সাদা বলের ক্রিকেটে কয়েকমাস আগেও দুর্দমনীয় ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু ভারতের বিশ্বকাপে সেই ইংলিশরা যেন নিজেদের ছায়া হয়ে পড়ে। টুর্নামেন্টের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে গিয়ে সেখানেও হতাশা হয়েছে সঙ্গী। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ক্যারিবীয়দের ৩২৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল ইংল্যান্ড। তার পর অধিনায়ক শাই হোপের ব্যাটিং ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছে। তার বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে সাত বল হাতে রেখে জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হোপ অপরাজিত ছিলেন ১০৯ রানে। তার ৮৩ বলের ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ৭টি ছয়। ম্যাচসেরাও তিনি।
ক্যারিবীয়দের অসাধারণ জয়টি আবার রেকর্ড গড়া। ইংলিশদের বিপক্ষে এটি ছিল তাদের সর্বোচ্চ সফল রান চেজ। সার্বিকভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আগের সর্বোচ্চটি ছিল ২০০৪ সালে লর্ডসে করা ২৮৬।
একটা সময় ইংল্যান্ড শিবিরে জয়ের সম্ভবনাও উঁকি দিয়েছিল। যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২১৩ রানে হারায় পঞ্চম উইকেট। তখন মনে হচ্ছিল বাটলারের দল ইনিংসের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু রোমারিও শেফার্ডের সঙ্গে হোপ জুটি ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছেন। ষষ্ঠ উইকেটে ৫১ বলে ৮৯ রান যোগ করেন তারা। শেফার্ড ৩ ছক্কায় ৪৮ রানে আউট হলেও নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হতে দেননি হোপ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা ছিল ভালো। ওপেনিংয়ে শতরানের জুটি গড়েন অ্যালিক আথানেজ (৬৬) ও ব্র্যান্ডন কিং (৩৫)। তার পর পাল্টা আক্রমণে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দুটি উইকেট তুলে নেয় ইংল্যান্ড। ক্যারিবীয়দের টেনে ধরার ভালো চেষ্টা দেখা যায় ইংলিশ বোলারদের মাঝে। কিন্তু কারানের ব্যয়বহুল বোলিংয়ে নিয়ন্ত্রণ হাতে থাকেনি তাদের। ৯৮ রান দিয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ডের হয়ে ওয়ানডেতে এটাই সর্বোচ্চ!
ইংল্যান্ডের হয়ে ৪০ রানে দুটি উইকেট নেন রেহান আহমেদ। ৬২ রানে দুটি নিয়েছেন গাস অ্যাটকিনসনও।
প্রথমে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাটলার। শুরুতে ওপেনিং জুটিতে ফিল সল্ট (৪৫) ও উইল জ্যাকস (২৬) ৮.২ ওভারে ৭৭ রান যোগ করেছিলেন। কিন্তু দারুণ এই শুরু পরের ব্যাটাররা ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারেনি। ইনিংস লম্বা করতে পারেননি তারা। মিডল অর্ডারে একমাত্র হ্যারি ব্রুকের ব্যাট থেকে আসে ৭১ রান। অধিনায়ক বাটলার নিজেও আউট হয়েছেন ৩ রানে। স্যাম কারান (৩৮) ও ব্রাইডন কার্সের (৩১) কার্যকরী ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত ৩২৫ রানে থামে ইংল্যান্ড।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন রোমারিও শেফার্ড, গুদাকেশ মোটি ও ওশানে থমাস।









