শেষ ওভারে ১৮ রানের সমীকরণ ছুঁয়ে আগের ম্যাচ জিতেছিল ফরচুন বরিশাল। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে লক্ষ্যটা খুব বড় ছিল না। তবে ১৪৬ রানের লক্ষ্যটাকে কঠিন বানিয়ে ফেলে তামিম ইকবালের দল। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ১২৯ রানে থামে বরিশালের ইনিংস। আর তাতেই ১৬ রানের দারুণ জয়ে পয়েন্ট টেবিলের তিন থেকে দুই নম্বরে উঠে যায় টুর্নামেন্টে দারুণ ক্রিকেট খেলা চট্টগ্রাম। এই ম্যাচে জয়ের নায়ক তাদের পেসার শহীদুল ইসলাম।
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে চট্টগ্রামকে অল্পতেই আটকে ফেলেছিল বরিশাল। ১৪৬ রানটা তামিম-শেহজাদ-সৌম্য-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহদের জন্য কঠিন হওয়ার কথা নয়। কিন্তু শুরুতেই দুই ওপেনার তামিম-শেহজাদ অস্বস্তি নিয়ে ব্যাটিং করতে থাকেন। তামিম ধীরে ধীরে অস্বস্তি কাটালেও শেহজাদ ১৭ বলে ১৬ রান করে সাজঘরে ফিরে যান। বরিশালের লম্বা ব্যাটিং লাইনআপে শেহজাদের উইকেট হারানো বড় সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু সৌম্য সরকার এবং ব্যাটিংয়ে উপরে আসা মেহেদী হাসান মিরাজ রানের খাতা খুলতে ব্যর্থ হলে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে যায় শিরোপা প্রত্যাশী দলটি।
তবুও তামিম একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন। তবে ৪৯ রানের মাথায় শহীদুলের শর্ট বল খেলতে গিয়ে হাত থেকে ব্যাট ছুটে যায়, বল চলে যায় সৈকত আলীর হাতে। তামিমের আউটের পরই মূলত ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে যায় বরিশাল। তবে আশা ছিল অভিজ্ঞ দুই ক্রিকেটার শোয়েব মালিক কিংবা মাহমুদউল্লাহ হয়তো বুড়ো হাড়ের ভেল্কি দেখাবেন! কিন্তু তারা কেউই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। তবে ৯ মাস পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরেই দারুণ অলরাউন্ড পারফরম্যান্স করেছেন সাইফউদ্দিন। বল হাতে ভালো করার পর ব্যাট হাতে খেলেছেন ১৮ বলে ৩০ রানের ইনিংস। ইনিংসের শেষ ওভারে আরও একটি ছক্কা হতে পারতো, কিন্তু স্পাইডার ক্যামেরায় লেগে বলটি আর সীমানা ছাড়া হতে পারেনি।
চট্টগ্রামের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফর বোলার শহীদুল। ১৩ রান খরচায় তার শিকার তিনটি উইকেট। আল আমিন হোসেন ৩১ রানে নেন দুটি উইকেট।
এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ পাওয়া চট্টগ্রামের ইনিংস থামে ১৪৫ রানে। দলটির স্থানীয় ক্রিকেটার কেউই তেমন একটা রান করতে পারেননি। সর্বোচ্চ ৫০ রান আসে টম ব্রুসের ব্যাট থেকে। ৪০ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজান এই ব্যাটার। জশ ব্রাউনের ব্যাট থেকে আসে ৩৮ রানের ইনিংস।
বরিশালের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ ইমরান। এছাড়া ২০২৩ সালের ১৩ মে সবশেষ প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলা সাইফউদ্দিন একটি উইকেট নিলেও দারুণ বোলিং করেছেন। ২৪ রান খরচ করেন তিনি। তার মতো আব্বাস আফ্রিদি ও তাইজুল ইসলাম একটি করে উইকেট শিকার করেছেন।









