বাংলাদেশ প্রিমিয়িার লিগ (বিপিএল) মাঝামাঝি পর্যায়ে চলে এসেছে। কিন্তু জাতীয় দলের ক্রিকেটার তো বটেই, স্থানীয়দের পারফরম্যান্স তলানিতে। বিশেষ করে যারা টি-টোয়েন্টি দলের ক্রিকেটার, তারা যেন হুট করেই পারফরম্যান্স করা ভুলে গেছেন। দুর্দান্ত ঢাকার কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনের কণ্ঠে তাই হতাশা।
বিপিএলে লিটন দাস-নাজমুল হোসেন শান্ত-মোস্তাফিজুর রহমানদের পারফরম্যান্স যেন মুদ্রার উল্টা পিঠ হয়ে আছে। লিটন ৫ ম্যাচে রান করেছেন ৩৭। শান্ত ৭ ম্যাচে ৭৩। প্রতি ম্যাচেই দুই ব্যাটার যেভাবে আউট হচ্ছেন, তার কোনও ব্যাখা নেই। তাওহীদ হৃদয়ের পারফরম্যান্সও একই। ৫ ম্যাচে করেছেন ১২৬ রান। তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটে এসেছে ৬ ম্যাচে ১৩২ রান। জাকির হাসান ৭ ম্যাচে ১৯৩ রান করেছেন। বোলারদের মধ্যে কেবল শরিফুল ইসলামই আলো ছড়াতে পেরেছেন। কিন্তু মোস্তাফিজ, তাসকিন, খালেদ আহমেদ, সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজরা বল হাতে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারছেন না। যেখানে নিজেদের চেনা কন্ডিশনে ব্যর্থ দেশি ক্রিকেটাররা, সেখানে বিদেশি ক্রিকেটাররা দেখাচ্ছেন কীভাবে রান করতে হয়, কীভাবে উইকেট নিতে হয়!
রবিবার মিরপুরে অনুশীলন করে ঢাকা। অনুশীলন শেষে দলের কোচ সুজন গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন। সেখানেই স্থানীয় ক্রিকেটারদের ফর্ম নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানান তিনি, ‘উদ্বেগ থাকা তো একটু স্বাভাবিক। রানে থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আবারও বলি ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট, ফর্ম ইজ টেম্পোরারি। ফর্মে অনেক সময় থাকা হয় না, কন্ডিশনটাকেও মাথায় রাখতে হবে, এটা তো ব্যাটারদের জন্য বোলারদের মতো সহজ না! আমরা যখন বিশ্বকাপ খেলবো, তখন ব্যাটারদের জন্য রান করা সহজ হবে, কারণ ওখানে ফ্ল্যাট উইকেট থাকবে।’
সুজন আরও বলেছেন, ‘আমি মনে করি এখান থেকে রানে ফেরাটা জরুরি। খেলা ঢাকায় আসছে, চমৎকার রোদ আছে, আশা করছি এখানে ভালো উইকেট হবে, ব্যাটাররা নিজেদের মেলে ধরবে। যারা রান করছে না আমার মনে হয় তারা রানে ফিরবে। বিশ্বকাপের আগে শ্রীলঙ্কা জিম্বাবুয়ে সিরিজ থাকবে, সেখানেও একটা সুযোগ থাকবে। আমি ওতটা চিন্তিতও না। আমার বিশ্বাস এই প্রত্যেকটা ছেলের মধ্যে সামর্থ্য আসলে অনেক ভালো।’
ধারণা করা হচ্ছিলো এবারের আসরে ভালো উইকেটে খেলা হবে। উইকেটে রান থাকবে। কিন্তু টুর্নামেন্টের মাঝপথে আসার পরও হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি ম্যাচে রান হয়েছে। যদিও উইকেট ভালো না হওয়ার পেছনে সুজন কিউরেটদের দোষ দিতে নারাজ, ‘আমি আসলে কিউরেটরদের দোষ দিতে চাই না। কন্ডিশন যেমন ছিল, উইকেট যেমন ছিল, তা আসলে ভালো উইকেট তৈরিও করছিল না। রাতের খেলায় এত কুয়াশা থাকলে তো একটু কঠিন, না? কুয়াশার মাঝে ক্রিকেট খেলাটা আসলে বেশ কঠিন। সিলেটে খেলার আগের দিন বৃষ্টি হয়েছে, কাভার দিয়ে উইকেট ঢাকতে হয়েছে। এরপর সারা দিন মেঘলা ছিল, খেলার আগেই কাভার সরেছে। এতক্ষণ কাভার থাকলে উইকেটে আর্দ্রতা থাকবেই। স্পিন করবে, বল থেমে আসবে এটা খুবই স্বাভাবিক।’
এই নিয়ে সুজন আরও বলেছেন, ‘আগে বিপিএলে খেলা হতো মার্চে, তখন সূর্য থাকতো, উইকেট শুকনো থাকতো। এখন যেহেতু শীতে খেলা হচ্ছে, আমাদের কন্ডিশনও এই সময় একটু কঠিন থাকে। এবার তো কুয়াশা বেশি ছিল, মাঝে ঠাণ্ডাও ছিল বেশি। যার ফলে যেভাবে আশা করা হচ্ছিল, তেমন উইকেট হয়নি। তবে গ্রাউন্ডস কমিটির চেষ্টা ছিল ভালো কিছু করার। উইকেট যে শক্ত নয় তা না, কিন্তু কন্ডিশনের কারণে এমন হয়েছে আসলে।’









