বাংলাদেশ বড় ব্যবধানে হারলেও শোভা ছড়ালেন মাহমুদউল্লাহ

স্পোর্টস ডেস্ক
২৪ অক্টোবর ২০২৩, ১৪:০৬আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৩, ২৩:৩৪

সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ৪৬.৪ ওভারে ২৩৩/১০ (শরিফুল ৬*, মোস্তাফিজ ১১, মাহমুদউল্লাহ ১১১, হাসান ১৫, নাসুম ১৯, মিরাজ ১১, লিটন ২২, মুশফিক ৮, সাকিব ১, তানজিদ ১২, শান্ত ০)

দক্ষিণ আফ্রিকা ৫০ ওভারে ৩৮২/৫ (ইয়ানসেন ১*, মিলার ৩৪*, হাইনরিখ ক্লাসেন ৯০, ডি কক ১৭৪, হেন্ড্রিকস ১২, ফন ডার ডুসেন ১, এইডেন মারক্রাম ৬০)

ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ১৪৯ রানে জয়ী।

৩৮৩ রানের লক্ষ্য। রেকর্ড রান তাড়া করে জিততে হতো বাংলাদেশকে। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস শেষেই তাই বাংলাদেশের হার অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। তবুও দেখার বাকি ছিল কেমন লড়াই জমিয়ে তুলতে পারেন সাকিব আল হাসানরা। একশ করার আগেই ৬ উইকেট হারানোর পর রেকর্ড ব্যবধানে হার চোখ রাঙাচ্ছিল তাদের। দক্ষিণ আফ্রিকাও সহজ জয়ের অপেক্ষায় ছিল, কিন্তু বাধ সাধেন মাহমুদউল্লাহ। ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে নান্দনিক শটে লড়াই চালিয়ে যান তিনি। একটা সময় বাংলাদেশের লক্ষ্য পূরণের চেয়ে তার সেঞ্চুরিটাই ড্রেসিংরুমে বড় প্রত্যাশায় রূপ নেয়। সফল হন ডানহাতি ব্যাটার। বাংলাদেশ প্রত্যাশিতভাবে হেরেই গেছে, নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৪৯ রানের ব্যবধানে। কিন্তু তাতে শোভা ছড়ালেন মাহমুদউল্লাহ।

১১১ বলে ১১১ রানের ইনিংস খেলেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটার। তাকে উপযুক্ত সঙ্গ দেন টেল এন্ডারে থাকা নাসুম আহমেদ, হাসান মাহমুদ ও মোস্তাফিজুর রহমান। নবম উইকেটে ৬৮ রানের সেরা জুটি গড়েন মোস্তাফিজ ও মাহমুদউল্লাহ। নবম ব্যাটার হিসেবে তিনি আউট হন। তারপর মোস্তাফিজ আউট হতেই ৪৭তম ওভারে ২৩৩ রানে অলআউট বাংলাদেশ।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন জেরাল্ড কোয়েটজে। দুটি করে পান মার্কো ইয়ানসেন, কাগিসো রাবাদা ও লিজাড উইলিয়ামস। 

৫ ম্যাচে চার জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা। আর বাংলাদেশ টানা চতুর্থ হারে মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে দশ দলের মধ্যে সবার শেষে। 

মুগ্ধতা ছড়িযে থামলেন মাহমুদউল্লাহ

৩৮৩ রানের লক্ষ্যে নেমে বাংলাদেশ যেন রেকর্ড ব্যবধানে হারের শঙ্কায় পড়েছিল। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ তার অভিজ্ঞতা দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘাম ছুটালেন। এমনকি সেঞ্চুরিও করে ফেললেন দারুণ সব শট খেলে। ১০৪ বলে ১০ চার ও ৪ ছয়ে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছালেন তিনি। টেল এন্ডারদের নিযেই শেষ পর্যন্ত লড়াই করে গেছেন ডানহাতি ব্যাটার। মোস্তাফিজুর রহমানকে সঙ্গে তার নবম উইকেটের জুটি পঞ্চাশ ছাড়িয়ে গেছে। নিজের সর্বোচ্চ ১২৮ রানকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু পারেননি। জেরাল্ড কোয়েটজের স্লো বলে মার্কো ইয়ানসেনের ক্যাচ হন। ৪৬তম ওভারে ১১১ বলে ১১ চার ও ৪ ছয়ে ওয়ানডেতে দ্বিতীয় সেরা ১১১ রান করেন তিনি। মোস্তাফিজের সঙ্গে ইনিংস সেরা ৬৮ রানের জুটি ছিল তার।

নো বলে জীবন পেলেন মাহমুদউল্লাহ, বাংলাদেশের দুইশ

৪২তম ওভারের তৃতীয় বল মিডউইকেটে লুফে নিলেন দক্ষিণ আফ্রিকান ফিল্ডার। বল কোমর উঁচুতে হওয়ায় নো বল ডাকলেন আম্পায়ার। দুটি রান যুক্ত হলো, বাংলাদেশ পৌঁছালো দুইশ রানে। এর আগে লিজাড উইলিয়ামসের হাত ফসকে মাহমুদউল্লাহ জীবন পান ৭৪ রানে। 

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি গড়ে হাসানের বিদায়

লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের কাছ থেকে ভালো সঙ্গ পাচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ। নাসুম আহমেদ তার সঙ্গে ইনিংস সর্বোচ্চ ৪১ রানের জুটি গড়েন। এবার হাসান মাহমুদ অষ্টম উইকেটে এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৭ রানের জুটি গড়ে ফিরে গেলেন। ১৫ রান করে তিনি কাগিসো রাবাদার বলে জেরাল্ড কোয়েটজেকে ক্যাচ দেন।

মাহমুদউল্লাহর হাফ সেঞ্চুরিতে লড়ছে বাংলাদেশ

২৭তম ওভারে জেরাল্ড কোয়েটজেকে চার মেরে দলীয় স্কোর একশ পার করেন মাহমুদউল্লাহ। দলের বিপর্যয়ের মধ্যে ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে হাফ সেঞ্চুরিও করেছেন তিনি ৬৭ বল খেলে। নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে অপরাজিত ৪১ ও ৪৬ রান করার পর এই বিশ্বকাপে প্রথম ও ক্যারিয়ারের ২৮তম ফিফটি করলেন মাহমুদউল্লাহ। এরই মধ্যে ৭ উইকেট পড়ে গেছে বাংলাদেশের। সবশেষ নাসুম আহমেদ টানা দুটি চার মেরে ২৯তম ওভারে কোয়েটজের শিকার হয়েছেন। দলীয় ১২২ রানে তিনি প্রোটিয়া পেসারকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে থামেন। ১৯ বলে ১৯ রান করেন নাসুম। বাংলাদেশের ইনিংসের সর্বোচ্চ ৪১ রানের জুটি গড়েন দুজন।

মহারাজের শিকার মিরাজ

৮১ রানে বাংলাদেশ ছয় উইকেট হারালো। ২২তম ওবারের শেষ বলে কেশব মহারাজের কাছে উইকেট হারান মেহেদী হাসান মিরাজ্। ১১ রান করে তিনি ডিপ স্কয়ার লেগে ফেলুকোয়ায়োর ক্যাচ হন। 

বাংলাদেশের দুঃখ বাড়িয়ে লিটনের বিদায়

৫৮ রানে পাঁচ উইকেট হারালো বাংলাদেশ। টপ অর্ডারের পাঁচ ব্যাটারের মধ্যে সর্বোচ্চ ২২ রান করে কাগিসো রাবাদার শিকার তিনি। ৪৪ বল খেলে বাংলাদেশি ওপেনারের ৩ চার ও ১ ছয়ের ইনিংস থামে এলবিডব্লিউ হয়ে।

মুশফিকও হাল ধরতে পারেননি

১২তম ওভার শেষ না হতেই বাংলাদেশের ছয় নম্বর ব্যাটারকে নামতে হলো। ব্যাটিং অর্ডারের নির্ভরযোগ্য ব্যাটার মুশফিকুর রহিমের বিদায়ের পর ক্রিজে মাহমুদউল্লাহ। দলের ৪২ রানে চতুর্থ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম থামলেন বদলি ফিল্ডার ফেলুকোয়ায়োকে ক্যাচ দিয়ে। ১৭ বলে ৮ রান করে জেরাল্ড কোয়েটজের শিকার তিনি।

মুশফিককে থামালেন কোয়েটজে পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশ হতাশ করলো

পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশ হতাশ করলো। ১০ ওভারে তারা সংগ্রহ করেছে ৩৫ রান, তাও তিন উইকেট হারিয়ে। ৮ বলের মধ্যে তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত ও সাকিব আল হাসান পেছনে হাইনরিখ ক্লাসেনের গ্লাভসে ধরা পড়েন। বিনা উইকেটে ৩০ রান করা বাংলাদেশ ৩১ রান করে ৩ উইকেটের বিনিময়ে। পরপর তানজিদ ও শান্তকে আউট করেন মার্কো ইয়ানসেন। লিজাড উইলিয়ামস সাকিবকে ফেরান।

১ রানের বিনিময়ে তিন উইকেট হারালো বাংলাদেশ

সপ্তম ওভারের প্রথম বলে মার্কো ইয়ানসেনের শর্ট ডেলিভারি তানজিদ হাসান তামিমের গ্লাভস ছুঁয়ে হাইনরিখ ক্লাসেনের গ্লাভসে ধরা পড়ে। দলীয় ৩০ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। ১২ রান করে ফিরে যান বাংলাদেশি ওপেনার। পরের বলেই ক্লাসেনের কাছে কট বিহাইন্ড হন নাজমুল হোসেন শান্ত। গোল্ডেন ডাক মারেন তিনি। আট বলের মধ্যে বাংলাদেশ তৃতীয় উইকেট হারায়। পরের ওভারে লিজাড উইলিয়ামস ১ রানে সাকিব আল হাসানকে ক্লাসেনের তৃতীয় ক্যাচ বানান। চার বল খেলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। বিনা উইকেটে ৩০ রান করা বাংলাদেশ ৩১ রানে হারালো তিন উইকেট।

৩৮৩ রানের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সতর্ক শুরু

৩৮৩ রানের বিশাল লক্ষ্যে নেমে সতর্ক শুরু করেছে বাংলাদেশ। লিটন দাস ও তানজিদ হাসান তামিমের উদ্বোধণী জুটি ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান তুলেছে। এই সময়ে একমাত্র বাউন্ডারি হয়েছে তৃতীয় ওভারে লিটনের ব্যাটে।

তানজিদকে ফেরান ইয়ানসেন বাংলাদেশকে ৩৮৩ রানের লক্ষ্য দিলো দক্ষিণ আফ্রিকা

এই বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচের চারটিতে আগে ব্যাট করে দক্ষিণ আফ্রিকা সবগুলোতেই তিনশ ছাড়ালো। শুধু নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পরে ব্যাটিং করে সেই ম্যাচে হার মানে প্রোটিয়ারা। তাই বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান চাইছিলেন, তিনি যেন টসে জেতেন। তার চাওয়া পূরণ হয়ণি। টসে জিতে প্রত্যাশিতভাবে আগে ব্যটিংয়ে নেমে প্রোটিয়ারা করলো তিনশর বেশি রান। কুইন্টন ডি ককের ঝড়ো সেঞ্চুরির সঙ্গে এইডেরন মারক্রাম ও হাইনরিখ ক্লাসেনের ব্যাটিং তাণ্ডবে ৩৮২ রান করলো তারা ৫ উইকেটে।

৩৬ রানের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার ২ উইকেট তুলে নিয়ে দারুণ শুরু করে বাংলাদেশ। মারক্রাম ও ডি কক ১৩১ রানের জুটি গড়ে ওই ধাক্কা সামাল দেন। বাংলাদেশের বোলাররা প্রোটিয়াদের ওপর চাপ তৈরি করেছিল। ৩৬তম ওভারে তারা ২০০ তে পৌঁছায়। মারক্রাম ৬০ রানে সাকিবের শিকার হওয়ার পর শুরু হয় তাণ্ডব।

মাত্র ৪৯ বলে দুইশ থেকে তিনশতে পৌঁছায় দলীয় স্কোর। ডি কক ১৪০ বলে ১৫ চার ও ৭ ছয়ে ১৭৪ রান করে ডেথ ওভারের মাঝের দিকে থামেন। শেষ ১০ ওভারের মধ্যে সাকিব, শরিফুল ও মোস্তাফিজুর রহমানের ওপর চড়াও হন দুই ব্যাটার। ক্লাসেন শেষ ওভারে সেঞ্চুরির  খুব কাছে গিয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আউট হন। ৪৯ বলে ২ চার ও ৮ ছয়ে ৯০ রান করেন তিনি। শেষ দিকে ডেভিড মিলারের ১৫ বলে ১ চার ও ৪ ছয়ে ৩৪ রানের ক্যামিও ইনিংস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।  

দুটি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে সফল বোলার হাসান মাহমুদ, অবশ্য ৬ ওভারে ৬৭ রান দিয়ে সবচেয়ে ইকোনমি রেট তার, ১১.১৬। রানের হিসাবে সবচেয়ে বেশি খরুচে ছিলেন শরিফুল ও মোস্তাফিজ। দুজনেই ৯ ওভার বোলিং করেন, দেন ৭৬ রান করে।

সেঞ্চুরি করেন ডি কক ক্লাসেনকে সেঞ্চুরি করতে দেয়নি বাংলাদেশ

শেষ ওভারে ছক্কা মেরে ৯০ রানে পৌঁছান হাইনরিখ ক্লাসেন। সেঞ্চুরি করতে আর ১০ রান লাগতো। দ্বিতীয় বলেও ছয় মারতে চেয়েছিলেন। কভারে তিনি মাহমুদউল্লাহর হাতে ধরা পড়েন। উইকেটটি নেন হাসান মাহমুদ। ৪৯ বলে ২ চার ও ৮ ছয়ে সাজানো ছিল ক্লাসেনের ইনিংস।

১৭৪ রানে ডি কককে থামালেন হাসান

কুইন্টন ডি ককের ঝড় থামলো। মুম্বাইয়ে তাণ্ডব চালিয়ে ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস থেকে ৪ রান দূরে থাকতে আউট হলেন দক্ষিণ আফ্রিকান ওপেনার। ৪৬তম ওভারের প্রথম বলে তাকে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে নাসুম আহমেদের ক্যাচ বানান হাসান মাহমুদ। ১৪০ বলে ১৫ চার ও ৭ ছয়ে ১৭৪ রান করেন ডি কক।

ডি কক-ক্লাসেনের তাণ্ডবে তিনশ ছাড়ালো দক্ষিণ আফ্রিকা

কুইন্টন ডি ককের সেঞ্চুরির পর ৩৬তম ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা করে ২০০ রান। তাদের দলীয় স্কোর তিনশতে পৌঁছালো ৪৪তম ওভারেই। ২০০ থেকে তিনশতে যেতে প্রোটিয়ারা খেলেছে মাত্র ৪৯ বল।

৪৩তম ওভারে সাকিব আল হাসানের কাছ থেকে ২২ রান আদায় করেন ডি কক। পরের ওভারে শরিফুল ইসলাম দেন ১৭ রান। তাতে তিনশতে পৌঁছায় স্কোর। ১২৯ বলে ১১ চার ও ৭ ছয়ে দেড়শ রান অতিক্রম করে এই বিশ্বকাপে সেরা ইনিংস খেলে ফেলেছেন ডি কক। ৩৪ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন হাইনরিখ ক্লাসেনও।

এনিয়ে ওয়ানডেতে প্রথমে ব্যাট করে টানা সাত ম্যাচে তিনশ ছাড়ানোর স্কোরের রেকর্ডে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ভাগ বসালো দক্ষিণ আফ্রিকা।

ডি ককের সেঞ্চুরির পর দু্ইশ ছাড়ালো দক্ষিণ আফ্রিকা

এই বিশ্বকাপে উড়ন্ত ফর্মে আছেন ওপেনার কুইন্টন ডি কক। বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্রুত ২ উইকেট পতনের পর তার ব্যাটেই স্কোরবোর্ডের চেহারা দ্রুত বদলেছে। মারক্রাম ছিলেন ধীরস্থির। কিন্তু কুইন্টন ডি কক আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বোলারদের হতাশা বাড়িয়েছেন। মারক্রামের আউটের পর তিনি তুলে নিয়েছেন টুর্নামেন্টের তৃতীয় সেঞ্চুরি। প্রোটিয়া ওপেনার ১০১ বলে দেখা পেয়েছেন ম্যাজিক ফিগারের। তাতে এক বিশ্বকাপে তিন সেঞ্চুরি পাওয়া প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকান তিনি।  

১৩১ রানের জুটি ভাঙলেন সাকিব

৩৬ রানে দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তাদের ম্যাচে ফেরাতে ভূমিকা রাখে কুইন্টন ডি কক ও ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক এইডেন মারক্রামের জুটি। এই জুটিতে তারা শুরুর চাপটা কাটিয়ে গড়ে দেয় দারুণ ভিত। ডি কক আগ্রাসী থাকলেও ধীর স্থিরভাবে খেলেছেন মারক্রাম। ১৩১ রান যোগ করা জুটিটি ভাঙে এইডেন মারক্রামের বিদায়ে। ততক্ষণে অবশ্য স্কোর ১৬৭ হয়ে গেছে। ৩০.৪ ওভারে জুটি ভেঙেছেন অধিনায়ক সাকিব। মারক্রাম সাকিবকে উঠিয়ে মারতে গিয়ে ৬০ বলে ক্যাচ আউট হয়েছেন। প্রোটিয়া ব্যাটারের ৬৯ বলের ইনিংসে ছিল ৭টি চার। 

ডি কক-মারক্রামের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়িয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা

প্রোটিয়ারা ৩৬ রানে দ্রুত ২ উইকেট হারালেও কুইন্টন ডি কক-এইডেন মারক্রামের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৪৭ বলে ৩১তম ফিফটি তুলে নিয়েছেন ডি কক।তাকে যোগ্য সঙ্গ দিচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক এইডেন মারক্রামও। তিনিও ক্যারিয়ারের নবম ফিফটি তুলে নিয়েছেন। মারক্রাম ফিফটি পেয়েছেন ৫৭ বলে। এই জুটি আবার শতরান ছাড়িয়েছে। তাতে রানরেটও পায় বাড়তি গতি। শুরুর ক্ষতিটা পুষিয়েও নিয়েছে তারা।     

পাওয়ার প্লেতেই চাপে দক্ষিণ আফ্রিকা

বিশ্বকাপে চারটি ম্যাচে এমন দশা ছিল না দক্ষিণ আফ্রিকার। কোনও ম্যাচেই পাওয়ার প্লেতে একাধিক উইকেট হারানোর নজির ছিল না। কিন্তু বাংলাদেশের বিপক্ষে এসে সেই ধারা ভঙ্গ হয়েছে। হারিয়েছে দুই উইকেট, রান এসেছে ৪৪।  

ফন ডার ডুসেনকে ফিরিয়েছেন মিরাজ। মিরাজের আঘাতে পড়লো প্রোটিয়াদের দ্বিতীয় উইকেট

শুরুতে স্পিনার আনার কৌশল কাজে দিয়েছে বাংলাদেশের। শরিফুলের আঘাতে প্রথম উইকেট পতনের পরের ওভারে দ্বিতীয় উইকেট তুলে নিয়েছেন অফস্পিনার মিরাজ। তাতে শুরুতেই প্রোটিয়াদের চাপে ফেলার কৌশলে বাংলাদেশ সফল হয়েছে। নতুন নামা রাসি ফর ডার ডুসেনকে এলবিডাব্লিউতে ফিরিয়েছেন মিরাজ। ফেরার আগে ১ রান করেছেন প্রোটিয়া ব্যাটার।    

ব্রেক থ্রু এনে দেওয়ার পর শরিফুলের উদযাপন। সেই হেন্ড্রিকসকে ফেরালেন শরিফুল

দ্বিতীয় ওভারে শূন্য রানেই ওপেনার রিজা হেন্ড্রিকসকে ফেরানোর সুযোগ তৈরি করেছিলেন মিরাজ। কিন্তু তানজিদ সেটি লুফে নিতে পারেননি। তাহলে শূন্য রানেই তাকে আউট করা যেত। তার পর হাত খুলবার আগেই সপ্তম ওভারে এসে দারুণ ডেলিভারিতে তাকে বোল্ড করেছেন পেসার শরিফুল। তাতে ৩৩ রানে প্রথম উইকেট হারিয়েছে প্রোটিয়ারা। হেন্ড্রিকস ফেরার আগে ১২ রান করেছেন।  

দ্বিতীয় ওভারে হেন্ড্রিকসকে জীবন দিলেন তানজিদ

প্রথম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান বল করলেও প্রোটিয়াদের বিপদে ফেলতে দ্বিতীয় ওভারেই স্পিনার আনেন সাকিব। তাতে সুযোগও তৈরি করে দিয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ১.৫ ওভারে রিজা হেন্ড্রিকস কাট করতে গেলে স্লিপে ক্যাচ উঠেছিল তার। দুর্ভাগ্য তানজিদ তামিম সেটি হাতে জমাতেই পারলেন না। রিজা তখন রানের খাতাই খুলেননি। 

টস হেরেছে বাংলাদেশ

বিশ্বকাপের টানা তিন ম্যাচ হেরে ভীষণ অস্বস্তির মধ্যে আছে বাংলাদেশ। ঘুরে দাঁড়াতে তারা আজ এমন এক দলের মুখোমুখি যারা অবিশ্বাস্য ব্যাটিং পারফরম্যান্সে আলোচিত হয়ে আছে। সেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়তো নিয়মিত দেখা হয় না। কিন্তু সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে বাংলাদেশের জয়ের পাল্লাই ভারি। গত বিশ্বকাপেও তাদের বিপক্ষে স্মরণীয় জয় ছিল লাল-সবুজদের। আজও একই পুনরাবৃত্তির আশায় বাংলাদেশ মাঠে নেমেছে। তবে শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।  

টসের মুহূর্তের ছবি। সাকিব ফিরলেও খেলা হচ্ছে না বাভুমার

প্রত্যাশিতভাবে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান সুস্থ হয়ে আজ টস করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা অবশ্য আজও তাদের নিয়মিত অধিনায়ক তেম্বা বাভুমাকে পাচ্ছে না। এখনও সুস্থ হয়ে উঠেননি তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাভুমা এখনও পেটের পীড়ায় ভুগছেন।   

মুম্বাইয়ের তীব্র গরম আর আর্দ্র কন্ডিশন হওয়ায় টসটাকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবা হচ্ছিল। সাকিব নিজেও ম্যাচের আগে তেমনটা বলেছিলেন। কিন্তু টস জয়ের পর তিনি বলেছেন, ‘শুরুতে বল করতেও আমার আপত্তি ছিল না। যদি তাদের অল্পতে আটকে রাখতে পারি। তাহলে আশা করি আমরা সেটা তাড়া করতে পারবো। শুধু নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে।’

দক্ষিণ আফ্রিকার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক এইডেন মারক্রাম অবশ্য বলেছেন, ইংল্যান্ড ম্যাচের মতো একই ধারায় খেলার চেষ্টা করবেন তারা। 

একাদশে কারা

সাকিব ফিরলেও আগের ম্যাচের একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন তাওহীদ হৃদয়। বামহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ একাদশে স্থান ধরে রেখেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা দলে আজ চোটের কারণে খেলা হচ্ছে লুঙ্গি এনগিদির। তার জায়গায় ঢুকেছেন লিজাড উইলিয়ামস। তার আজ বিশ্বকাপ-অভিষেক হচ্ছে।

বাংলাদেশ একাদশ: লিটন দাস, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন, সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদ।

দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশ: রিজা হেন্ড্রিকস, কুইন্টন ডি কক, রাসি ফন ডার ডুসেন, এইডেন মারক্রাম (অধিনায়ক), হাইনরিখ ক্লাসেন, ডেভিড মিলার, মার্কো ইয়ানসেন, জেরাল্ড কোয়েটজে, কেশব মহারাজ, লিজাড উইলিয়ামস, কাগিসো রাবাদা।

/এফআইআর/এফএইচএম/
সম্পর্কিত
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
এলিসের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে সিরিজে সমতা অস্ট্রেলিয়ার
১৫ বলে ফিফটি, পারভেজের রেকর্ডে ভাগ বসালেন হাবিবুর
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম