২০১৫ সালে ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের বন্যা বইয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রেখেছেন লিটন দাস। দারুণ সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করলেও শুরুতে ধারাবাহিক হতে পারেননি। লিটনের ওপর তার পরেও আস্থা রেখেছিলেন আগের মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। শেষ পর্যন্ত লিটন যে সেই আস্থার মধুর প্রতিদান দিচ্ছেন- সেটাই মনে করিয়ে দিয়েছেন দ্বিতীয় মেয়াদে আসা বাংলাদেশ দলের লঙ্কান কোচ। তার কথা- ফল পাওয়ার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
ছন্দে থাকা লিটন তিন ফরম্যাটেই দারুণ সময় কাটাচ্ছেন। হাথুরুসিংহের প্রথম মেয়াদে সেরা পারফরমার হয়ে উঠতে না পারলেও দ্বিতীয় মেয়াদে শিষ্যকে ঠিকই দলের সেরা পারফরমার হিসেবে আবিষ্কার করেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গত বছর পুরো বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন। সাফল্যের ভেলায় ভেসে যার রানের ফুল ফোটানো থেমে নেই এখনও।
মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে লিটনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন হাথুরুসিংহে, ‘আমরা তাকে বাংলাদেশের তুমুল সম্ভাবনাময় হিসেবে পেয়েছিলাম সেই অল্প বয়সে। এজন্য তার ব্যাপারে আমরা স্থির ছিলাম। এখন সুফল দেখছেন।’
নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের চোটে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন লিটন। তাতে বাংলাদেশের দশম অধিনায়ক হিসেবে যাত্রা শুরু হবে তার। মাশরাফি মুর্তজা ও তামিম ইকবাল একটি করে টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি টেস্ট নেতৃত্ব দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। ৩৪ ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে মুশফিক জিতেছেন সাতটি। সাকিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল ১৯ টেস্ট খেলে জিতেছে চারটি।
সব মিলে অধিনায়কত্ব নিয়ে লিটনের অনুভূতি সামান্যই। তবে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়াটা গর্বের বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল সোমবার সংবাদ মাধ্যমকে ভারপ্রাপ্ত টেস্ট অধিনায়ক বলেছিলেন, ‘বিশেষ কিছু না। একটা ভালো লাগার ব্যাপার কাজ করে অবশ্যই। টেস্ট ক্রিকেটকে সবাই প্রধান্য দেয়। টেস্ট ক্রিকেটার হওয়াটাই অনেক বড় বিষয়। তার মধ্যে দেশের হয়ে অধিনায়কত্ব করা তো অবশ্যই গর্বের।’
প্রথমবারের মতো টেস্টে নেতৃত্ব দিলেও ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা আছে লিটনের। গত বছরের শেষ দিকে ভারতের বিপক্ষে তামিম ইকবালের চোটে ওয়ানডে সিরিজে অধিনায়কত্ব করেছেন তিনি। সেই সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। এবার হাথুরুসিংহে কোচ থাকাকালীন টেস্ট অধিনায়কত্বের অভিষেকও হচ্ছে লিটনের। তারই প্রেক্ষিতে শিষ্যকে নেতৃত্ব ও নিজের ব্যাটিংকে আলাদাভাবে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন হাথুরুসিংহে, ‘‘অধিনায়ক কেবল তার যা করার সেটাই মাঠে করে, ব্যাটিংয়ের সময় কিছু না। আমি সব সময় আমার অধিনায়কদের বলি- ‘তুমি দলের সেরা ব্যাটার। যখন অন্য দশজনের সঙ্গে থাকো, তখন তুমি অধিনায়ক।’ কাজেই ভূমিকাটা ভাগ করার বিষয় আছে।’’
এদিকে, লাল বলের ক্রিকেটের অধিনায়কত্ব নিয়ে মনের মধ্যে কোনও ধরনের সংশয় নেই বলে জানিয়েছেন লিটন, ‘এরকম কোনও কিছুই ছিল না। এমনও হয়েছে যে সাকিব ভাই মাঠের বাইরে গেছেন, তখন আমাকে ১-২ ওভার হলেও অধিনায়কত্ব করতে হয়েছে। এটা নিয়ে তাই চিন্তা হচ্ছে না।’
২০১৭ সালে নিউ জিল্যান্ড সফরে মূল স্কোয়াডের বাইরে থেকে নাজমুল হোসেন শান্ত, এবাদত হোসেনকে নিয়ে গিয়েছিলেন হাথুরুসিংহে। সেই সফরে নাটকীয়ভাবে অভিষেক হয়ে যায় শান্তর। শিক্ষা সফরে যাওয়া শান্ত, এবাদতরা এখন দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার। প্রতিভা খুঁজে পাওয়া ও নিজের সিদ্ধান্তে অটুট থাকার প্রসঙ্গ তুলে ধরে হাথুরুসিংহে বলেছেন, ‘শুধু কেবল সে (লিটন দাস) নয়। আপনি যদি অন্য খেলোয়াড়ও দেখেন, ২০১৭ সালে আমরা যখন নিউ জিল্যান্ড সফর করলাম, আমি দু’জন বাড়তি খেলোয়াড় নিয়ে গিয়েছিলাম। এবাদত (হোসেন) ও (নাজমুল হোসেন) শান্ত। এখন দেখছেন তাদের সুফল। তারা দলে নেতার ভূমিকায় আছে। এভাবেই আমরা খেলোয়াড় তৈরি করছি।’
হাথুরুসিংহে আরও যোগ করে বলেছেন, ‘এক দুই ম্যাচে পারফর্ম না করলে ছুঁড়ে ফেলা নয়। আপনি যদি প্রতিভা খুঁজে পান, তাহলে স্থির থাকতে হবে। সম্ভাবনা থেকে ফল পাওয়ার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’








