টেস্ট বিশেষজ্ঞ ক্রিকেটার হিসেবে ট্যাগ লেগে গেছে তাইজুল ইসলামের। তবু সীমিত ওভারের ক্রিকেটে যখনই সুযোগ পাচ্ছেন, সেরাটা দিচ্ছেন। মঙ্গলবার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতেও এর ব্যত্যয় হয়নি। ব্যাটিংয়ে এক প্রান্ত আগলে রেখে মুশফিককে রান তোলার সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা স্টিফেন ডোহেনিকে রিটার্ন ক্যাচে সাজঘরের পথ দেখিয়েছেন। ইংলিশ কন্ডিশনে দারুণ বোলিং করা তাইজুল সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই জানালেন, সেখানে স্পিনারদের সাফল্য পাওয়া সম্ভব।
বৃহস্পতিবার বিসিবির পাঠানো ভিডিও বার্তায় তাইজুল জানিয়েছেন ইংলিশ কন্ডিশনে কীভাবে সাফল্য পাওয়া সম্ভব, ‘সাধারণত ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে পেসাররা ভালো করে থাকে। এটা সত্যি এরকম কন্ডিশনে পেস বোলাররা ভালো করে থাকে। তারপরও উইকেটের একটা বৈশিষ্ট্য থাকে। এই উইকেটে যে স্পিনাররা ভালো কিছু করতে পারবে না, তেমন না। যদি ভালো লাইন-লেন্থ বজায় রাখা যায় তাহলে সফল হওয়া সম্ভব। সাধারণ পরিকল্পনা। শুধু লাইন-লেন্থ বজায় রেখে বোলিং করলেই ব্যাটারদের চাপে ফেলা যাবে।’
২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ওয়ানডে ফরম্যাটে তাইজুল ইসলামের অভিষেক। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেকে হ্যাটট্রিক করে আলোড়নও তুলেছিলেন। কিন্তু সীমিত ওভারের ক্রিকেটে থিতু হতে পারেননি। ২০১৬ সালের পর লম্বা বিরতি দিয়ে ২০১৯ সালের অক্টোবরে ফের ওয়ানডে ক্রিকেটে ফিরেছেন। তাতে ৯ বছরের ক্যারিয়ারে মাত্র ১৬টি ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে এই বাঁহাতি স্পিনারের। অথচ সীমিত ওভারের ক্রিকেটে যখনই সুযোগ পেয়েছেন, সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
সাদা বলের ক্রিকেটে নিজের প্রস্তুতি নিয়ে তাইজুল বলেছেন, ‘সাদা বল ও লাল বলের আলাদা প্রস্তুতি বলতে...হয়তো সাদা বলে ভ্যারিয়েশনের পরিমাণটা একটু বাড়িয়ে দিতে হয়। আর আমি নরমালি যে প্রসেসটা একই রকম রাখি। টেস্ট ক্রিকেটে ওভারে দুই-একটা ভ্যারিয়েশন, এখানে ছয়টা বল ছয় ধরনের ভ্যারিয়েশনেও করা লাগতে পারে। এ জিনিসগুলোই মেইনটেইন করা। তারপরও এখানে কোচ আছেন, রঙ্গনা হেরাথ আছেন; তাদের সঙ্গে পরামর্শ করি যে এই কন্ডিশনে কোন জিনিসটা ভালো হবে।’
শুধু নিজের হাতের ঘূর্ণি জাদুতেই প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের কুপোকাত করেন না তাইজুল। প্রায় সময় দলের ক্রান্তিকালে ব্যাটারের ভূমিকাতেও ঢাল হয়ে দাঁড়ান তিনি। ইংলিশদের বিপক্ষে আগের ম্যাচে তেমনটাই দেখা গেছে। ৮ নম্বরে নেমে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ৩৭ রানের জুটি গড়েছিলেন। আউট হওয়ার আগে ১ চারে ৩৬ বল খেলে করেছেন ১৪ রান। দলের রান বাড়াতে সাহায্য করেছে তার ইনিংস। নিজের ব্যাটিং নিয়ে তাইজুল বলেছেন, ‘মঙ্গলবার যখন আর্লি উইকেট পড়ে গেলো। আমার রোল ছিল সঙ্গের ব্যাটারকে কতটুকু হেল্প করতে পারলাম তার দিকে। হয়তো আমি সেখানে অনেক ডট বল খেলেছি। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে টিমের জন্য সেটা ডিমান্ডেবল ছিল। এবং আমি মনে করি যে কিছুক্ষণ উইকেটে থাকায়, জুটি হওয়ার কারণে রানটা একটু বেড়েছে।’
তাইজুল আরও বলেছেন, ‘সবসময় ব্যাটিংটা উপভোগ করি। দলকে যতটুকু ভালো জায়গায় নেওয়া যায়। চেষ্টা করি দলকে কিছু দেওয়ার জন্য।’
সাম্প্রতিক সময়ে পেসাররা ভালো করছে বলে স্পিনারদের কাজটা আরও সহজ হয়ে গেছে। এমনটা মানেন তাইজুল নিজেও, ‘এটা ইতিবাচক আমাদের পেস বোলাররা ভালো করছে। পাঁচ-সাত ওভার বা দশ ওভারের মধ্যে পেসাররা দুইটা তিনটা উইকেট নেয়। তখন স্পিনারদের জন্য কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়। আমরা ওই সময় এসে আত্মবিশ্বাস নিয়ে বল করতে পারি।’









