অন্য দলগুলো একজন করে লেগ স্পিনার নিয়ে তাদের বোলিং আক্রমণ সাজায়। কিন্তু বাংলাদেশে একজন লেগ স্পিনার না পাওয়ার আক্ষেপ সব সময়ের। ভালো মানের লেগ স্পিনার না থাকায় তাদের একাদশে সুযোগ হয় না। স্কোয়াডে থাকলেও খেলানো হয় না মূল ম্যাচে। অথচ সাদা বলের ক্রিকেটে ভালো করতে হলে একজন লেগ স্পিনারের বিকল্প নেই। প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বরাবরই এমনটা বলে আসছেন। নির্বাচকরাও সেই প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে উদ্যোগ নিচ্ছেন। এবার বিসিএলের ওয়ানডে আসরে চার লেগ স্পিনারের অন্তত এক ম্যাচ খেলা বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছিল। নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন মনে করেন, শুধু অনুশীলন করে লেগ স্পিনার তৈরি করা যাবে না। একজন লেগ স্পিনার হওয়ার জন্য নিয়মিত ম্যাচ খেলা জরুরি।
বিসিএলে সেন্ট্রাল জোনের হয়ে খেলেন ১৮ বছর বয়সী লেগ স্পিনার জেহাদুল হক জেহাদ। ২ ম্যাচ খেলে মাত্র ৫ ওভার বোলিং করতে পেরেছেন, তাতে তার শিকার দুটি উইকেট। ইস্ট জোনের হয়ে এক ম্যাচ খেলেছেন লেগ স্পিনার মেহেদী হাসান সোহাগ। নর্থ জোনের হয়ে ২ ম্যাচ খেলেছেন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। একই দলের হয়ে খেলেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ১৭ বছর বয়সী লেগ স্পিনার ওয়াসি সিদ্দিকী। বিসিএলের দুই ম্যাচ খেলে তার শিকার ২ উইকেট। এবারকার মতো জাতীয় লিগ, প্রিমিয়ার লিগ সবখানেই এমন চিত্র। লেগ স্পিনার হলেই যেন বসে থাকতে হবে, এটাই যেন নিয়তি।
শনিবার মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হাবিবুল বাশার সুমন লেগ স্পিনারদের উঠিয়ে আনা নিয়ে নিজেদের ভাবনার কথা জানান, ‘আমরা অনেক দিন ধরেই একজন লেগ স্পিনারের খোঁজ করছি। অন্যান্য টুর্নামেন্টে আমরা একাদশে ততখানি ভূমিকা রাখতে পারি না। তবে বিসিবির টুর্নামেন্টে আমাদের কিছুটা ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকে। আমি বিশ্বাস করি, শুধু অনুশীলন করে লেগ স্পিনার তৈরি করা খুব মুশকিল। লেগ স্পিনার তৈরি করতে হলে ম্যাচে খেলাতে হবে। সেজন্য আমরা একটা ম্যাচে (লেগ স্পিনার খেলানো) বাধ্যতামূলক করেছিলাম। বাকিগুলোতে কোচ যদি মনে করেন, তাদের (লেগ স্পিনার) পারফরম্যান্স ভালো, তাহলে খেলাতে পারেন।'
এইসব লেগ স্পিনারদের আরও সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করছেন এই নির্বাচক, ‘আমি কক্সবাজারে যে ম্যাচগুলো দেখেছি, সেখানে কিন্তু আমার কাছে ভালোই মনে হয়েছে। তাদের যদি খেলানোর সুযোগ দেই এবং যথাযথ ব্যবহার করি... লেগ স্পিনারদের কিন্তু বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ব্যবহার করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেক্ষেত্রে আমাদের কোচ যারা আছেন ও অধিনায়কত্ব যারা করেন, তাদের সাহায্য লাগবে। আমরা যতই চেষ্টা করি, তারা যদি সাহায্য না করেন, তাহলে লেগ স্পিনার উঠিয়ে আনা খুব কষ্ট হবে। যে কয়েকটি ম্যাচ তারা খেলেছে, আমি বলবো না তারা খুব সফল। তবে আমার মনে হয়েছে, তারা যদি নিয়মিত খেলার সুযোগ পায়, প্রভাব ফেলতে পারবে।'
সাবেক এই অধিনায়ক আরও বলেছেন, ‘দুই-একটা ইনিংসে কিন্তু আমি দেখেছি, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট এনে দেওয়া, একটু রান বাঁচিয়ে দেওয়া কিংবা প্রভাব রাখা। তারা যদি নিয়মিত সুযোগ পায়, তাদেরকে ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করতে দেখতে পারবো।'
সম্প্রতি নিউজিল্যান্ড সিরিজে রিশাদ হাসানকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রথম ম্যাচে ২৪ রানে ১ উইকেট পাওয়ার পর বৃষ্টি বিঘ্নিত দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৩ ওভার বল করে মাত্র ১০ রান দিয়েছিলেন। এই লেগ স্পিনার নিরাশ করেননি। নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা রিশাদের বোলিংয়ের প্রশংসা করেছেন। হাবিবুল বাশারও দারুণ খুশি রিশাদের পারফরম্যান্সে, ‘পরের ম্যাচে যদি রিশাদ ভালো নাও করে, তাও কিন্তু আমি হতাশ হবো না। আমার মনে হয়, সবাই যদি রিশাদের প্রতি এই ধৈর্যটা দেখাতে পারি, তাহলে কিন্তু সে ভালো করতে পারবে। গত ম্যাচে কিন্তু নিউজিল্যান্ড উড়ন্ত সূচনা করেছিল। সেখানে রিশাদ আবার ম্যাচটা ফিরিয়ে এনেছে। লেগ স্পিনারের সৌন্দর্য এটাই। কোনও কোনও দিন অনেক রান দেবে। আবার কোনও দিন ম্যাচ জিতিয়ে দেবে। লেগ স্পিনারদের ক্ষেত্রে এই ধৈর্যটা আমরা ঘরোয়া ক্রিকেটে দেখাতে পারি না। রিশাদও খুব যে খেলার সুযোগ পায়, তা কিন্তু নয়।’









