একমাত্র টেস্টের প্রথম ইনিংসে আফগানিস্তানকে ১৪৬ রানে অলআউট করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল পেসার এবাদত হোসেনের। তার বাউন্স, ইনসুইং, আউটসুইংয়ে ভড়কে যায় সফরকারী ব্যাটাররা। তাতে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়বারের মতো নিতে পারতেন ৫ উইকেট! কিন্তু শেষ দিকে দুই স্পিনার দিয়ে আক্রমণ সাজানোয় সেই সুযোগ পাননি তিনি। তাতে অবশ্য আফসোসও নেই।
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে এবাদত হোসেন সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেখানেই জানান সাফল্যের রহস্য।
বাংলাদেশ ৩৭০ রানের লিড নিতে পেরেছে বোলারদের সাফল্যেই। আর তাতে বড় কৃতিত্ব এবাদত হোসেনের। আফগানিস্তানের বিপক্ষে বোলিং পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমি যে উইকেটগুলো পেয়েছি সেগুলো টানা বাউন্স করার ফলে হয়নি। ব্যাটারের সামনে বল করে সেটআপ করেছি। তার পর সারপ্রাইজিং বাউন্সার দিয়েছি। জিনিসটা হচ্ছে আগে দেখা যেত ইনসুইং, আউটসুইংয়ে এরকম ওভারে দুই/তিনটা বাউন্সার করতাম। এখন ব্যাটারকে বিভ্রান্ত করা বোলিং আস্তে আস্তে আয়ত্ত্ব করছি। ফলে ব্যাটারকে সেটআপ করে সারপ্রাইজিং বাউন্সার করেছি, যেহেতু উইকেটের সাহায্য ছিল।’
গত বছর নিউ জিল্যান্ডে ৬ উইকেট নিয়ে ঐতিহ্যাসিক ম্যাচ জয়ের নায়ক ছিলেন এবাদত। আফগানদের বিপক্ষেও এবাদতের সুযোগ ছিল আরও একবার ৫ উইকেট তুলে নেওয়ার। শেষ পর্যন্ত হয়নি বলে সেটি নিয়ে আফসোস নেই তার, ‘না, আলহামদুলিল্লাহ। পাঁচ উইকেট হয় নাই তো কী হয়েছে। তবে আমরা দুই ওভার পেছনে ছিলাম, যদি পিছিয়ে থাকি তাহলে তো সমস্যা। সেজন্য ক্যাপ্টেন চেয়েছে দুই পাশ থেকে দুজন স্পিনার দিয়ে শুরু করতে। যেহেতু টিম ফার্স্ট সেদিক দিয়ে ঠিক আছে। ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে আমার কাছে দলের চাওয়াটা বড় বিষয়।’
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস বিভাগে কার্যকরী ভূমিকা রাখছেন এবাদত। জানিয়েছেন এই মুহূর্তে পেসারদের ডমিনেটিং মানসিকতা আয়ত্ত্ব করার চেষ্টা করছেন তারা, ‘শেষ তিন বছর ধরে আমাদের পেস ডিপার্টমেন্ট বেশ ভালো উন্নতি করছে। চেষ্টা করছি উন্নতির গ্রাফটা ওপরের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আমার কাছে মনে হয়, এই জিনিসটা যদি ধারাবাহিকভাবে করতে পারি…করতে পারি কি, করবো ইনশাল্লাহ। বিশ্ব ক্রিকেটে এখন ফার্স্ট বোলিংয়ে ডমিনেটিং মানসিকতা আয়ত্ত্বে নেওয়ার চেষ্টা করছি।’
সবুজ উইকেটে মিরপুরে খেলার খুব বেশি অভ্যাস নেই বাংলাদেশের। তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এমন উইকেটে খেলার সুযোগ পেয়ে নিজেদের চেনার সুযোগ পাচ্ছে তারা। তাতে ভবিষ্যতের জন্য কোনও বার্তা দেওয়া হলো কিনা এমন প্রশ্নে এবাদত বলেছেন, ‘দেখেন উইকেটটা অনেক ভালো, আমরা তিনটা ফার্স্ট বোলার খেলছি, ভালোও করেছি। এখনও ম্যাচটা শেষ হয়নি, মাত্র একটা ইনিংস বোলিং করেছি। দেখা যাক সেকেন্ড ইনিংসে এই ছন্দটা ধরে রাখতে পারি কিনা। জিনিসটা হচ্ছে আমরা তিনজনই (তিন পেসার) আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে ভালো কিছু করবো, ভালো শুরু এনে দিবো। চেষ্টা করেছি, উইকেটটা যেহেতু আমাদের পক্ষে আছে, এটা তিনজন মিলে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি।’









