সূচি চূড়ান্ত না হলেও আগামী মাসেই বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ভারতের নারী ক্রিকেট দলের। সফরে তিনটি ওয়ানডে ও সমসংখ্যক টি-টোয়েন্টি খেলবে দুই দল। ভারতীয় নারী ক্রিকেট দল শক্তি-সামর্থ্যে এগিয়ে থাকলেও অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি বাংলাদেশকেই এগিয়ে রাখছেন।
রবিবার বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসপিএ) এর বর্ষসেরা নারী ক্রিকেটার ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন পান জ্যোতি। পুরস্কার হাতে সংবাদ মাধ্যমের কাছে আসন্ন সিরিজ নিয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক বলেছেন, ‘দেখেন আমরা এখন ওয়ার্ল্ড কাপ চ্যাম্পিয়নশিপের অধীনে চলে এসেছি। তো প্রত্যেকটা দ্বিপাক্ষিক সিরিজ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকে যত পয়েন্ট অর্জন করতে পারবো, তত ২০২৫ বিশ্বকাপ খেলা সহজ হয়ে যাবে।’
পয়েন্ট প্রাপ্তি নিয়ে তার কথা, ‘২০২৫ বিশ্বকাপ খেলতে হলে আমাদের এখান থেকে অন্তত ৪ টা পয়েন্ট নিতে হবে। কারণ নিউজিল্যান্দের সঙ্গে খেলেছি, সেখানে দুইটা পয়েন্ট পেয়েছি। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কায় পেয়েছি দুই পয়েন্ট। ফলে ভারত অবশ্যই আমাদের চিন্তা ভাবনায় থাকবে। কারণ এশিয়ার দল, শক্তিশালীতো অবশ্যই। তবে আমরা ঘরের মাঠে খেলবো, এটা অবশ্যই এগিয়ে রাখবে।’
নারী দলের প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট চলছে। প্রথম দুই ম্যাচেই নিগার সুলতানা রান পেয়েছেন। প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি করে অপরাজিত ছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচে বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত ৪১ রান করে অপরাজিত ছিলেন। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে নিগার বলেছেন, ‘সবসময় চেষ্টা করি ভিন্ন কিছু করতে। এবার প্রিমিয়ার ডিভিশনে আমার লক্ষ্য স্ট্রাইক রেট নিয়ে কাজ করবো। যতটুকু রান করি যেন স্ট্রাইক রেটটা ১০০ এর বেশি থাকে।’
নিগার রূপালী ব্যাংকের হয়ে খেলছেন। প্রথম ম্যাচ জিতলেও দ্বিতীয় ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছে। এই নিয়ে কিছুটা হতাশা রয়েছে তার, ‘গত ম্যাচটাও ১-১ পয়েন্ট ভাগাভাগি হয়েছে কলাবাগানের সঙ্গে। যেটা আমার কাছে মনে হয়েছে দুঃখজনক। কারণ দুইটা দল নাম প্রত্যাহার করায় ম্যাচের সংখ্যা খুবই কম। এখানে সুপার লিগেরও কোনও ব্যবস্থা নেই। যার কারণে সবমিলিয়ে সুযোগ সুবিধাতো ভালো পাচ্ছি। কিন্তু বৃষ্টির ওপর কারও হাত নেই। চেষ্টা থাকে যখনই মাঠে নামি, দলকে চ্যাম্পিয়ন করার লক্ষ্যেই খেলি।’
ব্যাটিং ব্যর্থতা বাংলাদেশে নারী দলকে বরাবরই ভোগাচ্ছে। সর্বশেষ শ্রীলঙ্কা সফরেও নারী দলকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে স্ট্রাইক রোটেট করতে না পারার কারণে এই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে গোটা দলকে। নিগার অবশ্য আশাবাদী খুব তাড়াতাড়ি এই পরিস্থিতি বদলে যাবে, ‘আমরা কিন্তু বরাবরই স্ট্রাইক রোটেট করা নিয়ে সংগ্রাম করি। বেসিক্যালি ক্রিকেট এখন অনেক আপডেট হয়েছে, দেখা যাচ্ছে ৫০ বলেও সেঞ্চুরি হচ্ছে টি-টোয়েন্টিতে। তো আমার কাছে মনে হয় ওয়ানডেতে কেন হবে না? এই দিকটা থেকে আমরা দুই-একজন ব্যাটার যদি উন্নতি করতে পারি, আমার মনে হয় পুরো দলটার চরিত্র বদলে যাবে। দেখবেন ছেলেদের দলেও অনেকে মানিয়ে নিচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কোচিং স্টাফ থেকে পরিকল্পনা অন্তত ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে এই সংস্কৃতি শুরু করি। এখান থেকে শুরু হলে আমার কাছে মনে হয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলাটা সহজ হবে।’









