সৌম্য যখন তাসকিনের ক্যাচটা ছাড়লেন তখন হয়তো সবার চোখে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের উদ্বোধনী ম্যাচটাই চোখে ভেসে উঠেছে। ২১ রানে জীবন পাওয়া রোহিত শর্মা ওইদিন ৮৩ রানের ইনিংস খেলে বাংলাদেশের কাছ থেকে রীতিমতো ম্যাচটি ছিনতাই করেছিলেন। আজও এমন হতে পারতো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বোলারদের কল্যাণে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কাকে হারাল বাংলাদেশ। এদিন লঙ্কানদের বিপক্ষে প্রথম জয় তুলে নিয়েও উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেনি টাইগাররা। ২৩ রানে জয়ের পরও শান্ত, ধীর-স্থির ভাবেই মাঠে ছাড়েন মাশরাফিরা।
বলা চলে, শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলার দৌঁড়ে খানিকটা এগিয়েই গেলো বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে ২ তারিখে জিতলেই আরও কোনও সমীকরণ ধোপে টিকবে না।
রবিবার মিরপুরে পরিসংখ্যানে পিছিয়ে থেকেই ম্যাচ শুরু করেছিলো বাংলাদেশ। আগের ৪টি টি-টোয়েন্টি মুখোমুখিতে বাংলাদেশের জয় ছিল না একটি ম্যাচেও। শেষ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের প্রথম এশিয়া কাপেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের অভিষেক হলো লাল-সবুজদের।
তবে একটুখানি ভুলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচটি ছাতছাড়া হয়ে যেতে পারত। কেননা ক্রিকেটে একটি কথা বহুল প্রচলিত-‘ক্যাচ মিস মানে ম্যাচ মিস’। প্রথম ওভারে ক্যাচ মিসের পর সেই শঙ্কাটাই উঁকি দিচ্ছিল বারবার। স্লিপে আগের ম্যাচের মতো আজকের ম্যাচেও ক্যাচ মিস করেছেন সৌম্য সরকার। বোলার তাসকিন আহমেদ। দ্বিতীয় ওভারে আবার ক্যাচ ছাড়েন রিয়াদ-এবার দুর্ভাগ্য আল আমিনের।
যদিও সৌম্যর দুর্দান্ত ক্যাচেই ওপেনিং জুটি ভাঙে শ্রীলঙ্কার। দিলশানের ক্যাচটি ক্ষিপ্রতার সঙ্গে তালুবন্দী করে সাকিবের উইকেট সংখ্যা বাড়ান এই তুখোড় ফিল্ডার! শেষ ওভারে আল আমিনের বল নুয়ান কুলসাকারা যখন লং অনের উপর দিয়ে সীমানা ছাড়া করার জন্য উদ্যোগ নিলেন, সেই বলকে তালুবন্দী করেন সৌম্য!
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠা উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান চান্দিমালকে সাজঘরের পথ দেখান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সেখানে অবদান তাসকিনের। ডিপ পয়েন্টে রিভার্স সুইপ করে মারা বলটি তালুবন্দী করেন বেশ দক্ষতার সঙ্গে। এছাড়া দলের অন্যতম সেরা ফিল্ডার সাব্বির রহমান তার ক্ষিপ্রতা দিয়ে রান বাঁচিয়েছেন অনেক। ক্যাচও নিয়েছেন একটি।
ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
/এমআর/








