অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ছিল ২৪ রানে ৪ উইকেট, কেমার রোচ তখন হ্যাটট্রিকের সামনে দাঁড়িয়ে। আলজারি জোসেফ আগুন বোলিংয়ে নেন চার উইকেট।
অ্যাডাম গিলক্রিস্টের রূপ ধরে ৩৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি করলেন অ্যালেক্স ক্যারি। প্যাট কামিন্স পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবার ৫০ পার করলেন। উসমান খাজা ছিলেন তার মতো।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৬৪ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর প্রথম ইনিংসে করেছিল ৩১১ রান। অস্ট্রেলিয়া ৫ উইকেট হারায় ৫৪ রান করে, তারাই রাতের আলোর নীচে নতুন গোলাপি বলে বোলিং করতে ৯ উইকেটে ২৮৯ রানে ইনিংস ঘোষণা করে।
অস্ট্রেলিয়ার দুই সেরা ফিল্ডার ক্যামেরন গ্রিন ও স্টিভ স্মিথ দুটি সহজ ক্যাচ ফেলে দেন। তেজনারায়ণ চন্দরপল শেষ ওভারে উইকেট হারান অজিদের রিভিউয়ে।
এমনই নাটকীয়তায় কাটলো ব্রিসবেন টেস্টের প্রথম দুই দিন। শুক্রবারের খেলা সমাপ্ত করার আগে দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেট হাতে রেখে ৩৫ রানে এগিয়ে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষবার তারা প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লিড নিয়েছিল ২০১২ সালে। ওইবারও অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ঘোষণা করেছিল এবং জিতেছিল।
কামিন্সের সাহসী ইনিংষ ঘোষণার পুরস্কার পায় অজিরা। দিনের শেষ বলে জশ হ্যাজেলউডের কাছে উইকেট হারান তিনি কট বিহাইন্ড হয়ে। সফরকারীদের অবস্থা আরও খারাপ হতে পারতো। মিচেল স্টার্কের বলে ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট পঞ্চম ওভারে দ্বিতীয় স্লিপে স্মিথের হাত ফসকে জীবন পান। ১ উইকেটে ১৩ রানে দিন শেষ করে উইন্ডিজ।
৮ উইকেটে ২৬৬ রানে দিনের খেলা শুরু করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৬ রানে অপরাজিত থাকা কেভিন সিনক্লেয়ার অভিষেক টেস্ট রাঙান ৫০ রান করে। তার সঙ্গে আলজারি জোসেফের ৩২ রানে ভর করে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গোলাপি বলের টেস্টে যে কোনও দল হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করে ক্যারিবিয়ানরা।
এই সিনক্লেয়ারই তার প্রথম উইকেট পেয়েছেন খাজা ও কামিন্সের দাঁত কামড়ে পড়ে থাকা জুটি ভেঙে। ৮১ রান যোগ করেন দুজনে। ১৩১ বলে ১০ চারে ৭৫ রান করে সিনক্লেয়ারের শিকার হন খাজা।
তারপর নাথান লিয়নকে নিয়ে আরও ৪৭ রান যোগ করেন কামিন্স। লিয়নকে ফিরিয়ে চতু্র্থ উইকেট তুলে নেন জোসেফ। কামিন্স আর হ্যাজেলউডকে ক্রিজে নামতে দেননি। ৭৩ বলে ৮ চার ও ১ ছয়ে ৬৪ রানে অপরাজিত থেকে ইনিংস ঘোষণা করেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক।
তার আগে ৫৪ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর খাজা ও ক্যারির ৯৬ রানের জুটি অজিদের মান বাঁচায়। ক্যারি ৪৯ বলে ৯ চার ও ১ চয়ে ৬৫ রান করেছিলেন।
রোচ নেন তিন উইকেট। জোসেফ চার উইকেট নিয়ে উইন্ডিজের সেরা বোলার।









