ওয়ানডে সিরিজে নিচের দিকে চাহিদা অনুযায়ী ব্যাটিং করতে ব্যর্থ হচ্ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। তারপর তো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজে ব্যর্থ হয়ে বাতিলের খাতায় পড়ে গেছেন। নির্বাচকরা তখন জানিয়েছিলেন, বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে এই ক্রিকেটারকে। যদিও বিশ্রামের আড়ালে এই অলরাউন্ডার এখন ব্রাত্যই বলা চলে। এরপরও এশিয়া কাপ থেকে মাহমুদউল্লাহর বাদ পড়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ মাহমুদউল্লাহর বাদ পড়াকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেখানেই মাহমুদউল্লাহর বাদ পড়াসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন সাবেক এই অধিনায়ক। সুজন মনে করেন, অবসর নেওয়ার সাহস থাকাটা জরুরি, ‘(অবসর নেওয়ার সাহস) আমার তো ছিল। আমি তো অবসর নিয়েছি। বুঝতে পেরেছি এখন আমার সময় শেষ। আমি যদি না ছাড়ি, নতুনরা কীভাবে আসবে। এটা ক্রিকেটারদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কোন সময় বিদায় বলার সঠিক সময়। এটা খুব কঠিন। আমিও ওই মুহূর্তটা পার করেছি। আমার যেটা ভালোবাসার, সেটা ছেড়ে দিয়েছিলাম।’
এই প্রজন্মের ক্রিকেটাররা কেন ছাড়তে চান না এই প্রশ্ন রেখেছেন সুজন, ‘আমরা তো আর মাহমুদউল্লাহদের মতো এত পেশাদার ছিলাম না। এখনকার মতো এত টাকা ক্রিকেট খেলে পেতাম না। খুব অল্প টাকায় খেলেছি। তখন ক্রিকেট আমাদের ভালোবাসা ছিল। সেটা ছাড়তে পেরেছি। জানি না, এই প্রজন্মের ছেলেরা কেন ছাড়তে চায় না, ছাড়ার সাহসটা তাদের আসে না। তবে একটা সময় আপনাকে ছাড়তে হবে। আকরাম ভাই ছেড়েছেন, নান্নু ভাই বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন, তিনিও ছেড়েছেন। হাবিবুল বাশার, একটা সময় তাকে মিস্টার ফিফটি বলা হতো, বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব করেছে, অনেক রান করেছে, সেও ছেড়েছে। স্টুয়ার্ট ব্রড কি এখনও খেলতে পারতো না? তো সে ছাড়লো কেন? আমার কথা এটাই। আপনাকে জানতে হবে, কখন থামতে হবে।’
সুজন আরও বলেন, ‘যদি মনে করে আমার আরও খেলা উচিত, ২-৩ বছর খেলতে পারবো। ঠিক আছে, কোনও অসুবিধা নেই। তবে আপনি তখন এটা বলতে পারবেন না যে আমাকে বাদ দিতে পারবেন না। ফর্ম না থাকলে বাদ আপনি পড়তেই পারেন।’
বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে নতুন নতুন ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়ার বিকল্প দেখেন না সুজন, ‘আমি সবসময় বলি, একটা সময় অভিজ্ঞতার মূল্য অনেক বেশি। তবে এটাও গুরুত্বপূর্ণ, নতুন কেউ না এলে, একটা দল গড়ার অবস্থায় না গেলেও হবে না। আমাদের দলটা আজকে এই জায়গায় নিয়ে আসার পেছনে মাশরাফি, সাকিব, মাহমুদউল্লাহ, তামিম, মুশফিকদের অবদান অনেক। কিন্তু এরা তো সারা জীবন বাংলাদেশ দলে খেলবে না। মাশরাফি খেলছে না। মুশফিক টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট ছেড়ে দিয়েছে। তামিম ছেড়ে দিয়েছে একটা ফরম্যাট। এভাবে আস্তে আস্তে সবাইকে গুটিয়ে আনতে হবে। ওরা গুটিয়ে গেলে যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যাবে, তা কিন্তু না। আমরা তো স্বপ্ন দেখা বন্ধ করতে পারবো না। আমাদের তো নতুন ক্রিকেটার আনতে হবে। তামিমরাও তো অনেকেই এই বয়সের আগেই জাতীয় দলে অভিষেক করেছে, এটা ভুলে গেলে চলবে না। সুতরাং সুযোগ আমাদের সবাইকে দিতে হবে। কোচ হিসেবে আমার পছন্দ-অপছন্দ থাকাই স্বাভাবিক।’









