ভারতের হয়ে প্রথম চার ম্যাচে একাদশেই ছিলেন না মোহাম্মদ শামি। চোটে হার্দিক পান্ডিয়ার কপাল পুড়লো, আর কপাল যেন খুললো তার। সুযোগ পেয়েই কাজে লাগান, লিগ পর্বে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নেন পাঁচ উইকেট। আর পেছনে ফিরতে হয়নি। বল নেওয়া মানেই যেন টপাটপ তার পকেটে উইকেট। নিউজিল্যান্ড আবারও তার আগুনে পুড়ে ভস্ম। বুধবার সেমিফাইনালে সাত উইকেট নিলেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও চলতি আসরে তৃতীয়বার ফাইফার নেওয়ার পথে জাভাগাল শ্রীনাথ ও জহির খানদের পেছনে ফেলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্রুততম ৫০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন শামি। মাঝে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই মু্ম্বাইয়ে দ্বিতীয়বার পাঁচ উইকেট নেন।
প্রথম সেমিফাইনালে ভারতের ইনিংস শেষে বিরাট কোহলির রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরি ছিল আলোচনায়। ম্যাচ শেষে সেখানে ভাগ বসালেন শামি। কোহলির সঙ্গে শ্রেয়াস আইয়ারের সেঞ্চুরি ও শুভমান গিলের ৮০ রানের সৌজন্যে ভারত ৩৯৭ রানের বড় সংগ্রহ করলেও এই ম্যাচ জয়ের নায়ক বলা যায় ডানহাতি পেসারকে। এক বাক্যে বলতে হয়, শামি- দ্য গেম চেঞ্জার! তার দারুণ বোলিংয়েই মূলত ম্যাচে ফেরে ভারত। তবে খলনায়ক হয়ে যেতে পারতেন এই পেসার। ৫২ রানের মাথায় কেন উইলিয়ামসনকে জীবন দেওয়ায় ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো আরেকটা ভয়াবহ রাত দেখতে হতো শামিকে। সেবার পাকিস্তানের বিপক্ষে হারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুণ্ডুপাত হয়েছিল তার। মুসলিম হওয়ায় পাকিস্তানের বিপক্ষে হারের পর ভারতীয় সমর্থকরা তাকে পাকিস্তানি বলে ডেকেছে। কেউ কেউ তো শামিকে পাকিস্তানি গুপ্তচর হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ফেলেছিল।
অথচ এই শামিই ছিলেন ২০১৫ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের জয়ের নায়ক। দারুণ এক স্পেলে পাকিস্তানের ব্যটিং লাইন-আপ গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। আজও ভারতকে দীর্ঘ বিরতির পর ফাইনালে তোলার নায়ক হলেন এই পেসার। ৩৯ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেন দলের হাতে। কিন্তু গলার কাঁটা হয়ে উঠছিলেন উইলিয়ামসন ও ড্যারিল মিচেল। তাদের জুটি ভারতকে আরেকবার নকআউট চাপের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল। তবে শামি সব শঙ্কা দূর করে দেন। ১৮১ রানের এই জুটি ভেঙে দিয়ে ভারতকে ম্যাচে ফেরান, পাল্টে দেন পরিস্থিতি।
বুধবার মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অনেকগুলো কীর্তিই গড়ে ফেলেছেন শামি। দুই স্পেলে দুইবার জোড়া আঘাত করে বিশ্বকাপে প্রথম ভারতীয় হিসেবে ৫১টি উইকেট শিকারের কৃতিত্ব দেখান। যা বিশ্বকাপের ৪৮ বছরের ইতিহাসে দ্রুততম। তিনি মাত্র ১৭ ইনিংসে উইকেটগুলো শিকার করেছেন। তার আগে চলতি বিশ্বকাপে ৫০ উইকেট শিকারের নজির গড়েন অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্ক, অবশ্য তার লেগেছিল ১৯ ইনিংস।
সব মিলিয়ে তিন স্পেল বোলিং করে ৭ উইকেট নেওয়া পঞ্চম বোলার শামি। ২০১৫ বিশ্বকাপে শেষবার টিম সাউদি সাত উইকেট নিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এদিন শামি দুই স্পেলে ডেভন কনওয়ে, রাচিন রবীন্দ্র, কেন উইলিয়ামসন ও টম ল্যাথামকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান। উইলিয়াসনকে ফিরিয়ে উইকেটের ফিফটি পূর্ণ করেন। ল্যাথাম ছিলেন তার ৫১তম শিকার। এরপর একে একে মিচেল স্যান্টনার, টিম সাউদি ও লকি ফার্গুসনকে ফিরিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার গড়ে ফেলেন। সবমিলিয়ে ডানহাতি পেসার পাঁচবার ৫ উইকেট নিয়েছেন, যার মধ্যে তিনবারই এই বিশ্বকাপে।
চলতি বিশ্বকাপে মাত্র ছয়টি ম্যাচ খেলেছেন শামি। আর তাতেই বিশ্বকাপের সেরা বোলারদের তালিকার শীর্ষে উঠে গেছেন তিনি, তার শিকার ২৩ উইকেট। অন্যদিকে সব ম্যাচ খেলা অস্ট্রেলিয়ার লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পার শিকার ৯ ম্যাচে ২২ উইকেট। দুই বছর আগে দেশদ্রোহী খেতাব পাওয়া সেই শামিই দারুণ বোলিং করে ভারতকে ফাইনালে তুললেন। শচীনের মাঠে কোহলির দিনে সব আলো নিজের করে নিলেন তিনি।









