শাহাদাত হোসেন দিপুর বয়স তখন ৯। এতটুকু বয়সে বাবাকে হারান তিনি। ২০১০ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাড়িচালক আবদুস সবুর ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। শাহাদাতের পরিবার তখন মহাসংকটে। তারপরও ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নের পেছনে ছুটতে থাকেন দিপু। কিন্তু ২০১৩ সালে বিকেএসপিতে ট্রায়াল দিয়ে ব্যর্থ হলে স্বপ্নটা ভেঙে যাওয়ার মুহূর্তে সুদীপ্ত দেব নামের একজনের আগমন ঘটে তার জীবনে। চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার লিগের নিয়মিত মুখ সুদীপ্ত মা ও বড় ভাইকে বুঝিয়ে শাহাদাতকে ভর্তি করে দেন ইস্পাহানি ক্রিকেট একাডেমিতে। সেই সুদীপ্তের হাত ধরে ক্রিকেট মাঠে দীপ্তি ছড়িয়ে এখন জাতীয় দলের চৌহদ্দিতে শাহাদাত।
নিত্য অভাব-অনটনের মধ্যেও শাহাদাত ক্রিকেট মাঠ ছাড়েননি, চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। ২০২০ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী দলের অন্যতম সদস্য তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে রবিবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের দলে সুযোগ পেয়েছেন চট্টগ্রামের এই ক্রিকেটার। ১০ বছর আগে সুদীপ্তর ভূমিকা না থাকলে হয়তো শাহাদাতের ক্রিকেটার হয়ে ওঠা হতো না। অভাবের বেড়াজাল ছিন্ন করে স্বচ্ছলতার আলোর মিছিলে থাকতে পারতেন না। সবকিছুর কৃতিত্বই সুদীপ্তর।
আরও পড়ুন: অনটনের সংসারেও থামেননি শাহাদাত
নিজে স্বপ্ন দেখছিলেন বড় ক্রিকেটার হওয়ার। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি সুদীপ্তের। সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেট না খেললেও চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার লিগ খেলেছেন। পাশাপাশি চাকরি করছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ছোট ভাই শাহাদাতের জাতীয় দলে সুযোগের খবর শুনে আবেগী হয়ে উঠেছিলেন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, ‘খুব স্বাভাবিকভাবেই আমার অনুভূতিটা অন্য সবার চেয়ে ভিন্ন। তবে সেই অনুভূতি আমি কোনোভাবেই প্রকাশ করতে পারবো না। এতটুকুই বলবো, ওর স্বপ্ন, ওর মা-ভাইয়ের স্বপ্নটা পূরণ হয়েছে, এটাই আমার জন্য অনেক তৃপ্তির।’
৯ বছর বয়সেই শাহাদাতের ক্রিকেটের প্রতি অন্যরকম আবেগ ছিল। এলাকার বড় ভাইদের খেলা দেখে দেখেই তার ক্রিকেটের প্রতি নেশা জাগে। অভাব-অনটনের সংসারে যখন শাহাদাতের খেলাই বন্ধ হওয়ার জোগাড়, তখন এগিয়ে আসেন সুদীপ্ত। মূলত দিপুর সহজাত প্রতিভা মুগ্ধ করেছিল তাকে, ‘শুরুতে এত দূর পর্যন্ত ভাবা যায়ও না। তবে ওর ব্যাটিংয়ে জাদু আছে, যেই দেখবে, পছন্দ করে ফেলবে। দিপু ছিল অন্য সবার চেয়ে আলাদা। ওকে তো আমি ছোটবেলা থেকে চিনি। আমার মনে হয়েছিল ওর মধ্যে সহজাত একটা প্রতিভা আছে। আমার আসলে সেভাবে কোনও কৃতিত্ব নেই। আমি কেবল পথটা দেখিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। দিপু নিজের কাজটা ঠিকঠাক করেছে বলেই এতটুকু পথ পাড়ি দিতে পেরেছে।’
সুদীপ্ত মনে করেন সঠিক সময়েই শাহাদাত জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন, ‘দিন দিন ওর ব্যাটিংটা ভালো হচ্ছে। আমি মনে করি সঠিক সময়ে দিপুকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ম্যাচ খেলার সুযোগ না পেলেও জাতীয় দলের সাথে থেকে অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাবে সে। সঠিক সময়ে সঠিক খেলোয়াড়দের সুযোগ না দিলে ওই খেলোয়াড়দের থেকে সেরাটা পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। যদিও দিপুর এখন শেখার অনেক কিছু আছে। তবে ছেলেটার বড় ইনিংস খেলার অভ্যাস তৈরি হয়ে গেছে। ও জানে কীভাবে বড় ইনিংস খেলতে হয়।’









