সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্ন নিয়ে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে এসেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু টানা পাঁচ হারে সেই সপ্ন মলিন হয়ে গেছে। অথচ বিশ্বকাপে এই দলকে নিয়ে ক্রিকেট ভক্তদের অনেক আশা ছিল, যাতে জল ঢেলেছে ডাচদের বিপক্ষে ৮৭ রানের হার। অধিনায়ক সাকিব আল হাসান তো স্বীকার করলেন, এটাই দেশের স্মরণকালের সবচেয়ে বাজে বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স।
বাংলাদেশ দল প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেয় ১৯৯৯ সালে। প্রথম আসরে জেতে দুটি ম্যাচ। শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে তারা। পরের বিশ্বকাপে ২০০৩ বর্ণহীন পারফরম্যান্স ছিল বাংলাদেশের। একটি ম্যাচেও জিততে পারেনি তারা। তবে তারপর ২০০৭, ২০১১, ২০১৫ ও ২০১৯ বিশ্বকাপে তিনটি করে ম্যাচ জিতেছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। তার মধ্যে ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লেখায় বাংলাদেশ। তবে ভারতের বিপক্ষে কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত না এলে হয়তো সেমিফাইনাল খেলাও হয়ে যেতো মাশরাফি বিন মর্তুজার দলটির। এবার সব ছাড়িয়ে যাওয়ার মিশন নিয়ে ভারতে এসেছিলেন তারা। কিন্তু ষষ্ঠ ম্যাচের পরই সাকিবকে স্বীকার করে নিতে হলো অপ্রিয় সত্য কথাটি।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাকিবকে প্রশ্ন করা হয়, এখন পর্যন্ত ধরলে এটাই বাংলাদেশের স্মরণকালের সবচেয়ে বাজে বিশ্বকাপ কি না? উত্তরে বাংলাদেশ অধিনায়ক বললেন, ‘হ্যাঁ, সেটা আপনি নির্দ্বিধায় বলতে পারেন। এবং আমি দ্বিমত করবো না।’
বিশ্বকাপের আগে ছন্দে থাকলেও বাংলাদেশ দল টুর্নামেন্টে এসে খেই হারিয়েছে। কেন খেই হারালো বাংলাদেশ, তার উত্তর দিতে পারেননি সাকিব, ‘এই কেনর উত্তর দিতে পারলে আমরা আরও ভালো করতাম। এই কেনর উত্তর আমার কাছে নেই আসলে। আমি ঠিক জানি না। জানি না কী হচ্ছে। আপনি যদি ছয় ম্যাচের ব্যাটিং ইউনিটের পারফরম্যান্সের সারমর্ম টানতে বলেন, বলবো, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিম বাদে প্রত্যেকে চরম বাজে পারফর্ম করেছে। বাকিরা কেউ আপ টু মার্ক ছিল না। যতটা আমরা জানি যে আমরা খেলতে পারি। আমরা আমাদের সামর্থ্যের থেকে অনেক পিছিয়ে আছি।’
সাকিব অজুহাত দিতে না চাইলেও প্রস্তুতির ঘাটতির কথা অকপটে স্বীকার করেছেন, ‘আমরা অনেক অপ্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু এখন এই অজুহাত দিয়ে খুব বেশি লাভ হবে না। আমরা অপ্রস্তুত ছিলাম কিছুটা।’









