আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়ে গেলো যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের। বাঁহাতি ওপেনার তামিম ইকবালের ইনজুরির কারণেই মূলত এশিয়া কাপের স্কোয়াডে সুযোগ হয় তার। লিটন দাস জ্বরে আক্রান্ত না হলে হয়তো আরও কিছুদিন অপেক্ষায় থাকতে হতো। কিন্তু বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নাঈম শেখের সঙ্গে ক্যান্ডিতেই ১৪৩ নম্বর ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক হলো বাঁহাতি ওপেনার জুনিয়র তামিমের। কিন্তু অভিষেক রাঙাতে পারেননি। মাত্র ২ বল খেলে শূন্য হাতে বিদায় নেন তিনি।
এমনিতে ওপেনিংয়ে ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশনই পছন্দ বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টের। কিন্তু লিটন না থাকায় সেটি করা সম্ভব হয়নি। কেননা ডানহাতি টপ অর্ডার ব্যাটার এনামুল হক বিজয় মাত্রই দলের সাথে যোগ দিয়েছেন। এছাড়া স্কোয়াডে থাকা বাকি দুই ব্যাটারের দুজনই বাঁহাতি। ফলে এবার আর ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশনে ওপেনিং পজিশন ঠিক করা যায়নি।
বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে বিভিন্ন ধাপ পেরিয়েই জাতীয় দলের হয়ে পথ চলা শুরু হলো তানজিদ তামিমের। তবে তার ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নের বীজ বোনা শুরু হয়েছিল তৃতীয় শ্রেণিতে থাকতে। ২০১৬ সালের আগে পর্যন্ত বগুড়া জেলার হয়ে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে খেলেছেন। এরপর ২০১৭ সালে রাজশাহীর বাংলা ট্র্যাক ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি হন। সেখান থেকে উত্তরা ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে প্রথম বিভাগে অংশ নেন। তবে সবকিছু ছাপিয়ে ২০১৯ সালে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে ১১৩ বলে ১১৭ রানের ইনিংসের পর থেকেই আলোচনায় তিনি। বাংলাদেশের হয়ে যুব বিশ্বকাপ জেতার মিশনে জুনিয়র তামিমের বেশ কিছু দারুণ ইনিংস রয়েছে।
সেই ধারাবাহিকতায় বড়দের ক্রিকেটে আলো ছড়িয়েছেন এই তরুণ। সর্বশেষ শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ইমার্জিং এশিয়া কাপে দারুণ পারফরম্যান্স আর সাবেক অধিনায়ক তামিমের ইনজুরিই এশিয়া কাপে সুযোগ করে দেয় তাকে।
২০২০ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের সর্বশেষ সদস্য হিসেবে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন তানজিদ। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের পারদর্শী তিনি। অনেকটা তরুণ বয়সে অভিজ্ঞ তামিমের মতোই ব্যাটিং করতে পারেন তিনি। গত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে তানজিদ ১১ ম্যাচ খেলেন। ২টি সেঞ্চুরি, ১টি হাফ সেঞ্চুরিসহ রান করেছেন ৪৭৪। স্ট্রাইক রেট ৯৩.৩০। কয়েকদিন আগে হয়ে যাওয়া ইমার্জিং এশিয়া কাপেও ছিলেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সেরা ব্যাটার তিনি। ৪ ম্যাচে তিন হাফ সেঞ্চুরিতে ১৭৯ রান করেছেন তানজিদ। স্ট্রাইক রেট ১১৬.৯৯।
তাইতো এশিয়া কাপে সুযোগ দিয়ে তানজিদকে নিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠ প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর, ‘তামিমকে নিয়ে আমরা নির্বাচকরা যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। কারণ ওকে এইচপিতে অনেক নার্সিং করা হয়েছে। শেষ ইমার্জিং কাপেও কিন্তু যথেষ্ট ভালো পারফর্ম করেছে। আমরা আশাবাদী ইনশাআল্লাহ ও (তানজিদ তামিম) দেশের জন্য ভালো কিছু দেওয়ার অপেক্ষা করছে।’
তামিমকে নিয়ে প্রশংসা করেছিলেন সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজনও, ‘আমি সিনিয়র তামিমের ছোটবেলা যদি মনে করি, ও যেরকম ব্যাটিং করতো জুনিয়র তামিম এরকমই ব্যাটিং করে। তানজিদ তামিমের এটাই স্টাইল। ও যদি এটা ধরে রাখে, আমি চাই ও রাখুক। ও যেন খুব একটা না বদলায়।’
আস্থার প্রতিদান শুরুতে দিতে পারলেন না তানজিদ তামিম। তবে সামনে সুযোগ পেলে নিশ্চয় সেটা কাজে লাগাতে চাইবেন তিনি।









