সিলেটে স্পোটিং উইকেট থাকলেও মিরপুরে স্লো উইকেটে খেলতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। সেখানে স্পিনারদের আধিপত্যে ব্যাটারদের জন্য রান করা খুব কঠিন। বুধবার মিরপুরের উইকেটে প্রথম দিনেই পড়েছে ১৫ উইকেট। দুই ইনিংস মিলিয়ে রান হয়েছে ২২৭। স্বাভাবিক ভাবেই ব্যাটাররা স্ট্রাগল করেছেন। পরিস্থিতি কঠিন হলেও মেহেদী হাসান মিরাজ মনে করেন, কমিটমেন্ট থাকলে মিরপুরের স্লো উইকেটেও রান করা সম্ভব। তবে উইকেট অনুযায়ী ৩০-৪০ রান কম হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বুধবার আগে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১৭২ রানে অলআউট হয়েছে। শেষ সেশনে এক ঘণ্টা ব্যাটিং করে নিউজিল্যান্ড ৫৫ রানে হারিয়েছে ৫ উইকেট। ব্যাটিং ব্যর্থতার পর তাইজুল–মিরাজের বোলিংয়েই দিনটি বাংলাদেশের পক্ষে গেছে। দিন শেষে দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা মিরাজ বলেছেন,‘ব্যাটারদের জন্য একটু চ্যালেঞ্জিং। তবে কমিটমেন্ট থাকলে আরও ভালো করা যাবে। যখন বল নতুন থাকে প্রথম ৩০ ওভার অনেক চ্যালেঞ্জিং। বল পুরনো হলে ব্যাটারদের সুযোগ বেড়ে যায়। বল পুরনো হয়ে গেলে বোলারদের আর তেমন সুবিধা থাকে না। যেহেতু টেস্ট খেলা, প্রথম দিকে ব্যাটারদের দায়িত্ব নিতে হবে।’
উইকেটের চরিত্র অনুযায়ী মিরাজের দাবি বাংলাদেশ ৩০/৪০ রান কম করেছে। এ প্রসঙ্গে ডানহাতি এই অলরাউন্ডার বলেছেন, ‘উইকেট অনুযায়ী আমরা ৩০-৪০ রান কম করেছি। ২০০ রানের বেশি করলে মনে করতাম আদর্শ স্কোর। ওখানেই ভুল করেছি। ৩০-৪০ রান অনেক সময়ই মিস করে যাই। যখন ৪০০ রান প্রয়োজন আমরা করি ৩৫০। এখানে আমাদের উন্নতি করতে হবে। একদিনে সম্ভব নয়, দিনকে দিন চেষ্টা করতে হবে।’
মিরাজ ৩ উইকেট ও তাইজুল ২ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদণ্ডটা ভেঙে দিয়েছেন। ভালো জায়গাতে বোলিং করেই সাফল্য পেয়েছেন বলে মনে করেন মিরাজ, ‘ভালো জায়গায় যদি বল করি ওদের জন্য কঠিন হবে। আমরাও অনেক সংগ্রাম করেছি, রান করতে কষ্ট হয়েছে। এখানে আমরা খেলতে অভ্যস্ত, জানি কন্ডিশন কেমন হতে পারে। আত্মবিশ্বাস ছিল, বোলারদের ওপর ছিল আস্থা। ভালো জায়গায় যদি বল করতে পারি, মিরপুরের উইকেটে আমাদের এডভান্টেজ বেশি থাকবে, এটাই চিন্তা করেছিলাম।’
সিলেটে স্পোটিং উইকেটে খেলে এসে মিরপুরে স্লো উইকেটে খেলা কতটা আদর্শ- এমন প্রশ্নে মিরাজ বলেছেন, ‘সিলেটের উইকেটও স্লো ছিল, ব্যাটাররা সহায়তা পেয়েছে পরে, আবার স্পিনাররাও সহায়তা পেয়েছে। আমরা তো মিরপুরে খেলে অভ্যস্ত। বাইরে গেলে প্রত্যেক দলই হোম এডভান্টেজ নিতে চায়। আমরাও একটু হোম এডভান্টেজ নেওয়ার চেষ্টা করছি। যেহেতু টেস্ট ক্রিকেট, যেহেতু এগিয়ে আছি জিততে পারলে পয়েন্ট টেবিলে এগিয়ে থাকবো। এটা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের খেলা। দুটি ম্যাচই জিতলে দলের অবস্থান অনেক ওপরে চলে যাবে। যতটুকু এডভান্টেজ আছে অবশ্যই নেওয়ার চেষ্টা করছি।’
যেভাবে উইকেট পড়ছে ম্যাচ দ্বিতীয় দিনে শেষ হয়ে যেতে পারে। তৃতীয় দিনে খেলা যাওয়ার সম্ভব কিনা এমন প্রশ্নে মিরাজের উত্তর, ‘আমরা ২ দিনে জেতার চেষ্টা করছি না, প্রসেস ফলো করছি। টেস্টে অনেক কিছুই হতে পারে, অনেক দৃশ্যপট বাকি। কালকের দিনটা যেন নিজেদের করে নিতে পারি। দ্রুত খেলা শেষ করার চিন্তা করছি না। আমরা ওভার কনফিডেন্ট না, টেস্টে একসময় ওরা ওপরে, একসময় আমরা ওপরে থাকবো, এমন পরিস্থিতি আসে।’









