ভারতের বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হয়তো শিরোপা প্রত্যাশীদের তালিকায় কেউ রাখেনি। অথচ সেই দলটা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ে ম্যাচ জিতে সবাইকে অবাক করে দিয়েছে। অনবদ্য ব্যাটিং নৈপুণ্যে শ্রীলঙ্কাকে হারানোর পর দ্বিতীয় ম্যাচে তাদের সামনে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। আজ বৃহস্পতিবার লখনউতে কি আরও একটি হাই স্কোরিং ম্যাচ হতে যাচ্ছে? ম্যাচটা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর আড়াইটায়।
ওয়ানডেতে চারশো ছাড়ানোতে পারদর্শী প্রোটিয়া দল। কিন্তু বিশ্বকাপে এলে বার বার হতাশার জন্ম দেয় তারা। আটবারের চেষ্টায় কখনও ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যেসব ম্যাচ তাদের জেতার কথা ছিল সেসব হেরে ‘চোকার্স’ তকমাটা ভালোভাবেই প্রতিষ্ঠিত করে নিয়েছে!
কিন্তু টুর্নামেন্টে তাদের এমন সূচনা অজিদের দুশ্চিন্তার কারণ। অস্ট্রেলিয়া ভারতের কাছে প্রথম ম্যাচে ১৯৯ রানে অলআউট হয়ে ম্যাচটা বাজেভাবে হেরেছে। আজ অবশ্য হাই স্কোরিং ম্যাচ প্রত্যাশা করছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, ‘আমার মনে হয় স্টয়নিস এবং আরও যাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাতে আইপিএল থেকে উইকেটটা সম্পূর্ণ ভিন্ন কন্ডিশনে আছে। অবশ্যই উইকেটটা দারুণ মনে হয়েছে। ভালো উইকেট হলে, যেটা দেখে মনে হয়েছে তাতে বেশির ভাগ ম্যাচেই স্কোরটা ৩০০ প্লাস হচ্ছে। এখানে অবশ্যই পেস আর বাউন্স থাকবে। বাকিটা ম্যাচের সময় বোঝা যাবে।’
অস্ট্রেলিয়ার দুশ্চিন্তার অন্যতম কারণ প্রোটিয়াদের টপ অর্ডার। কুইন্টন ডি কক, রাসি ফর ডার ডুসেন ও এইডেন মারক্রামরা প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছেন। তার মধ্যে মারক্রাম করেছেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রুততম সেঞ্চুরি। অবশ্য লঙ্কানদের বোলিং আক্রমণও এমন আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের জন্য দায়ী ছিল। তবে প্রোটিয়ারা সম্প্রতি অজিদের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ওয়ানডে সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে জেতায় ম্যাচটা জমজমাট হওয়ার আভাস মিলছে। অস্ট্রেলিয়া দলটা আবার আজ উজ্জীবিত হয়ে ওঠার রসদ পাচ্ছে অলরাউন্ডার মার্কাস স্টয়নিস চোট থেকে ফেরায়।
এক নজরে
*দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ৫৪-৫০! কিন্তু বিশ্বকাপের বেলায় কিছুটা এগিয়ে অস্ট্রেলিয়াই। ৬ বারের দেখায় অজিদের জয় তিনটি। প্রোটিয়ারা জিতেছে দুটি, আর টাই একটি।
* দুই দলের লড়াইয়ে এখনও খেলছেন এমন ব্যাটারদের মধ্যে বেশি রান করেছেন অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার। ২৮ ম্যাচে তার রান ১ হাজার ২১৩। গড় ৪৩.৩২।
* বিস্ফোরক ওপেনাররা থাকার পরেও গত চার বছরে দক্ষিণ আফ্রিকার মিডল অর্ডারই সর্বোচ্চ রেটে রান তুলেছে (৬.৪)। তাদের গড় ৪৪.৬। একই সময়ে তুলনায় অজিদের ৫.৪০ রান রেটে গড় ছিল ২৯.৯।









