বৃষ্টি শঙ্কা মাথায় নিয়ে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয়েছিল নিউজিল্যান্ড। ম্যাচটা ভেসে গেলেই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে যেত। সেই জায়গায় শ্রীলঙ্কাকে ৫ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালে এক পা দিয়ে ফেলেছে কিউইরা। এখন তাদের টপকে সেরা চারে যেতে হলে পাকিস্তান, আফগানিস্তানকে নিজেদের শেষ ম্যাচে জয়ের পাশাপাশি শ্রেয়তর রানরেটের জন্য অতিমানবীয় কিছু করে দেখাতে হবে।
কিউই দল মূলত শ্রেয়তর রান রেটে নিজেদের সম্ভাবনা জোরালো করেছে। লঙ্কানদের ১৭১ রানে গুটিয়ে ২৩.২ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য স্পর্শ করেছে। তাও আবার ২৩.২ ওভারে। তাতে চারে থাকা কিউইদের রান রেট ০.৩৯৮ থেকে বেড়ে ০.৭৪৩ এ দাঁড়িয়েছে।
এই অবস্থায় সেরা চারে যেতে হলে টেবিলের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৮৭ রানের ব্যবধানে জিততে হবে। তাড়া করে জিততে গেলে বিষয়টা তখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। ইংল্যান্ড যদি ১৫০ রানে অলআউট হয় সেটি তাদের তাড়া করতে হবে ৩.৪ ওভারে। আফগানিস্তানের জন্য চ্যালেঞ্জটা অবশ্য এভারেস্ট সমান। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জিততে হবে ৪৩৮ রানের বিশাল ব্যবধানে।
রান রেট প্রভাব ফেলবে সেই ভাবনায় ১৭২ রানের লক্ষ্যে শুরু থেকেই চড়াও হয়ে খেলেছে নিউজিল্যান্ড। দুই ওপেনার ডেভন কনওয়ে ও রাচিন রবীন্দ্র ঝড়ো গতিতে খেলে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন। ১২.২ ওভারেই ওপেনিং জুটিতে যোগ হয় ৮৬। কনওয়ে ৪২ বলে ৪৫ রানে আউট হলে ভাঙে জুটি। তাতে ছিল ৯টি চার। দুই রান যোগ হওয়ার পর রাচিন রবীন্দ্রও আউট হন ব্যক্তিগত ৪২ রানে। তার ৩৪ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি ছয় ও ৩টি চার। তার পর ড্যারিল মিচেল-কেন উইলিয়ামসন মিলে ইনিংস এগিয়ে নিয়েছেন। যদিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি কেন। নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক আউট হন ১৪ রানে। মার্ক চ্যাপম্যানও আউট হন দ্রুত (৭)। তার পর অবশ্য আগ্রাসী মিচেলের ব্যাটে দ্রুত জয়ের কাছাকাছি গেছে নিউজিল্যান্ড। দলের ১৬২ রানে আউট হন তিনি। মিচেল ৩১ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ফেরার আগে ৪৩ রান করেছেন। ২২.৪ ওভারে তার ফেরার পর ক্যামিও ইনিংসে ম্যাচটা ২৩.২ ওভারে শেষ করেছেন গ্লেন ফিলিপস। ১০ বলে ৩ চারে ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।
লঙ্কানদের হয়ে ২৯ রানে দুটি উইকেট নেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। একটি করে নিয়েছেন মাহিশ থিকশানা ও দুশমন্থ চামিরা।
বেঙ্গালুরুতে বৃষ্টি ভাবনা মাথায় থাকায় শুরুতে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড। তার পর লঙ্কানদের ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে ছাড়ে কিউ বোলিং। ক্ষতিটা হয়ে যায় প্রথম দশ ওভারেই। ৭৪ রানে হারায় ওপরের ৫ উইকেট। তার পর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে খেলেছে লোয়ার অর্ডার। নিউজিল্যান্ড ১২৮ রানে নবম উইকেট তুলে নেওয়ায় দেড়শোর মধ্যেই তাদের বেঁধে ফেলার সুযোগ ছিল। সেখান থেকে তাদের হতাশ করেছেন মূলত মাহিশ থিকশানা ও দিলশান মাদুশাঙ্কা। দশম উইকেটে তারা রেকর্ড ৪৩ রানের জুটি গড়ায় লঙ্কানদের স্কোর সমৃদ্ধ হয়েছে। সবকটি উইকেট হারিয়ে ৪৬.৪ ওভারে তারা ১৭১ রান করেছে।
মাদুশাঙ্কাকে আউট করে লেজ ছেঁটেছেন রাচিন রবীন্দ্র। বিদায়ের আগে ৫৬ বলে ১৯ রান করেছেন মাদুশাঙ্কা। ৯১ বল খেলে ৩৮ রানে অপরাজিত থেকে মূল প্রতিরোধটা গড়েছেন মূলত থিকশানা।
ধ্বংসস্তূপের মাঝেও শুরুতে একপ্রান্তে থেকে ঝড়ো গতিতে খেলেছেন ওপেনার কুশল পেরেরা। ২৮ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় ৫১ রানে শুরুতে অবদান রাখেন তিনি। কিন্তু যোগ্য সঙ্গী পাননি।
কিউইদের ৩৭ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন ট্রেন্ট বোল্ট। ম্যাচসেরাও তিনি। দুটি করে নিয়েছেন লকি ফার্গুসন, মিচেল স্যান্টনার ও রাচিন রবীন্দ্র। একটি নিয়েছেন টিম সাউদি।









