ফুটবলের সঙ্গে ডাচদের সম্পর্কটা যত গভীর। তার উল্টোটা ঘটে ক্রিকেটের বেলায়। শুধু ফুটবল নয় টেনিসের মতো খেলাও আধিপত্য বিস্তার করে সংবাদমাধ্যমে। কিন্তু ক্রিকেটকে সেভাবে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয় না। এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম ফেভারিট দক্ষিণ আফ্রিকা বধের পরও সেখানে তাদের নিয়ে উপহাস করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে ডাচদের ফাস্ট বোলার লোগান ফন বিক মনে করেন, আরও কিছু ম্যাচ জিতলে এমন উপহাস থেমে যাবে। গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হবে তাদের।
শুরু থেকেই সেমিফাইনালের স্বপ্ন লালন করে আসছে নেদারল্যান্ডস। দক্ষিণ আফ্রিকাকে অবিশ্বাস্যভাবে হারিয়ে দেওয়ার পর সেই লক্ষ্য তাদের এখনও অটুট আছে। ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে এবারই প্রথম টেস্ট খেলুড়ে কোনও দলকে হারানোর কৃতিত্ব দেখিয়েছে তারা। লঙ্কানদের কাছে হেরে গেলেও ডাচরা যে ছেড়ে দেওয়ার দল নয় সেটা তারা বুঝিয়ে দিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজেদের দেশের ক্রিকেটের অবস্থা তুলে ধরে ফন বিক বলেছেন, ‘সকালে একটা ডাচ স্পোর্টস শো দেখেছিলাম। সেখানে দেখলাম তারা ক্রিকেট নিয়ে উপহাস করছে। তাদের কাছে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চাকরির মতোন এই খেলা। দীর্ঘ সময় ধরে খেলা চলায় সেসব নিয়ে ঠাট্টাও করেছে সেখানে।’
দেশে ক্রিকেট নিয়ে এমন উপহাস বন্ধ করতে আরও কিছু জয় প্রয়োজন বলে মনে করেন ডাচ এই পেসার। তার কথা, ‘আমার মনে হয় আরও কিছু জয় নেদারল্যান্ডসে তাদের এই উপহাস থামিয়ে দেবে। গুরুত্বের সঙ্গে নেবে আমাদের। তখন হয়তো বুঝবে আমরা দেশের অন্যতম সেরা ক্রীড়া দলের একটি।’
সোমবার রাতের ওই অনুষ্ঠানটি দেখেছিল প্রায় ১.২ মিলিয়ন দর্শক। সেখানে বলা হয় প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ডাচদের এই জয় এখান থেকে বিদেশে হয়তো বড় খবর। ওই সময় ডাচ স্কোয়াডের খেলোয়াড়দের নিয়েও খোঁচা মারা হয় সেখানে। যারা বেশির ভাগই দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও উপমহাদেশীয় বংশোদ্ভুত। সেসব শুনে নিউজিল্যান্ডে জন্ম নেওয়া অলরাউন্ডার ফন বিক এখন সমালোচকদের চুপ করাতে ভীষণ মরিয়া, ‘আমরা আসলে পরবর্তী প্রজন্মের প্রেরণা হতে চাই। পাশাপাশি নেদারল্যান্ডসে চলমান পরিস্থিতিরও।’
প্রোটিয়াদের হারালেও বিশ্বকাপে তিনটি ম্যাচ তারা হেরেছে। অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে তিনি জোর দিয়ে বললেন, ডাচ দল আরেকটি অঘটন ঘটাতে সক্ষম, ‘আরেকটি কেন নয়? আমরা এখানে এসেছি সেমিফাইনাল খেলার জন্য। এটাই আমাদের লক্ষ্য।’









