফিকুর রহিম। তার ফিফটিতেই স্কোর দুইশ ছাড়িয়েছে। কিন্তু স্কোরবোর্ডে যখন আরও রান প্রয়োজন তখন লিটলের বলে মারতে গিয়েই ক্যাচ আউট হয়েছেন তিনি। ৪৫ তম ওভারে তার বিদায়েই পতন হয়েছে শেষ প্রতিষ্ঠিত ব্যাটারের। বিদায়ের আগে মুশফিক ৭০ বলে করেছেন ৬১। তাতে ছিল ৬টি চার।
মুশফিকের ফিফটিতে স্কোর দুইশ ছাড়িয়েছে
গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মিরাজের বিদায়ে জুটি ভাঙলেও প্রান্ত আগলে দলকে এগিয়ে নিয়েছেন মুশফিক। তার ব্যাটেই দলের স্কোর দুইশ ছাড়িয়েছে। ৬৩ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৪৪তম ওয়ানডে হাফসেঞ্চুরি। তাকে তখন যোগ্য সঙ্গ দেন বামহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম।
মিরাজের বিদায়ে ভাঙে সর্বোচ্চ জুটি
দলের বিপদে হাল ধরেছিলেন মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ। বাংলাদেশের ইনিংসের সবচেয়ে বড় জুটি গড়েন তারা। তা ভেঙে গেলো জর্জ ডকরেলের বলে। মিরাজ ক্যাচ দেন স্টিফেন ডোহেনিকে। ৩৪ বলে চারটি চারে ২৭ রানে থামেন তিনি। এই জুটিতে যোগ হয়েছে ৬৫ রান।
জীবন পাওয়া মুশফিকের সঙ্গে মিরাজের প্রতিরোধ
৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া বাংলাদেশের অবস্থা আরও গুরুতর হতে পারতো। ৩১তম ওভারের চতুর্থ বলে কাট করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছিলেন মুশফিক। কিন্তু ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দাঁড়ানো টেক্টর তা হাতেই জমাতে পারেননি। তাহলে ১৯ রানেই ফিরতে পারতেন তিনি। সেটি না হওয়ায় মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে খেলতে পারেন মুশফিক।
হৃদয়কে হারিয়ে বিপদে বাংলাদেশ
শান্তর সঙ্গে ৫০ রানের জুটির পর ভালোই অবদান রাখছিলেন হৃদয়। মুশফিকের সঙ্গে মিলে ২০ রানও যোগ করেছেন। কিন্তু সম্ভাবনাময় জুটিটি লম্বা হয়নি হৃদয়ের বাজে শট সিলেকশনে। হিউমের অফস্টাম্পের বাইরের লেংথ বল শুরুতে ডিফেন্ড করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাট বেশিদূর চালিয়েই বিপদ ডেকে আনেন তিনি। এজ হয়ে টাকারের হাতে তালুবন্দি হয়েছেন ২৭ রানে। তার ৩১ বলের ইনিংসে ছিল ২টি চার।
৫০ রানের জুটির পর শান্তর বিদায়
দলীয় ৫২ রানে সাকিবের বিদায়ের পরও প্রান্ত আগলে খেলছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তার পর তাওহীদ হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে জুটি গড়তে থাকেন তিনি। ৬২ বলে তাদের ৫০ রানের জুটিতেই ২১ ওভারে দলের স্কোর ১০০ ছাড়িয়েছে। তার পর ২ রান যোগ করেই কপাল পুড়ে তার। ক্যাম্ফারের বলে আগ্রাসী হতে দিয়ে সহজ ক্যাচে পরিণত হয়েছেন। তাতে ৬ রানের জন্য হাফসেঞ্চুরি বঞ্চিত হয়েছেন শান্ত। তার ৪৪ রানের ইনিংসে ছিল ৭টি চার।
সাকিবের বিদায়ে ভাঙে ৩৭ রানের জুটি
১৫ রানে ফিরেছেন দুই ওপেনার। ৪ ওভারের মধ্যে লিটন-তামিম আউট হওয়ায় চাপে পড়ে সফরকারীরা। সেই চাপ সামাল দিতে দারুণ অবদান রাখে সাকিব-শান্ত জুটি। তাদের ব্যাটেই পাওয়ার প্লেতে স্কোর পঞ্চাশ হয়েছে। কিন্তু বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি প্রতিরোধ। সাকিব আল হাসানের বিদায়েই ভাঙে ৩৭ রানের এই জুটি। ১২তম ওভারে হিউমের বলে আগ্রাসী হতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন এই বামহাতি। ফেরার আগে ২১ বলে সাকিব ২০ রান করেছেন। তার ইনিংসে ছিল ৪টি চার।
দুই ওপেনারের বিদায়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ
লিটন রানের খাতা খুলতে না পারলেও আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল আগ্রাসী মনোভাব ধরেই খেলতে থাকেন। যদিও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি তার প্রতিরোধ। চতুর্থ ওভারে অ্যাডায়ারের অনেক বাইরের বলে ব্যাট চালিয়ে বিপদ ডেকে আনেন। আইরিশ শিবির নিশ্চিত ছিল বলটা তামিমের ব্যাট ছুঁয়ে কিপারের গ্লাভসে জমা পড়েছে। তার পর রিভিউ নিয়েই সাফল্য পায় তারা। তামিম অবশ্য মাথা নেড়ে অবিশ্বাসের ভঙ্গিতে মাঠ ছেড়েছেন। ফেরার আগে ১৯ বলে দুই চারে ১৪ রান করেছেন তিনি। তাতে শুরুতেই দুই ওপেনার হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
গোল্ডেন ডাক লিটনের
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস হেরে ব্যাট করছে বাংলাদেশ। শুরুর ওভারেই তাদের চাপে ফেলে আইরিশরা। আইপিএল ফেরত বামহাতি পেসার জশ লিটল নিজের প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই দারুণ এক ইয়র্কারে লিটন দাসকে এলবিডাব্লিউতে আউট করেছেন। মারকুটে ওপেনার নিজের প্রথম ডেলিভারিতে আউট হওয়ায় ফিরেছেন গোল্ডেন ডাকে।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস জিতেছে আয়ারল্যান্ড। শুরুতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছে তারা।
বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, একাদশে তিন পেসার ও তিন স্পিনার নিয়ে আজ খেলতে নামছেন। তার মতে প্রথম দশ ওভারই কঠিন। তখন সুইং কমে গেলে ব্যাটিং করার জন্য দারুণ উইকেট হবে এটি।
বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, তৌহিদ হৃদয়, মেহেদী হাসান মিরাজ, শরিফুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম ও এবাদত হোসেন।
বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে না এই সিরিজ
ইংল্যান্ডের এসেক্সের চেমসফোর্ড মাঠের ম্যাচটি বাংলাদেশের কোনও টিভি চ্যানেল দেখাচ্ছে না। তবে আইসিসি টিভি বিনামূল্যে নিজস্ব ওয়েব সাইটে তা সম্প্রচার করছে। লিংক- https://app.icc.tv/live/240372/ireland-v-bangladesh-odi-1
বাংলাদেশের জন্য এই সিরিজটি তেমন গুরুত্বপূর্ণ না হলেও আয়ারল্যান্ডের জন্য তা বাঁচা-মরার লড়াই। বাংলাদেশকে ৩-০ ব্যবধানে হারাতে পারলে সেই ৩০ পয়েন্ট নিয়ে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার টিকিট কাটবে তারা। নয়তো জুনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কোয়ালিফায়ারে মুখোমুখি হতে হবে আইরিশদের। তবে বাংলাদেশের জন্য ইংল্যান্ডের বর্তমান কন্ডিশন কিছুটা কঠিন। ১ মে দেশ ছাড়লেও মাত্র একদিন পুরোদমে অনুশীলন করতে পেরেছেন ক্রিকেটাররা। বাকি দিনগুলোতে ছিল বৃষ্টির প্রভাব।









