প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২৬ রানে নেই তিন উইকেট। বাংলাদেশ শিবিরে তখন কম রানে গুটিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। সেখান থেকে শুরু হলো সাব্বির ঝড়। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিলেন সাকিব। সাব্বিরের ৫৪ বলে ৮০ রানে অবশেষে ১৪৭ রানের পুঁজি গড়লো বাংলাদেশ।
বোলিংয়ে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে চান্দিমালের ক্যাচ মিস করলেন স্লিপে দাঁড়ানো সৌম্য। ক্যাচ মিসে ফের ম্যাচ মিসের আশঙ্কা! সেখান থেকে বাংলাদেশকে প্রথম উইকেট এনে দিলেন সাকিব। ফের কিছুক্ষণ উইকেট-খরা। দলীয় ৭৬ রানে ফিরলেন চান্দিমাল। সেখান থেকে মাত্র ৯২ রানে লঙ্কানদের পঞ্চম উইকেটের পতন। ম্যাচ ততক্ষণে বাংলাদেশের দিকে। শেষ দুই ওভরে লঙ্কানদের দরকার ৩৭ রান। রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা। কিন্তু তাতে জল ঢাললেন মুস্তাফিজ। ১৯তম ওভারটি করতে এসে দিলেন মাত্র ৫ রান। বাকি কাজটুকু সারলেন আল আমিন। শেষ পর্যন্ত ২৩ রানে ম্যাচ জিতে নিল টাইগাররা।
রবিবার সন্ধ্যায় মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার মোহাম্মদ মিথুন (০)। ম্যাথুসের বলে এলবিডব্লিউ'র শিকার হয়ে শূন্য রানে আউট হন তিনি। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে আউট হন সৌম্য সরকার (০)। কুলাসেকারার বলে ম্যাথুসের হাতে ক্যাচ তুলেন তিনি। ফলে মাত্র ২ রানে ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এরপর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন মুশফিকুর রহিম ও সাব্বির রহমান। তবে দলীয় ২৬ রানে দুর্ভাগ্যজনক রান আউটের শিকার হন মুশফিক (৪)। ফলে মাত্র ২৬ রানে তিন উইকেট হারিয়ে ফেলে টাইগাররা। তখন স্টেডিয়ামে রাজ্যের নীরবতা। তবে দর্শকদের নীরবতা ওই পর্যন্তই। আর চুপ থাকার ফুরসৎ মেলেনি তাদের। কারণ আর কিছুই নয়। দ্রুত তিন উইকেট পতনের মিরপুর স্টেডিয়ামে শুরু হয় সাব্বির শো। সাকিবের সঙ্গে জুটি বেধে বিপর্যয় সামলালেন তো বটেই, দলকে এনে দিলেন বড় সংগ্রহ। চামিরার বলে ক্যাচ তুলে আউট হওয়ার আগে খেলেছেন ৫৪ বলে ৮০ রানের ইনিংস। তাতে ছিল ১০টি চার ও ৩টি ছক্কার মার।
এরপর দলীয় ১২৩ রানে ফিরে যান সাকিব। তিনিও চামিরার শিকার। তবে আউট হওয়ার আগে ৩৪ বলে ৩২ রান করেন তিনি। এরপর ১২ বলে ২৩ রানের ছোট কিন্তু কার্যকরী ইনিংস খেলেন মাহমুদউল্লাহ। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভার ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৪৭ রান।
বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেওয়া ১৪৮ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ৩.১ ওভারে দলীয় ২০ রানে দিলশানকে সাজঘরে ফিরিয়েছেন সাকিব আল হাসান। ব্যক্তিগত ১২ রানে সাকিবের বলে সৌম্যর হাতে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন দিলশান। এর আগে তাসকিনের করা প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে সৌম্যর হাতে ক্যাচ দিয়েছিলেন আরেক ওপেনার দিনেশ চান্দিমাল। তবে ক্যাচটি তালুবন্দী করতে ব্যর্থ হন সৌম্য।
শেষমেষ ৩৭ বলে ৩৭ রান করে দলীয় ৭৬ রানে আউট হন চান্দিমাল। মাহমুদউল্লাহর বলে তাসকিনের হাতে ক্যাচ তুলে আউট হন তিনি। আউট হওয়ার আগে শিহান জয়সুরিয়াকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৫৬ রানের জুটি গড়েন তিনি। দলীয় ৭৭ রানে জয়সুরিয়াকে (২৬) আউট করেন সাকিব আল হাসান। এক রানের মাথায় দুই উইকেট তুলে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। এরপর দলীয় ৮৫ রানে পেরেরাকে (১) এলবিডব্লিউ'র ফাঁদে ফেলেন মুস্তাফিজ। এরপর আঘান হানেন অধিনায়ক মাশরাফি। সিরিবর্ধনেকে (৩) সাব্বির রহমানের হাতে ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। এরপর ফিরে যান ম্যাথুস ও শানাকাও।
শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৪ রান করতে সক্ষম হয় শ্রীলঙ্কা। ফলে ২৩ রানে ম্যাচ জিতে নেয় বাংলাদেশ। ৪ ওভার বল করে ২১ রান দিয়ে দুই উইকেট নিয়েছেন সাকিব। ৪ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নিয়েছেন আল আমিন। এছাড়া ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে একটি উইকেট নিয়েছে মুস্তাফিজ। একটি করে উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি ও মাহমুদউল্লাহ। এ নিয়ে এশিয়া কাপে তিনটি ম্যাচ খেলে দুটিতে জিতে ফাইনালের লড়াইয়ে টিকে থাকলো বাংলাদেশ।
ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
/এমআর/








