যে কোনও টুর্নামেন্টের স্বাগতিক দল মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়তি সুবিধা! এই যেমন চিরচেনা পরিবেশ,মাঠ ও দর্শকসহ আরও অনেক কিছু। এবার ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারত যেমন স্বাগতিক হয়ে আশার বেলুন দ্বিগুণ ফুলিয়ে রেখেছে। শুধু ভারত কেন আরও একটি দলের কথা ভুলে গেলেও চলবে না! একটু অবাক হচ্ছেন? আরও অবাক হবেন যখন শুনবেন দলটির নাম আফগানিস্তান!
হ্যাঁ, স্বাগতিক নয়। কিন্তু ভারতেই স্বাগতিকদের অনেক সুবিধা পাচ্ছে একসময়ের যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটি। বিশেষ করে চিরচেনা পরিবেশে খেলার সুবিধা। নিরাপত্তাজনিত কারণে নিজ দেশে খেলতে কিংবা অনুশীলন করতে না পারায় ২০১৬ সাল থেকে ভারতে স্থায়ী ঘাঁটি গেঁড়েছে আফগানিস্তান ক্রিকেট দল। মানে ২০১৬ সালে প্রথম হোম ভেন্যু ছিল গ্রেটার নয়ডা, ২০১৮ সালে দেরাদুন; পরের বছর থেকে লখনউর একানা স্টেডিয়াম হয়েছে হোম ভেন্যু!
তাই আজ থেকে বাংলাদেশের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপ অভিযানে অন্তত এই দিক দিয়ে এগিয়ে নবী -মুজিবরা। শুধু কি তাই। এই মুহূর্তে টি টোয়েন্টির সেরা লিগ আইপিএলে আফগানদের সাতজন দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তারা হলেন- রহমানউল্লাহ গুরবাজ, ফজল হক ফারুকী, রশিদ খান ও নাভিন উল হক, নূর আহমেদ, মুজিব উর রহমান ও মোহাম্মদ নবী। ফলে ভারতকে নিজেদের 'সেকেন্ড হোম' বানিয়ে ফেলা আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতার ঝুলি কম নয়।
অন্য দিকে, বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেটে বড় শক্তির দেশ হলেও ভারতের পরিবেশে খেলার অভিজ্ঞতা আফগানদের মতো নয়। একে তো সেখানে থেকে খেলার প্রয়োজন পড়েনি। তারওপর সাকিব, মোস্তাফিজ ছাড়া কারও সাম্প্রতিক সময়ে আইপিএলে খেলার তেমন অভিজ্ঞতা নেই। তাই ধর্মশালায় মাঠে নামার আগে নিজেদের চিরচেনা পরিবেশে খেলার আত্মবিশ্বাসটা আফগানিস্তানের একটু বেশি।
যদিও ২০১৫ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ১৫ ম্যাচ খেলে মাত্র একটি জয় তাদের। দুই বিশ্বকাপ খেলে টানা ১২ ম্যাচ হেরেছে তারা। কিন্তু গত আসরে ৯ ম্যাচের সবগুলো হেরেও আফগানিস্তান চার বছর পর আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থেকে মাঠে নামছে। বাংলাদেশের মুখোমুখি হওয়ার আগে উজ্জীবিতও গোটা দল। দুই দলের ১৫ ম্যাচ হয়েছে। বাংলাদেশ জিতেছে ৯টি, ৬টি আফগানরা। সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে ওয়ানডে সিরিজ জিতেও গেছে তারা। যদিও সবশেষ লড়াইয়ে এশিয়া কাপে হেরেছে আফগানিস্তান।
দলের অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদী তো পরিসংখ্যানের দিকে তাকাচ্ছেন না। ২০১৬ সাল থেকে ভারত তাদের হোম ভেন্যু হওয়ায় কন্ডিশন তাদের নখদর্পণে। দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় আইপিএলে খেলায় এবারের বিশ্বকাপ স্মরণীয় একটি টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে বলে মনে করেন আফগান তারকা, ‘আমাদের একাধিক খেলোয়াড় আইপিএলে খেলেছে। অন্য খেলোয়াড় যারা আইপিএলে খেলেনি, তারাও এই কন্ডিশনে খেলেছে কারণ ভারত আমাদের হোম ভেন্যু। কন্ডিশন সম্পর্কে জানি। তাই পুরো টুর্নামেন্টে আমরা সেই সুবিধা পাবো।’
সাম্প্রতিক অতীত বলছে টানা তিন স্বাগতিক দল শিরোপা জিতেছে। সেই জায়গায় ভারত এবার হট ফেভারিট। আফগানরা শিরোপা লড়াইয়ে থাকুক বা না থাকুক; চিরচেনা পরিবেশে সাধ্যমতো লড়াই করবে সেটা অনুমান করা যায়।
তাই আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হচ্ছে সাকিব আল হাসানের দলকে। এমনিতে প্রত্যাশার বেলুন ফুলিয়ে গেছেন তারা। শুরুতে লক্ষ্য সেমিফাইনাল। তাই শুরুটা ভালো হতেই হবে।









