প্রিমিয়ার লিগের শুরু থেকেই শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ও আবাহনী লিমিটেডের মধ্যে শিরোপার লড়াই নিয়ে আলোচনা হচ্ছিলো। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল বুধবার লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে হারিয়ে আবাহনীকে এক প্রকার হুমকি দিয়েই রাখলো! এই মুহূর্তে ১৫ ম্যাচে দুই দলের পয়েন্টেই ২৬। আগামী শনিবার শেষ রাউন্ডে আবাহনী ও শেখ জামাল মুখোমুখি হবে। ওই ম্যাচে যারা জিতবে তারাই চলতি আসরের শিরোপা ঘরে তুলবে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে সৈকত আলীর সেঞ্চুরির পর নুরুল হাসান সোহান, জিয়াউর রহমান ও পারভেজ রাসুলের হাফ সেঞ্চুরিতে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩৫০ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় শেখ জামাল। বড় লক্ষ্যে খেলতে নেমে রূপগঞ্জের ওপেনার হিসেবে নামেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। যদিও মাশরাফির এই বাজি কোনও কাজে লাগেনি। দলীয় ৮ রানেই মাশরাফি (৩) সাজঘরে ফেরেন। এরপর সোহাগ গাজীকে নিয়ে পারভেজ হোসেন ঈমন ৪৯ রানের ছোটখাটো জুটি গড়েন। সোহাগ ১৪ বলে ২৩ রানের ইনিংস খেলেন।
৫৭ রানে দুই উইকেট হারানোর পর ঈমনকে নিয়ে ইরফান শুক্কুর গড়ে তোলেন ৭৭ রানের জুটি। ঈমন ৬৫ বলে ২ চার ও ৫ ছক্কায় ৬৩ রানে আউট হলে আবারও বিপর্যয়ে পড়ে রূপগঞ্জ। এক প্রান্ত আগলে ধরে কেবল একাই লড়াই করে গেছেন উইকেটকিপার ব্যাটার ইরফান। ১১১ বলে ১১ চারে ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ৪৬.১ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫৫ রানে থামে মাশরাফিদের ইনিংস। ফলে ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ৫৯ রানের জয় পায় গতবারের চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল।
শেখ জামালের হয়ে ব্যাটিংয়ে অবদান রাখা পারভেজ বল হাতেও নিয়েছেন সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট। এছাড়া আরিফ আহমেদ দুটি এবং সাইফ হাসান ও শহিদুল ইসলাম একটি করে উইকেট নিয়েছেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৬ রানে দুই উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়া শেখ জামালকে পথ দেখান সৈকত আলী ও সোহান। দুজন মিলে ১১১ রানের জুটি গড়ে দলের স্কোরকে দেড়শতে নিয়ে যান। ৮১ বলে ১০ চার ও ৫ ছক্কায় ১০৮ রানের ইনিংস খেলে সৈকত সাজঘরে ফেরেন। এরপরও শেখ জামালের রানের চাকা সচল রাখেন সোহান, রবিউল ইসলাম, রাসুল ও জিয়াউর। সোহান ৭৭ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৬২ রানের ইনিংস খেলেন। রবিউল খেলেন ৫০ বলে ৪২ রানের ইনিংস। এই দুই ব্যাটারের বিদায়ের পর পারভেজ ও জিয়াউর মিলে অবিচ্ছিন্ন ৭১ রানের জুটি গড়ে দলের স্কোরকে ৩৫০ রানে নিয়ে যান। জিয়াউর ৪২ বলে ৬৪ এবং পারভেজ ২৫ বলে ৫১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। ম্যাচসেরা হয়েছেন শেখ জামালেন সেঞ্চুরিয়ান সৈকত আলী।
রূপগঞ্জের বোলারদের মধ্যে চিরাগ জানি ও জাওয়াদ রায়েন দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। নাঈম ইসলাম জুনিয়র নেন একটি উইকেট।









