উদার হস্তে নিশ্চয় প্রশংসায় ভাসছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। চরম স্তুতি পাওয়া মতোই মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে খেললেন অতিমানবীয় এক ইনিংস। তার সাক্ষী হলো হাজারো দর্শক-সমর্থক। ২০১ রানের মন জুড়ানো ইনিংসে কী ছিল না! রানের ফোয়ারা ছোটাতে গিয়ে শরীরে একের পর আঘাতেও চূর্ণ হননি। মাটি কামড়ে পড়ে থেকে যেন শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে শুধু আফগানদের বিপক্ষে হারই এড়াননি, অস্ট্রেলিয়াকে তুলেছেন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে।
চার উইকেট যাওয়ার পর ম্যাক্সওয়েল দলের দুঃসময়ে ক্রিজে এসে শুধুই সপাটে ব্যাট চালিয়ে গেছেন। পরে অন্য প্রান্তে তিন উইকেট চলে গেলেও বিচলিত হননি। একের পর এক ৪-৬ এ রশিদ-মুজিবদের দারুণভাবে শায়েস্তা করে গেছেন। বারকয়েক ক্র্যাম্প করে অজি সমর্থকদের ভয়ও ধরিয়ে দিয়েছিলেন। এই বুঝি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ড্রেসিংরুমে যাওয়ার উপক্রম! কিন্তু দারুণ প্রাণশক্তি আর দায়িত্ববোধ থেকে দাঁতে দাঁত চেপে ম্যাক্সওয়েল ধ্বংসস্তুপ থেকে বারবারই জেগে উঠলেন। অনেকটা ফিনিক্স পাখির মতোই। অবর্ণনীয় ব্যথায় লুটিয়ে পড়লেন মাটিতে। ক্র্যাম্পে শরীরজুড়ে বিদ্রোহতেও হার মানেননি। প্রচণ্ড ব্যাথায় শুধু কব্জিই জোর দেখালেন, হয়ে ওঠলেন অতিমানব। রীতিমতো বোলারদের তুলোধুনো করলেন। কোনও কিছুই তাকে আটকাতে পারেনি।
১২৮ বলে ২০১ রান করে অস্ট্রেলিয়াকে শুধু জেতাননি, ক্রিস গেইলের বিশ্বকাপে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ডও ভেঙে দিলেন ম্যাক্সওয়েল। অজিরা কেন বিশ্বকাপে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন, কেনই বা তারা ষষ্ঠবারের মতো কাপ জিততে চায় তা যেন ম্যাক্সওয়েলের ইনিংস আরও একবার মনে করিয়ে দিলো সবাইকে।
বিশ্বকাপে এর আগে দুজনের ডাবল সেঞ্চুরি ছিল। দুজনেই ২০১৫ বিশ্বকাপে সেই কীর্তি গড়েন। গেইলের সঙ্গে ওই আসরে দুইশ করেন নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপটিল। ম্যাক্সওয়েলের সবশেষ ইনিংস যেন অন্যদের ছাড়িয়ে গেলো। পরে ব্যাট করে কিংবা মিডল অর্ডারে নেমে দারুণ এক অবিশ্বাস্য ইনিংস, অনবদ্য-অবিস্মরণীয়।
আফগানরা কোথায় স্বপ্ন দেখছিল অজিদের বধ করে দারুণ এক বিজয়গাঁথা তৈরি করবে। আগে ব্যাট করে যেভাবে অস্ট্রেলিয়ার পত্রপাঠ বিদায় করছিল, তাতে সেই সম্ভাবনা জেগেছিল। তবে এক ম্যাক্সওয়েল সব হিসাবনিকাশ উল্টে পাল্টে দিয়ে নতুন কিছুর জন্ম দিলেন। কামিন্সকে অন্য প্রান্তে রেখে এগিয়ে গেছেন। কতটা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, তা শেষ পর্যন্ত ব্যাট চালিয়ে প্রমাণ দিয়ে গেছেন। তাই বলতে হচ্ছে, ম্যাক্সওয়েল- ইউ বিউটি!









